ঢাকা ০৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সার ছি’নতাইয়ে আলোচিত সেই কামাল মেম্বারের ডাম্পারের ধাক্কায় প্রাণ হারালো দুই বন্ধু ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী আবাসস্থল ও করিডর হারিয়ে সংকটে বন্য হাতি রোনালদো এখন আর্জেন্টিনার জামাই!  কিছুক্ষণ পর পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দিনেই নামবে রাতের অন্ধকার  আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা : ইতিহাস, বাস্তবতা ও করণীয় লোহাগাড়া থেকে নাহিমা আক্তার লিলি নামের এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত উখিয়ায় পুলিশের প্রচেষ্টায় নিখোঁজের এক মাস পর অ’প’হৃ’ত দুই শিশু উদ্ধার টেকনাফ সদর বিভক্তি: ‘উপকূলীয় ইউনিয়ন’ নাম প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ কক্সবাজারে এসএসসির চেয়ে দাখিল-ভোকেশনালে পাসের হার বেশি কক্সবাজারে ডাবল মার্ডারের আসামি সাদ্দাম গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত উদ্বোধনের অপেক্ষায় পেকুয়ার নোয়াখালী সেতু, স্বস্তিতে কয়েক হাজার মানুষ রামুতে মায়ের হাতে ২ মাসের শিশু জবাই : মা আটক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে এআরও নেতা হালিম নিহত

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক এআরও নেতা নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ক্যাম্প-৭ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত এই হামলার জন্য প্রাথমিকভাবে আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা) সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮/ইস্ট (বালুখালী) থেকে কয়েকজন মোটরসাইকেলে নিজ নিজ শেডে ফিরছিলেন। পথে ক্যাম্প-৮/ইস্টের এ/৩২ পয়েন্ট ও ক্যাম্প-৭ এর মধ্যবর্তী তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন কেফায়েত উল্লাহ হালিম। যিনি ক্যাম্পভিত্তিক একটি সশস্ত্র গ্রুপ এআরও এর নেতা হিসেবে পরিচিত। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও নুর মোহাম্মদ (৩২)। তাদের প্রথমে স্থানীয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের একটি মোবাইল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছে, হামলার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ শরণার্থীদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারাবাহিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলেও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সার ছি’নতাইয়ে আলোচিত সেই কামাল মেম্বারের ডাম্পারের ধাক্কায় প্রাণ হারালো দুই বন্ধু

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে এআরও নেতা হালিম নিহত

আপডেট সময় : ০৯:০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক এআরও নেতা নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ক্যাম্প-৭ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত এই হামলার জন্য প্রাথমিকভাবে আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (আরসা) সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮/ইস্ট (বালুখালী) থেকে কয়েকজন মোটরসাইকেলে নিজ নিজ শেডে ফিরছিলেন। পথে ক্যাম্প-৮/ইস্টের এ/৩২ পয়েন্ট ও ক্যাম্প-৭ এর মধ্যবর্তী তরজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন কেফায়েত উল্লাহ হালিম। যিনি ক্যাম্পভিত্তিক একটি সশস্ত্র গ্রুপ এআরও এর নেতা হিসেবে পরিচিত। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) ও নুর মোহাম্মদ (৩২)। তাদের প্রথমে স্থানীয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে নৌকারমাঠ পুলিশ ক্যাম্পের একটি মোবাইল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানিয়েছে, হামলার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ধরনের সশস্ত্র হামলার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ শরণার্থীদের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ধারাবাহিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই হত্যাকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হলেও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।