ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০ পরিবারকে জরুরি সহায়তা দিচ্ছে যুব সংগঠন কক্সবাজারের বন্যার্তদের মাঝে জেলা ছাত্রদলের শুকনো খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ পাহাড়ধস : রান্না ঘরে প্রাণ গেলো কলাতলীর গৃহবধূ রোজিনার চকরিয়া-মাতামুহুরীতে খাবার আর বিশুদ্ধ পানির সংকট পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ইয়াবা লুট চক্রের রবিউল ইসলাম বাবুর নতুন কৌশল! তথ্য উদ্ধারকারী জিল্লুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা : স্বীকার করলেন ওসি চকরিয়ার কৈয়ারবিলে বন্যার পানিতে কিশোর নিখোঁজ পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিটির দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পেকুয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ বিতরণ বালুখালীতে মহাসড়কের উপর ‘অবৈধ’ পানের হাট, জনভোগান্তি সরকারি নির্দেশনা মানছেনা : কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে মা হাতি আহত কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ

পাহাড়ধস : রান্না ঘরে প্রাণ গেলো কলাতলীর গৃহবধূ রোজিনার

  • মো: লোকমান
  • আপডেট সময় : ০১:১০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • 192

টানা ঝুম বৃষ্টির মধ্যে কক্সবাজার শহরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়ায় বাড়িতে অতিথিদের জন্য রাতের খাবার প্রস্তুত করছিলেন গৃহবধূ রোজিনা আক্তার। রান্নায় যেন কোনো ত্রুটি না থাকে, সে জন্য ব্যস্ত সময় পার করছিলেন তিনি। এরই মধ্যে তার স্বামী মুজিবুর রহমান প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে বাড়ি থেকে বের হন বাচ্চাদের নিয়ে।

রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। শব্দ শুনে অতিথিরা রান্নাঘরের দিকে ছুটে গিয়ে দেখেন, বাড়ির ওপরের পাহাড় ধসে পড়ে রান্নাঘরটি সম্পূর্ণ মাটিচাপা পড়েছে। পাহাড়ের মাটি ও বাঁশঝাড়ের নিচে চাপা পড়ে যান রোজিনা আক্তার।

পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর উদ্ধারকারীরা রোজিনা আক্তারকে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেন। তবে দীর্ঘসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, “দীর্ঘসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেননি। তাই তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

তিনি পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণকে ভারী বর্ষণের সময় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০ পরিবারকে জরুরি সহায়তা দিচ্ছে যুব সংগঠন

পাহাড়ধস : রান্না ঘরে প্রাণ গেলো কলাতলীর গৃহবধূ রোজিনার

আপডেট সময় : ০১:১০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা ঝুম বৃষ্টির মধ্যে কক্সবাজার শহরের ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়ায় বাড়িতে অতিথিদের জন্য রাতের খাবার প্রস্তুত করছিলেন গৃহবধূ রোজিনা আক্তার। রান্নায় যেন কোনো ত্রুটি না থাকে, সে জন্য ব্যস্ত সময় পার করছিলেন তিনি। এরই মধ্যে তার স্বামী মুজিবুর রহমান প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে বাড়ি থেকে বের হন বাচ্চাদের নিয়ে।

রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। শব্দ শুনে অতিথিরা রান্নাঘরের দিকে ছুটে গিয়ে দেখেন, বাড়ির ওপরের পাহাড় ধসে পড়ে রান্নাঘরটি সম্পূর্ণ মাটিচাপা পড়েছে। পাহাড়ের মাটি ও বাঁশঝাড়ের নিচে চাপা পড়ে যান রোজিনা আক্তার।

পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। সংবাদ পেয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর উদ্ধারকারীরা রোজিনা আক্তারকে মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করেন। তবে দীর্ঘসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, “দীর্ঘসময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় তিনি শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারেননি। তাই তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

তিনি পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণকে ভারী বর্ষণের সময় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করার এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।