ঢাকা ০৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি গ্রেপ্তার টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর ৩ সদস্য আটক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হচ্ছেন মোজাফফর অতিরিক্ত প্রোটিন কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? সেই ‘কালো দুপুরের’ এক বছর আজ হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কমলো বিমান ভাড়া বিশ্বকাপ ফাইনালে সংঘর্ষ নিয়ে তদন্তে নেমেছে ফিফা ৬ মাস পর কারামুক্ত সাংবাদিক আরাফাত সানি লোহাগাড়ায় ইয়াবাসহ কক্সবাজারের ফারুক আটক বন্যায় ভেঙে গেছে সড়ক, চলাচলে ভোগান্তি বন্যায় ভেঙে গেছে সড়ক, চলাচলে ভোগান্তি বিশ্বকাপ ফুটবল: খেলার সৌন্দর্য নাকি বিষাক্ত উন্মাদনা লোহাগাড়ায় পৃথক চারটি অভিযানে ৬৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, দম্পতিসহ আটক ৬ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও পাহাড়ধস, তরুণীর মৃত্যু কুতুবদিয়ায় পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ আসামী ছিনতাই: ৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা,আটক ৬

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে পাঁচ দিনে রেলের ক্ষতি প্রায় ১ কোটি টাকা

চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় টানা পাঁচ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, শুধু টিকিটের মূল্য বাবদই যাত্রীদের প্রায় ৮৮ লাখ টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। এ সময় ১১ হাজারের বেশি টিকিট বাতিল করা হয়। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পরবর্তী কয়েক দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিও ব্যাহত হয়েছে।

ভারী বর্ষণে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় গত ৭ থেকে ১১ জুলাই চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে আগে থেকে বিক্রি হওয়া ১১ হাজার ৩৩৭টি টিকিটের মূল্য ফেরত দিতে হয় রেল কর্তৃপক্ষকে। এসব টিকিটের বিপরীতে যাত্রীদের দেওয়া হয়েছে ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৪ টাকা।

টিকিট ফেরতের তাৎক্ষণিক ক্ষতির পাশাপাশি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ওই সময়ে নতুন করে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরবর্তী দিনগুলোতেও এই রুটে প্রত্যাশিত সংখ্যক যাত্রী পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক যাত্রী কক্সবাজার ভ্রমণ বাতিল করায় পরোক্ষভাবে অন্যান্য দূরপাল্লার রুটেও যাত্রীসংখ্যা কমেছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, সাধারণত রেললাইনের ওপর চার ইঞ্চি পর্যন্ত পানি থাকলে ট্রেন চলাচল করা যায়। তবে এবার রেললাইন অন্তত দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।

তিনি জানান, টানা তিন দিন রেললাইন পানির নিচে থাকায় পানি নেমে যাওয়ার পরও নিরাপত্তার স্বার্থে লাইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে কিছুটা সময় লাগে। পরে ১২ জুলাই ‘অ্যাডভান্সড পাইলটিং’ বা সীমিত গতিতে এ রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই পাঁচ দিনের মধ্যে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন থাকায় পরিচালনাগত ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল)-এর মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন দুই ফুট পানিতে তলিয়ে গেলেও অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ সময় ঢাকা–কক্সবাজার রুটের দুই জোড়া ট্রেন শুধু ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করেছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে পাঁচ দিনে রেলের ক্ষতি প্রায় ১ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০১:১৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় টানা পাঁচ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, শুধু টিকিটের মূল্য বাবদই যাত্রীদের প্রায় ৮৮ লাখ টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। এ সময় ১১ হাজারের বেশি টিকিট বাতিল করা হয়। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পরবর্তী কয়েক দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিও ব্যাহত হয়েছে।

ভারী বর্ষণে রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় গত ৭ থেকে ১১ জুলাই চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে আগে থেকে বিক্রি হওয়া ১১ হাজার ৩৩৭টি টিকিটের মূল্য ফেরত দিতে হয় রেল কর্তৃপক্ষকে। এসব টিকিটের বিপরীতে যাত্রীদের দেওয়া হয়েছে ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৪ টাকা।

টিকিট ফেরতের তাৎক্ষণিক ক্ষতির পাশাপাশি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ওই সময়ে নতুন করে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরবর্তী দিনগুলোতেও এই রুটে প্রত্যাশিত সংখ্যক যাত্রী পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক যাত্রী কক্সবাজার ভ্রমণ বাতিল করায় পরোক্ষভাবে অন্যান্য দূরপাল্লার রুটেও যাত্রীসংখ্যা কমেছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, সাধারণত রেললাইনের ওপর চার ইঞ্চি পর্যন্ত পানি থাকলে ট্রেন চলাচল করা যায়। তবে এবার রেললাইন অন্তত দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।

তিনি জানান, টানা তিন দিন রেললাইন পানির নিচে থাকায় পানি নেমে যাওয়ার পরও নিরাপত্তার স্বার্থে লাইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে কিছুটা সময় লাগে। পরে ১২ জুলাই ‘অ্যাডভান্সড পাইলটিং’ বা সীমিত গতিতে এ রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই পাঁচ দিনের মধ্যে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন থাকায় পরিচালনাগত ক্ষতি কিছুটা কম হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল)-এর মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন দুই ফুট পানিতে তলিয়ে গেলেও অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ সময় ঢাকা–কক্সবাজার রুটের দুই জোড়া ট্রেন শুধু ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করেছে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক