ঢাকা ১০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের স্পেশাল মিডিয়েটর হিসাবে নিয়োগ পেলেন অ্যাডভোকেট মোঃ শাহা আলম রাজা পালংয়ের প্রয়াত জননেতা শেখ শাহাবুদ্দিনের সহধর্মিণীর মৃত্যু : জানাজা বুধবার পেকুয়ায় দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে পুড়লো আমজাদের ড্রাম ট্রাক জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নাইক্ষ্যংছড়ি বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হলেন সাবেক চেয়ারম্যান তোফাইল কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার নির্দেশ, প্রতিবেদন তলব মগনামায় সরকারি খালে ৫৮টি অবৈধ বাঁধ ও জাল অপসারণ নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা : পাহাড়ধসের আশংকা সেন্টমার্টিনে ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক মহেশখালী চ্যানেলে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই বালু উত্তোলন, ৫০ লাখ টাকা জরিমানা সমিতিপাড়ায় কিশোর সুকান্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি বেলাল গ্রেপ্তার কক্সবাজারে বাধ্যতামূলক মামলা পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন ২০২৬ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু নভেম্বরে : আয়োজক বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৯ বছর আগেই নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়কে ঘিরে নতুন অপপ্রচার: অধ্যক্ষের প্রতিবাদ

মধ্যরাতের আগুনে পুড়ে ছাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাড়ে চারশ ঘর

কক্সবাজারের উখিয়ার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে গেছে সাড়ে চার শতাধিক ঘরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। শীতের রাতে সব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পের ডি–৪ ব্লকে ব্র্যাক পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্রে প্রথমে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের শেড ও ঘরগুলোতে।

স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে তিনটি ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্যাম্প প্রশাসন সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ৪৫০টি বসতঘর, ১০টি শিখন কেন্দ্র, দুটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।হঠাৎ আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্যাম্পবাসীরা।

ডি–৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রাতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে কোনোরকমে প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। আমার ব্লকের একটি ঘরও আর অবশিষ্ট নেই—সব পুড়ে গেছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য সাতজন। এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারালাম। এখন কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড নতুন ঘটনা নয়। অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এর আগের দিন, ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুনে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের স্পেশাল মিডিয়েটর হিসাবে নিয়োগ পেলেন অ্যাডভোকেট মোঃ শাহা আলম

মধ্যরাতের আগুনে পুড়ে ছাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাড়ে চারশ ঘর

আপডেট সময় : ১২:২১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে গেছে সাড়ে চার শতাধিক ঘরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। শীতের রাতে সব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পের ডি–৪ ব্লকে ব্র্যাক পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্রে প্রথমে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের শেড ও ঘরগুলোতে।

স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে তিনটি ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্যাম্প প্রশাসন সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ৪৫০টি বসতঘর, ১০টি শিখন কেন্দ্র, দুটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।হঠাৎ আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্যাম্পবাসীরা।

ডি–৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রাতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে কোনোরকমে প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। আমার ব্লকের একটি ঘরও আর অবশিষ্ট নেই—সব পুড়ে গেছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য সাতজন। এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারালাম। এখন কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড নতুন ঘটনা নয়। অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এর আগের দিন, ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুনে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।