টানা ঝুম বৃষ্টির মধ্যে কক্সবাজার শহরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়ায় বাড়িতে অতিথিদের জন্য রাতের খাবার প্রস্তুত করছিলেন গৃহবধূ রোজিনা আক্তার। রান্নায় যেন কোনো ত্রুটি না থাকে, সে জন্য ব্যস্ত সময় পার করছিলেন তিনি। এরই মধ্যে তার স্বামী মুজিবুর রহমান প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে বাড়ি থেকে বের হন বাচ্চাদের নিয়ে।
রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। শব্দ শুনে অতিথিরা রান্নাঘরের দিকে ছুটে গিয়ে দেখেন, বাড়ির ওপরের পাহাড় ধসে পড়ে রান্নাঘরটি সম্পূর্ণ মাটিচাপা পড়েছে। পাহাড়ের মাটি ও বাঁশঝাড়ের নিচে চাপা পড়ে যান রোজিনা আক্তার।
পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর উদ্ধারকারীরা রোজিনা আক্তারকে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেন। তবে দীর্ঘসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।
তিনি বলেন, “দীর্ঘসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেননি। তাই তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”
তিনি পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণকে ভারী বর্ষণের সময় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মো: লোকমান 
























