ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১০০টিরও বেশি আসন লুট করে নিয়েছে বিজেপি: মমতা কক্সবাজার ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে বরণে নেতাকর্মীদের ঢল সংরক্ষিত বনে ১০ ফুট উঁচু দেয়াল নির্মাণ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য টেকনাফে গণধর্ষণ ও অপহরণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার মাটি খুঁড়ে ফের বিপুল মাদক-অস্ত্র পেলো নৌবাহিনী মাছের ব্যাগে ৩০ হাজার ইয়াবা, যুবক আটক উখিয়ায় হত্যা, অপহরণসহ একাধিক মামলার আসামী গ্রেফতার কক্সবাজারে শুরু হয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা পাচারকারীর ব্যাগে ৫০ হাজার ইয়াবা কক্সবাজারে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু, মোট ১৩ শিশুর মৃত্যু  নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন এমপি সাচিং প্রু জেরি জেলা ছাত্রদলের কমিটি: নেতৃত্বের পরিবর্তন নাকি অমীমাংসিত সমিকরণ! কচ্ছপিয়ায় ৫০ হাজার ইয়াবা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে যুবক , বিজিবির ব্যর্থ অভিযান জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি: নতুন নেতৃত্বের ঐক্যের বার্তার বিপরীতে ক্ষোভ–বঞ্চনার প্রকাশ.. কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে লবণ চাষিরা, বন্ধ উৎপাদন, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

১০০টিরও বেশি আসন লুট করে নিয়েছে বিজেপি: মমতা

 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন এবং গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। ১৫ বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ ভেঙে বিজেপি যখন একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে চলেছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ফলাফলকে সরাসরি ‘লুট’ ও ‘অনৈতিক বিজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সোমবার (৪ মে) কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় রাজ্যের ১০০টিরও বেশি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির কমিশন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং মনোজ আগরওয়ালের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি কোনো নৈতিক জয় নয়, বরং কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগসাজশে নির্বাচন কমিশন যে কাণ্ড ঘটিয়েছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও লুণ্ঠনমূলক। তবে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস এই বিপর্যয়ের পরও ভবিষ্যতে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, বিজেপির এই অভূতপূর্ব জয়কে রাজ্যের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে পদ্ম শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সাফল্যকে ‘জনগণের শক্তির বিজয়’ এবং ‘সুশাসনের রাজনীতির জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের এই বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপির একক সরকার গঠন নিশ্চিত হয়েছে।

ভোট গণনার চলাকালীন সময়েও তৃণমূল কংগ্রেস বারবার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির অভিযোগ, গণনা প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে এবং ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, কুলপি, রায়দিঘি, পাথরপ্রতিমা, বাসন্তী, বর্ধমান উত্তর এবং সীতাইয়ের মতো কেন্দ্রগুলোতে জয় স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও শংসাপত্র প্রদানে গড়িমসি করা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে গণনা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন অন্যায়ভাবে কাজ করছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

১০০টিরও বেশি আসন লুট করে নিয়েছে বিজেপি: মমতা

আপডেট সময় : ১০:৪৯:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন এবং গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। ১৫ বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ ভেঙে বিজেপি যখন একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে চলেছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ফলাফলকে সরাসরি ‘লুট’ ও ‘অনৈতিক বিজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সোমবার (৪ মে) কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় রাজ্যের ১০০টিরও বেশি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘বিজেপির কমিশন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং মনোজ আগরওয়ালের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি কোনো নৈতিক জয় নয়, বরং কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগসাজশে নির্বাচন কমিশন যে কাণ্ড ঘটিয়েছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও লুণ্ঠনমূলক। তবে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস এই বিপর্যয়ের পরও ভবিষ্যতে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে।

অন্যদিকে, বিজেপির এই অভূতপূর্ব জয়কে রাজ্যের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে পদ্ম শিবির। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সাফল্যকে ‘জনগণের শক্তির বিজয়’ এবং ‘সুশাসনের রাজনীতির জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের এই বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপির একক সরকার গঠন নিশ্চিত হয়েছে।

ভোট গণনার চলাকালীন সময়েও তৃণমূল কংগ্রেস বারবার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলটির অভিযোগ, গণনা প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা হচ্ছে এবং ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, কুলপি, রায়দিঘি, পাথরপ্রতিমা, বাসন্তী, বর্ধমান উত্তর এবং সীতাইয়ের মতো কেন্দ্রগুলোতে জয় স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও শংসাপত্র প্রদানে গড়িমসি করা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণনাকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে গণনা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন অন্যায়ভাবে কাজ করছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।