বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে কক্সবাজারে পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত শহরের ঘুনগাছতলা এলাকায় কয়েকশ এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তারা **”সময় এক, দাবি এক, মিলনের পদত্যাগ”**সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল, বন্যা, ভারী বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে সব শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা, দুর্যোগের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রশ্নপত্রে ভুলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সানিয়া রহমান সোহানা বলেন, “বন্যা পরিস্থিতিতে অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। এমন অবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার। আমরা পরীক্ষা স্থগিতসহ আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন চাই।”
একই কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়া লাহিম মোনালিসা বলেন, “আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। দুর্যোগের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই আমাদের দাবি।”
সড়ক অবরোধের কারণে ঘুনগাছতলা থেকে বাজারঘাটা ও নিউ সার্কিট হাউজ সড়ক পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়লেও জরুরি রোগীবাহী যানবাহন চলাচলে সহযোগিতা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
পথচারী আব্দুর রহমান বলেন, “সড়ক বন্ধ থাকায় আমাকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। ভোগান্তি হলেও শিক্ষার্থীরা জরুরি রোগীবাহী গাড়িগুলো যেতে দিয়েছে। আশা করি তাদের দাবিগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।”
কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় ছিলেন। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে থাকায় জেলা প্রশাসক উপস্থিত থাকতে পারেননি।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মামনুন আহমেদ অনীক ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। পরে তাঁর আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি স্থগিত করলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মামনুন আহমেদ অনীক বলেন, “এটি জাতীয় পর্যায়ের নীতিগত বিষয়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
এদিকে আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মো: লোকমান: 






















