ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোক্তা-অধিকারের অভিযান: চকরিয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা টেকনাফে জাল কাগজপত্রে ভোটার হওয়ার আবেদন, যুবকের ১৫ দিনের কারাদণ্ড টেকনাফে এসআরবির অভিযান ৫ লক্ষ ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ একজন আদর্শ শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত? ছোলামুড়ি বিক্রির আড়ালে মাদক কারবার, ইয়াবাসহ আটক করলো পুলিশ কবি অমিত চৌধুরীর নাগরিক শোক সভা ৩১ অক্টোবর থানচিতে চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫ লামায় ১৩ ইটভাটাকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা টেকনাফে বিজিবি ও এসআরবি’র যৌথ অভিযান: ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১ কউক’র উদ্যোগে বিশ্ব বসতি দিবস উদযাপন- কক্সবাজারের মাস্টার প্ল্যান চুড়ান্ত হচ্ছে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জমিতে বন্দিশিবির ও সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে আরাকান আর্মি ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জরিমানা ব্যাংক-বিমা, সিগারেট ও মোবাইল ফোনসহ ১১ খাতে ভ্যাট রিটার্ন বাধ্যতামূলক মানবতাবিরোধী অপরাধ : ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

মহাসড়কে কোরবানির পশুর হাট, যানজটে ভোগান্তি

সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশজুড়ে বসেছে কোরবানির পশুর হাট। ফলে ঈদকে সামনে রেখে বাড়তে থাকা যানবাহনের চাপে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে ব্যস্ততম কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছেন যাত্রী ও চালকেরা।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া বাজার এলাকায় দেখা যায়, সড়কের দুই পাশজুড়ে গড়ে উঠেছে বিশাল কোরবানির পশুর হাট। কোথাও ট্রাকভর্তি গরু নামানো হচ্ছে, আবার কোথাও বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে শত শত গরু। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুধু পশু ও মানুষের ভিড়। এর মধ্য দিয়েই ধীরগতিতে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলমের ভাষ্য, ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রতিদিনই বাড়ছে পশুর সংখ্যা ও ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি। এতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মহাসড়কে লেগে থাকছে যানজট। যে পথ অতিক্রম করতে স্বাভাবিক সময়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট লাগার কথা, সেখানে সময় লাগছে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টারও বেশি।

শুধু রামুর খরুলিয়া নয়, কলঘর, ঈদগাঁওসহ মহাসড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গড়ে উঠেছে পশুর হাট। ফলে কক্সবাজারমুখী পর্যটকবাহী যানবাহন, দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

সৌদিয়া পরিবহনের যাত্রী আজগর আলী বলেছেন, “মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পশুর বাজার বসানোর কারণে যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আগে যেখানে চট্টগ্রাম থেকে তিস থেকে চার ঘণ্টায় পৌঁছানো যেত, এখন সেখানে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।”

হানিফ পরিবহনের আরেক যাত্রী মো. হিরু বলেন, “সরকার বারবার নির্দেশ দিয়েছে মহাসড়কে যেন পশুর হাট না বসে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।”

হানিফ পরিবহনের চালক মো. এমরান বলেছেন, “যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি গরু ও মানুষের ভিড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ।”

এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং পশুর হাটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে র‌্যাব-১৫। সোমবার কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজার পশুর হাট পরিদর্শন করেন কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেছেন, “প্রতিবছরই কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কসংলগ্ন পশুর হাট বসলেও এটি আদর্শ পরিস্থিতি নয়।”

তিনি জানান, পশুর হাটের স্থান নির্ধারণ ও ইজারা দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের আওতাধীন। তবে যেখানেই হাট বসুক না কেন, সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব কাজ করে যাচ্ছে।

র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক বলেন, “কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অধিকাংশ পশুর হাট মহাসড়ককেন্দ্রিক হওয়ায় যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মহাসড়ক থেকে দূরে খোলা মাঠ বা নির্ধারিত স্থানে পশুর হাট স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

