ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০ পরিবারকে জরুরি সহায়তা দিচ্ছে যুব সংগঠন কক্সবাজারের বন্যার্তদের মাঝে জেলা ছাত্রদলের শুকনো খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ পাহাড়ধস : রান্না ঘরে প্রাণ গেলো কলাতলীর গৃহবধূ রোজিনার চকরিয়া-মাতামুহুরীতে খাবার আর বিশুদ্ধ পানির সংকট পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু ইয়াবা লুট চক্রের রবিউল ইসলাম বাবুর নতুন কৌশল! তথ্য উদ্ধারকারী জিল্লুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা : স্বীকার করলেন ওসি চকরিয়ার কৈয়ারবিলে বন্যার পানিতে কিশোর নিখোঁজ পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিটির দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পেকুয়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে জেলা প্রশাসকের ত্রাণ বিতরণ বালুখালীতে মহাসড়কের উপর ‘অবৈধ’ পানের হাট, জনভোগান্তি সরকারি নির্দেশনা মানছেনা : কক্সবাজার পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে মা হাতি আহত কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩০ লাখ টাকা ও সাড়ে ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ

চকরিয়া-মাতামুহুরীতে খাবার আর বিশুদ্ধ পানির সংকট

চকরিয়া-মাতামুহুরীতে ৭ দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি থাকার পর বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পানি সরে গেলেও কাটেনি দুর্ভোগ।

বন্যায় সড়ক তলিয়ে ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।এখনো নৌকা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে অনেক এলাকায়।

চকরিয়া উপজেলার কাকারা,বরইতলি,সুরাজপুর মানিকপুর,হারবাং,কৈয়ারবিল এবং
মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, বদরখালী,কোনাখালী, ঢেমুশিয়া,ও বিএমচর ইউনিয়নের এখনো লক্ষাধিক মানুষও পানিবন্দি।

রান্না করতে না পারায় অনেক পরিবার পুরোপুরি শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এসব মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

শনিবার বিকালে উপজেলার কৈয়ারবিল খোজাখালীতে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হয়েছে সাজিদ দাশ(১২)নামে এক কিশোর। তিনি ওই এলাকার তুফান দাশের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন দেলোয়ার।

চকরিয়া ও মাতামুহুরীর ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানান, জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের পর আরও পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রসহ বানভাসি মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণের তালিকা করা হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা থেকে দুই উপজেলার জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল ও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ায় ৫০ টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা, মাতামুহুরীতে ৩০ টন চাল ও ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আ. মান্নান দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি হেঁটে ও নৌকায় করে মানুষের খোঁজখবর নেন এবং শুকনো খাবার, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন।

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনীতিবিদ ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টেকনাফে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮০ পরিবারকে জরুরি সহায়তা দিচ্ছে যুব সংগঠন

চকরিয়া-মাতামুহুরীতে খাবার আর বিশুদ্ধ পানির সংকট

আপডেট সময় : ১২:৩১:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

চকরিয়া-মাতামুহুরীতে ৭ দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি থাকার পর বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পানি সরে গেলেও কাটেনি দুর্ভোগ।

বন্যায় সড়ক তলিয়ে ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।এখনো নৌকা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে অনেক এলাকায়।

চকরিয়া উপজেলার কাকারা,বরইতলি,সুরাজপুর মানিকপুর,হারবাং,কৈয়ারবিল এবং
মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, বদরখালী,কোনাখালী, ঢেমুশিয়া,ও বিএমচর ইউনিয়নের এখনো লক্ষাধিক মানুষও পানিবন্দি।

রান্না করতে না পারায় অনেক পরিবার পুরোপুরি শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এসব মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

শনিবার বিকালে উপজেলার কৈয়ারবিল খোজাখালীতে বন্যার পানির তীব্র স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হয়েছে সাজিদ দাশ(১২)নামে এক কিশোর। তিনি ওই এলাকার তুফান দাশের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন দেলোয়ার।

চকরিয়া ও মাতামুহুরীর ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানান, জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের পর আরও পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রসহ বানভাসি মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণের তালিকা করা হচ্ছে।

এদিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা থেকে দুই উপজেলার জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল ও ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়ায় ৫০ টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা, মাতামুহুরীতে ৩০ টন চাল ও ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার সকালে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আ. মান্নান দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি হেঁটে ও নৌকায় করে মানুষের খোঁজখবর নেন এবং শুকনো খাবার, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করেন।

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনীতিবিদ ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করেছেন।