ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বান্দরবানে তাবলিগি মারকাজ মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করলেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, এমপি কক্সবাজার সদর থানার বিশেষ অভিযান: গ্রেফতার ১৮ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অস্ত্র-বিস্ফোরক মজুদের অভিযোগ, অভিযানের আবেদন কুতুবদিয়ায় অগ্নিকাণ্ড : ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬ বসতবাড়ি সী-প্রিন্সেস হোটেলে আ গু ন, অল্পের জন্য ৩’শ পর্যটক পেলেন রক্ষা তিন দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত বাহারছড়ার কৃষক রফিক টেকনাফে আগুনে পুড়ল আট কক্ষের ভাড়া বাসা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা নজরুল বর্ষ জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব ও বাংলাদেশ বেতারে তালিকাভুক্ত হওয়া শিল্পীদের সংবর্ধনা পেকুয়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু সম্মান ক্ষুন্ন করতে ও পাওনা টাকা না দিতে অপপ্রচার চালাচ্ছে:ফখরুল ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস চালু ৩৫ লিটার চোলাই মদসহ আটক,ঈদগাঁও থানার হেফাজত থেকে পালাল কিশোর! উখিয়ায় ৫০ হাজার ইয়াবাসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার, পালালেন আরও দুজন

বাবরি মসজিদ বানাতে যাওয়া সেই হুমায়ুন কবির জিতলেন দুই আসনে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নওদা ও রেজিনগর—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসনে সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নজিরবিহীন জয় পেয়েছেন বিতর্কিত কিন্তু জনপ্রিয় নেতা হুমায়ুন কবীর।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর যিনি একপ্রকার একাই লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই তিনিই আজ রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

নিজস্ব দল “আম জনতা উন্নয়ন পার্টি” গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হুমায়ুন কবীর যেন প্রমাণ করে দিলেন—রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।

প্রতিকূলতা, বিতর্ক আর রাজনৈতিক একঘরে হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন, তা অনেকের কাছেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, রেজিনগর আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বাপন ঘোষ পান ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আতাউর রহমান পান ৪১ হাজার ৭১৮ ভোট। অন্যদিকে নওদা আসনেও একই চিত্র—হুমায়ুন কবীর ৮৬ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে বিজেপির রানা মণ্ডল পান ৫৮ হাজার ৫২০ ভোট এবং তৃণমূলের সাহিনা মমতাজ খান পান ৫১ হাজার ৮৬৭ ভোট।

এই জয়ের পেছনে রয়েছে নানা নাটকীয়তা ও বিতর্ক। নির্বাচনের আগে বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেন হুমায়ুন কবীর। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর একাই পথচলা শুরু করেন তিনি।

এরপরও থেমে থাকেনি বিতর্ক। একটি ভিডিও ঘিরে অভিযোগ ওঠে—তিনি নাকি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর তার সঙ্গে থাকা অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর জোটও ভেঙে যায়। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তখন মনে করেছিলেন, এসব ঘটনার প্রভাব তার ভোটে পড়বে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সব সমীকরণ উল্টে দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটেই তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের বিজয়ের গল্প। তার এই জয় শুধু দুটি আসনের ফল নয়—এটি একটি বার্তা, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

এদিকে নির্বাচনী জয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনাও সামনে এনেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর বাবরি মসজিদের আদলে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৮৬ কোটি টাকা।

২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে কাজ বন্ধ থাকলেও খুব শিগগিরই তা আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এই প্রকল্পকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ নির্মাণস্থল দেখতে আসছেন। কেউ দেখছেন ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবে, কেউবা দেখছেন রাজনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী ফল নয়—এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। বিশেষ করে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, বাসে আগুন, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ

বাবরি মসজিদ বানাতে যাওয়া সেই হুমায়ুন কবির জিতলেন দুই আসনে

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নওদা ও রেজিনগর—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসনে সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নজিরবিহীন জয় পেয়েছেন বিতর্কিত কিন্তু জনপ্রিয় নেতা হুমায়ুন কবীর।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর যিনি একপ্রকার একাই লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই তিনিই আজ রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

নিজস্ব দল “আম জনতা উন্নয়ন পার্টি” গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হুমায়ুন কবীর যেন প্রমাণ করে দিলেন—রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।

প্রতিকূলতা, বিতর্ক আর রাজনৈতিক একঘরে হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন, তা অনেকের কাছেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, রেজিনগর আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বাপন ঘোষ পান ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আতাউর রহমান পান ৪১ হাজার ৭১৮ ভোট। অন্যদিকে নওদা আসনেও একই চিত্র—হুমায়ুন কবীর ৮৬ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে বিজেপির রানা মণ্ডল পান ৫৮ হাজার ৫২০ ভোট এবং তৃণমূলের সাহিনা মমতাজ খান পান ৫১ হাজার ৮৬৭ ভোট।

এই জয়ের পেছনে রয়েছে নানা নাটকীয়তা ও বিতর্ক। নির্বাচনের আগে বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেন হুমায়ুন কবীর। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর একাই পথচলা শুরু করেন তিনি।

এরপরও থেমে থাকেনি বিতর্ক। একটি ভিডিও ঘিরে অভিযোগ ওঠে—তিনি নাকি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর তার সঙ্গে থাকা অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর জোটও ভেঙে যায়। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তখন মনে করেছিলেন, এসব ঘটনার প্রভাব তার ভোটে পড়বে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সব সমীকরণ উল্টে দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটেই তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের বিজয়ের গল্প। তার এই জয় শুধু দুটি আসনের ফল নয়—এটি একটি বার্তা, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

এদিকে নির্বাচনী জয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনাও সামনে এনেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর বাবরি মসজিদের আদলে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৮৬ কোটি টাকা।

২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে কাজ বন্ধ থাকলেও খুব শিগগিরই তা আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এই প্রকল্পকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ নির্মাণস্থল দেখতে আসছেন। কেউ দেখছেন ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবে, কেউবা দেখছেন রাজনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী ফল নয়—এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। বিশেষ করে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা।