টানা ৬ দিন ধরে চলা ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, পানির নিচে মানবেতর জীবন পার করছেন অন্তত ৭ লক্ষাধিক মানুষ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি নদী- মাতামুহুরি,সাঙ্গু ও বাকখালীর পানী বিপৎসীমার উপরে বইছে।
চট্টগ্রাম জেলায় বাঁশখালী,সাতকানিয়া ও লোহাগড়ায় অন্তত ১৫ টি ইউনিয়নে প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে ব্যহত হচ্ছে জনজীবন।
মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে থাকায় কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে রয়েছে।
এছাড়াও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।
অন্যদিকে পেকুয়ার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। সড়ক, কৃষিজমি ও চিংড়ির ঘের ডুবে যাওয়ায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বাঁকখালী নদীর পানি ৫ দশমিক ৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬ দশমিক ৫৪ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপদসীমার চেয়ে বেশি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে কন্ট্রোল রুমের ০১৮৭২৬১৫১৩২ এ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক 


