তিনি আরও জানান, পশুর হাটে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান টহল ও সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, মোবাইল কন্ট্রোল পয়েন্ট, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পারির তৎপরতা প্রতিরোধে বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি পকেটমার ও হাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কক্সবাজার জেলায় কোরবানির পশুর হাট বসেছে মোট ৯৮টি। এর মধ্যে ৪৮টি স্থায়ী এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে বসেছে আরও ৫০টি হাট।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভোক্তা-অধিকারের অভিযান: চকরিয়ায় ৬ প্রতিষ্ঠানকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা

মহাসড়কে কোরবানির পশুর হাট, যানজটে ভোগান্তি

আপডেট সময় : ০৮:০০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশজুড়ে বসেছে কোরবানির পশুর হাট। ফলে ঈদকে সামনে রেখে বাড়তে থাকা যানবাহনের চাপে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে ব্যস্ততম কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছেন যাত্রী ও চালকেরা।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া বাজার এলাকায় দেখা যায়, সড়কের দুই পাশজুড়ে গড়ে উঠেছে বিশাল কোরবানির পশুর হাট। কোথাও ট্রাকভর্তি গরু নামানো হচ্ছে, আবার কোথাও বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে শত শত গরু। কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুধু পশু ও মানুষের ভিড়। এর মধ্য দিয়েই ধীরগতিতে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত যানবাহন।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আলমের ভাষ্য, ঈদুল আজহা সামনে রেখে প্রতিদিনই বাড়ছে পশুর সংখ্যা ও ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি। এতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মহাসড়কে লেগে থাকছে যানজট। যে পথ অতিক্রম করতে স্বাভাবিক সময়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট লাগার কথা, সেখানে সময় লাগছে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টারও বেশি।

শুধু রামুর খরুলিয়া নয়, কলঘর, ঈদগাঁওসহ মহাসড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গড়ে উঠেছে পশুর হাট। ফলে কক্সবাজারমুখী পর্যটকবাহী যানবাহন, দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

সৌদিয়া পরিবহনের যাত্রী আজগর আলী বলেছেন, “মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পশুর বাজার বসানোর কারণে যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আগে যেখানে চট্টগ্রাম থেকে তিস থেকে চার ঘণ্টায় পৌঁছানো যেত, এখন সেখানে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।”

হানিফ পরিবহনের আরেক যাত্রী মো. হিরু বলেন, “সরকার বারবার নির্দেশ দিয়েছে মহাসড়কে যেন পশুর হাট না বসে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।”

হানিফ পরিবহনের চালক মো. এমরান বলেছেন, “যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি গরু ও মানুষের ভিড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ।”

এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখা এবং পশুর হাটগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে র‌্যাব-১৫। সোমবার কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজার পশুর হাট পরিদর্শন করেন কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেছেন, “প্রতিবছরই কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কসংলগ্ন পশুর হাট বসলেও এটি আদর্শ পরিস্থিতি নয়।”

তিনি জানান, পশুর হাটের স্থান নির্ধারণ ও ইজারা দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের আওতাধীন। তবে যেখানেই হাট বসুক না কেন, সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব কাজ করে যাচ্ছে।

র‌্যাব-১৫ অধিনায়ক বলেন, “কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অধিকাংশ পশুর হাট মহাসড়ককেন্দ্রিক হওয়ায় যানজট ও জনভোগান্তি বাড়ছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় মহাসড়ক থেকে দূরে খোলা মাঠ বা নির্ধারিত স্থানে পশুর হাট স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

তিনি আরও জানান, পশুর হাটে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান টহল ও সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, মোবাইল কন্ট্রোল পয়েন্ট, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পারির তৎপরতা প্রতিরোধে বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি পকেটমার ও হাটকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কক্সবাজার জেলায় কোরবানির পশুর হাট বসেছে মোট ৯৮টি। এর মধ্যে ৪৮টি স্থায়ী এবং ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে বসেছে আরও ৫০টি হাট।