ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কক্সবাজারে বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের প্রতিরোধ মিছিল এসএসসির ফল প্রকাশ ২০ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী টেকনাফে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ৪ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেবে আদালত: তথ্য উপদেষ্টা অস্ট্রিয়াকে হারানোর পর বড় দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা রাজপথে রাজনৈতিক দল, সতর্কবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মারাকানা’র বেদনা থেকে ডালাসের মহাকাব্য: পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ফ্যানবেজ আর্জেন্টিনা পেকুয়ায় চলছে বন উজাড় করে গাছ পাচারের মহোৎসব অবশেষে এলেন মা, গ্যালারিতে বসে দেখলেন ছেলে ভোজিনহার ম্যাচ টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের আগামীর নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ: ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সংসদে কক্সবাজারের উন্নয়নে এমপি কাজলের ৮ দাবি দশ দ্বীপের দেশ, এক বুক সাহস: বিশ্বকাপে কাবো ভার্দের রূপকথা রামুর আলোচিত দুই শিশু হত্যা মামলার যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার চলতি বছরে বি‌টি‌ভির আয় ৮‌ কো‌টি টাকা, ব্যয় ২৫৪ কো‌টি ১৯৮৬ সালের আজকের দিনেই ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা

বাবরি মসজিদ বানাতে যাওয়া সেই হুমায়ুন কবির জিতলেন দুই আসনে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নওদা ও রেজিনগর—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসনে সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নজিরবিহীন জয় পেয়েছেন বিতর্কিত কিন্তু জনপ্রিয় নেতা হুমায়ুন কবীর।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর যিনি একপ্রকার একাই লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই তিনিই আজ রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

নিজস্ব দল “আম জনতা উন্নয়ন পার্টি” গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হুমায়ুন কবীর যেন প্রমাণ করে দিলেন—রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।

প্রতিকূলতা, বিতর্ক আর রাজনৈতিক একঘরে হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন, তা অনেকের কাছেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, রেজিনগর আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বাপন ঘোষ পান ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আতাউর রহমান পান ৪১ হাজার ৭১৮ ভোট। অন্যদিকে নওদা আসনেও একই চিত্র—হুমায়ুন কবীর ৮৬ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে বিজেপির রানা মণ্ডল পান ৫৮ হাজার ৫২০ ভোট এবং তৃণমূলের সাহিনা মমতাজ খান পান ৫১ হাজার ৮৬৭ ভোট।

এই জয়ের পেছনে রয়েছে নানা নাটকীয়তা ও বিতর্ক। নির্বাচনের আগে বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেন হুমায়ুন কবীর। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর একাই পথচলা শুরু করেন তিনি।

এরপরও থেমে থাকেনি বিতর্ক। একটি ভিডিও ঘিরে অভিযোগ ওঠে—তিনি নাকি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর তার সঙ্গে থাকা অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর জোটও ভেঙে যায়। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তখন মনে করেছিলেন, এসব ঘটনার প্রভাব তার ভোটে পড়বে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সব সমীকরণ উল্টে দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটেই তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের বিজয়ের গল্প। তার এই জয় শুধু দুটি আসনের ফল নয়—এটি একটি বার্তা, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

এদিকে নির্বাচনী জয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনাও সামনে এনেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর বাবরি মসজিদের আদলে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৮৬ কোটি টাকা।

২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে কাজ বন্ধ থাকলেও খুব শিগগিরই তা আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এই প্রকল্পকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ নির্মাণস্থল দেখতে আসছেন। কেউ দেখছেন ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবে, কেউবা দেখছেন রাজনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী ফল নয়—এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। বিশেষ করে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আ’লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কক্সবাজারে বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের প্রতিরোধ মিছিল

বাবরি মসজিদ বানাতে যাওয়া সেই হুমায়ুন কবির জিতলেন দুই আসনে

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নওদা ও রেজিনগর—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসনে সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নজিরবিহীন জয় পেয়েছেন বিতর্কিত কিন্তু জনপ্রিয় নেতা হুমায়ুন কবীর।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর যিনি একপ্রকার একাই লড়াই শুরু করেছিলেন, সেই তিনিই আজ রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

নিজস্ব দল “আম জনতা উন্নয়ন পার্টি” গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া হুমায়ুন কবীর যেন প্রমাণ করে দিলেন—রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই।

প্রতিকূলতা, বিতর্ক আর রাজনৈতিক একঘরে হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন, তা অনেকের কাছেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, রেজিনগর আসনে তিনি পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির বাপন ঘোষ পান ৬৪ হাজার ৬৬০ ভোট। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আতাউর রহমান পান ৪১ হাজার ৭১৮ ভোট। অন্যদিকে নওদা আসনেও একই চিত্র—হুমায়ুন কবীর ৮৬ হাজার ৪৬৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে বিজেপির রানা মণ্ডল পান ৫৮ হাজার ৫২০ ভোট এবং তৃণমূলের সাহিনা মমতাজ খান পান ৫১ হাজার ৮৬৭ ভোট।

এই জয়ের পেছনে রয়েছে নানা নাটকীয়তা ও বিতর্ক। নির্বাচনের আগে বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেন হুমায়ুন কবীর। সেই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় ওঠে, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর একাই পথচলা শুরু করেন তিনি।

এরপরও থেমে থাকেনি বিতর্ক। একটি ভিডিও ঘিরে অভিযোগ ওঠে—তিনি নাকি বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং অর্থের বিনিময়ে তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পর তার সঙ্গে থাকা অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর জোটও ভেঙে যায়। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তখন মনে করেছিলেন, এসব ঘটনার প্রভাব তার ভোটে পড়বে।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সব সমীকরণ উল্টে দিয়ে সাধারণ মানুষের ভোটেই তিনি গড়ে তুলেছেন নিজের বিজয়ের গল্প। তার এই জয় শুধু দুটি আসনের ফল নয়—এটি একটি বার্তা, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রচলিত রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

এদিকে নির্বাচনী জয়ের পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনাও সামনে এনেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রায় ৮ একর জমির ওপর বাবরি মসজিদের আদলে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে, যার সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৮৬ কোটি টাকা।

২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে কাজ বন্ধ থাকলেও খুব শিগগিরই তা আবার শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এই প্রকল্পকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ নির্মাণস্থল দেখতে আসছেন। কেউ দেখছেন ধর্মীয় অনুভূতির প্রতিফলন হিসেবে, কেউবা দেখছেন রাজনৈতিক বার্তার অংশ হিসেবে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের এই জয় কেবল একটি নির্বাচনী ফল নয়—এটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সম্ভাব্য নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। বিশেষ করে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা।