আর্থিক সীমাবদ্ধতা কখনোই মেধা ও স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না—এমনই এক অনুপ্রেরণার নাম সুমন্ত ত্রিপুরা। খাগড়াছড়ির বাসিন্দা সুমন্ত বর্তমানে কক্সবাজারের শ্রী শ্রী ওঙ্কার যোগাশ্রমে থেকে লেখাপড়া করছে। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে জাতীয় পর্যায়ের মার্শাল আর্ট (উশু) প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সুনাম কুড়িয়েছে।
সুমন্ত ত্রিপুরার নিজ বাড়ি খাগড়াছড়িতে। সে কক্সবাজারের পৌর প্রিপ্যারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বর্তমানে শ্রী শ্রী ওঙ্কার যোগাশ্রম, কক্সবাজার শাখায় আশ্রমের শিক্ষার্থী হিসেবে বসবাস করছে। আশ্রম কর্তৃপক্ষ তার থাকা, খাওয়া, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়সহ সব ধরনের দায়িত্ব বহন করছে।
আশ্রম সূত্রে জানা যায়, সুমন্তর মতো আরও ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী কক্সবাজার শাখায় আশ্রমের তত্ত্বাবধানে থেকে পড়াশোনা করছে। তাদের সার্বিক ব্যয়ভারও আশ্রম থেকেই পরিচালিত হয়।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ‘নতুন কুঁড়ি’ আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মার্শাল আর্ট (উশু, বালক -৪৫ কেজি) বিভাগে অংশ নেয় সুমন্ত। প্রতিযোগিতায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থান অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। পরে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রৌপ্য পদক লাভ করে।
সুমন্ত ত্রিপুরার এই অর্জন শুধু তার বিদ্যালয় বা আশ্রমের নয়, বরং কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ির জন্যও গর্বের বিষয়। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তার এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সায়ন্তন ভট্টাচার্য : 
























