ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিয়ানমারের বিবৃতির প্রতিবাদে ইউসিআর -“রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়, তারা রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী” শহরের লাইট হাউজ এলাকায় রিসোর্ট দখলের ঘটনায় মামলা : আটক ১ লোহাগাড়ায় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া থেকে বেরিয়ে এলো জালনোটের কারবার : জালনোটসহ ‘কারবারি’ শাহ আলম আটক পর্যটন শহর কক্সবাজারের দোকান-শপিংমল রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা রাখার প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের পেকুয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালী ও সমাবেশ জুন-জুলাইয়ের বদলে এপ্রিল-মার্চে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত বিলুপ্ত হচ্ছে র‍্যাব, পুলিশের অধীনে হবে এসআরবি মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য দিন পরিচয় গোপন রাখা হবে প্লট দখল নিয়ে প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ছফওয়ানের বিবৃতি, আইনি ব্যবস্থার হুশিয়ারি লোহাগাড়ায় ভোররাতে ডাকাতি, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৮ লাখ টাকার স্বর্ণ-টাকা ও মালামাল লুট গর্জনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন মুহিববুল্লাহ সৌদিয়া হোটেল থেকে হানিফ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার ‘সৌরবিদ্যুতে চার্জ না দিলে মিলবে না ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন’ তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত : দীনেশ ত্রিবেদী শেখ হাসিনা কোন স্ট্যাটাসে ভারতে, জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর
মে দিবস:

কক্সবাজারের লবণ চাষী, জেলে ও পর্যটন শ্রমিকদের জন্য আশার আলো, নাকি অনিশ্চয়তার প্রতিধ্বনি?

আন্তর্জাতিক মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক। কিন্তু কক্সবাজারের বাস্তবতায় এই দিবস কতটা পরিবর্তন আনছে; এই প্রশ্ন আজও প্রাসঙ্গিক। দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে কক্সবাজারে লবণ চাষ, মৎস্য আহরণ এবং পর্যটন, এই তিনটি খাতই শ্রমনির্ভর। অথচ এই শ্রমিকদের জীবনে মে দিবসের প্রতিফলন কতটা বাস্তব, তা গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।

কক্সবাজার বাংলাদেশের মোট লবণ উৎপাদনের প্রায় ৮৭ শতাংশ সরবরাহ করে, যেখানে হাজার হাজার পরিবার এই খাতের ওপর নির্ভরশীল । কিন্তু বাস্তবতা হলো, লবণ চাষীরা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, জমির লিজ মূল্য বাড়ছে, আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে মে দিবস তাদের কাছে অধিকারের প্রতীক না হয়ে অনেক সময় হতাশার দিন হয়ে দাঁড়ায়।

একইভাবে, জেলে ও শুকনো মাছ শিল্পের শ্রমিকদের জীবনও অনিশ্চয়তায় ঘেরা। কক্সবাজারের নাজিরার টেকসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ এই খাতে যুক্ত, যেখানে নারী ও শিশুরাও কঠোর শ্রমে অংশ নেয় । কিন্তু তারা অধিকাংশই অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক, নেই সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা কিংবা নির্দিষ্ট মজুরি কাঠামো। জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, অনিয়মিত আবহাওয়া, সব মিলিয়ে তাদের জীবিকা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে।

অন্যদিকে, পর্যটন খাত কক্সবাজারে দ্রুত বিস্তার লাভ করলেও এর সুফল সমানভাবে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায় না। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও সেবাখাতে কর্মরত শ্রমিকরা মৌসুমি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুমে আয় থাকলেও অফ-সিজনে তারা কর্মহীন হয়ে পড়ে। আবার অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পরিবেশ দূষণ এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এই খাতের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে ।

তবে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি উদ্যোগে লবণ শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে ।

পর্যটন খাতে দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ এখনো সীমিত পরিসরে, এবং বৃহৎ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর কাছে পুরোপুরি পৌঁছায়নি।

প্রশ্ন হলো, মে দিবস কি শুধুই শোভাযাত্রা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটি বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করবে?

কক্সবাজারের প্রেক্ষাপটে মে দিবসের তাৎপর্য তখনই বাস্তব হবে, যখন; লবণ চাষীরা উৎপাদন খরচের ন্যায্য মূল্য পাবে, জেলেরা নিরাপদ ও স্থিতিশীল জীবিকার নিশ্চয়তা পাবে, পর্যটন শ্রমিকরা সারা বছর কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা পাবে।

মে দিবস কক্সবাজারের শ্রমজীবী মানুষের জন্য এখনো সম্ভাবনার প্রতীক। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন নীতিগত পরিবর্তন, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকের কণ্ঠস্বরকে কেন্দ্রবিন্দুতে আনা। অন্যথায়, মে দিবস থাকবে, কিন্তু শ্রমিকের জীবন বদলাবে না।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের বিবৃতির প্রতিবাদে ইউসিআর -“রোহিঙ্গারা বাঙালি নয়, তারা রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী”

মে দিবস:

কক্সবাজারের লবণ চাষী, জেলে ও পর্যটন শ্রমিকদের জন্য আশার আলো, নাকি অনিশ্চয়তার প্রতিধ্বনি?

আপডেট সময় : ১১:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক মে দিবস শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রতীক। কিন্তু কক্সবাজারের বাস্তবতায় এই দিবস কতটা পরিবর্তন আনছে; এই প্রশ্ন আজও প্রাসঙ্গিক। দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে কক্সবাজারে লবণ চাষ, মৎস্য আহরণ এবং পর্যটন, এই তিনটি খাতই শ্রমনির্ভর। অথচ এই শ্রমিকদের জীবনে মে দিবসের প্রতিফলন কতটা বাস্তব, তা গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।

কক্সবাজার বাংলাদেশের মোট লবণ উৎপাদনের প্রায় ৮৭ শতাংশ সরবরাহ করে, যেখানে হাজার হাজার পরিবার এই খাতের ওপর নির্ভরশীল । কিন্তু বাস্তবতা হলো, লবণ চাষীরা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, জমির লিজ মূল্য বাড়ছে, আর মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে মে দিবস তাদের কাছে অধিকারের প্রতীক না হয়ে অনেক সময় হতাশার দিন হয়ে দাঁড়ায়।

একইভাবে, জেলে ও শুকনো মাছ শিল্পের শ্রমিকদের জীবনও অনিশ্চয়তায় ঘেরা। কক্সবাজারের নাজিরার টেকসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ এই খাতে যুক্ত, যেখানে নারী ও শিশুরাও কঠোর শ্রমে অংশ নেয় । কিন্তু তারা অধিকাংশই অনানুষ্ঠানিক শ্রমিক, নেই সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা কিংবা নির্দিষ্ট মজুরি কাঠামো। জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড়, অনিয়মিত আবহাওয়া, সব মিলিয়ে তাদের জীবিকা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে।

অন্যদিকে, পর্যটন খাত কক্সবাজারে দ্রুত বিস্তার লাভ করলেও এর সুফল সমানভাবে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায় না। হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও সেবাখাতে কর্মরত শ্রমিকরা মৌসুমি আয়ের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন মৌসুমে আয় থাকলেও অফ-সিজনে তারা কর্মহীন হয়ে পড়ে। আবার অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পরিবেশ দূষণ এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এই খাতের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে ।

তবে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি উদ্যোগে লবণ শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে ।

পর্যটন খাতে দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগও গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ এখনো সীমিত পরিসরে, এবং বৃহৎ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর কাছে পুরোপুরি পৌঁছায়নি।

প্রশ্ন হলো, মে দিবস কি শুধুই শোভাযাত্রা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এটি বাস্তব পরিবর্তনের সূচনা করবে?

কক্সবাজারের প্রেক্ষাপটে মে দিবসের তাৎপর্য তখনই বাস্তব হবে, যখন; লবণ চাষীরা উৎপাদন খরচের ন্যায্য মূল্য পাবে, জেলেরা নিরাপদ ও স্থিতিশীল জীবিকার নিশ্চয়তা পাবে, পর্যটন শ্রমিকরা সারা বছর কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা পাবে।

মে দিবস কক্সবাজারের শ্রমজীবী মানুষের জন্য এখনো সম্ভাবনার প্রতীক। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন নীতিগত পরিবর্তন, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকের কণ্ঠস্বরকে কেন্দ্রবিন্দুতে আনা। অন্যথায়, মে দিবস থাকবে, কিন্তু শ্রমিকের জীবন বদলাবে না।