ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে? তাজমিনের মৃত্যু :রাজুর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ আদালতের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ভূমধ্যসাগরীয় খাবার নিয়ে ওশ্যান প্যারাডাইসে ১০ দিনের ‘মেডিটেরেনিয়ান ফুড ফেস্টিভ্যাল’ ঈদগাঁওয়ে অগ্নিকাণ্ডে ৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত, ক্ষতি অর্ধকোটি টাকা লোহাগাড়ায় ব্যবসায়ীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, স্বামীকে অক্ষত ফেরত চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্তবর্তী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রামুর সেক্টর কমান্ডার শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে এসআরবি-১৫ লামায় বিদায়ী ইউএনও মঈন উদ্দিনকে প্রেসক্লাবের বিদায় সংবর্ধনা প্রশাসন-গণমাধ্যমের সমন্বয়ে জনসেবা গতিশীল হবে- উখিয়া প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইউএনওর মতবিনিময় পেকুয়ায় করাতকলে অভিযান, মেশিন ও গাছ জব্দ কয়েক যুগেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া , দুর্ভোগে দুই গ্রামের হাজার মানুষ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যরাতের আগুনে পুড়ে ছাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাড়ে চারশ ঘর

কক্সবাজারের উখিয়ার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে গেছে সাড়ে চার শতাধিক ঘরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। শীতের রাতে সব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পের ডি–৪ ব্লকে ব্র্যাক পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্রে প্রথমে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের শেড ও ঘরগুলোতে।

স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে তিনটি ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্যাম্প প্রশাসন সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ৪৫০টি বসতঘর, ১০টি শিখন কেন্দ্র, দুটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।হঠাৎ আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্যাম্পবাসীরা।

ডি–৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রাতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে কোনোরকমে প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। আমার ব্লকের একটি ঘরও আর অবশিষ্ট নেই—সব পুড়ে গেছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য সাতজন। এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারালাম। এখন কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড নতুন ঘটনা নয়। অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এর আগের দিন, ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুনে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

অন্যের দুর্দশার খবর লিখি, আমাদের দুর্দশা লিখবে কে?

মধ্যরাতের আগুনে পুড়ে ছাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাড়ে চারশ ঘর

আপডেট সময় : ১২:২১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে গেছে সাড়ে চার শতাধিক ঘরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। শীতের রাতে সব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পের ডি–৪ ব্লকে ব্র্যাক পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্রে প্রথমে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের শেড ও ঘরগুলোতে।

স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে তিনটি ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্যাম্প প্রশাসন সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ৪৫০টি বসতঘর, ১০টি শিখন কেন্দ্র, দুটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।হঠাৎ আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্যাম্পবাসীরা।

ডি–৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রাতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে কোনোরকমে প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। আমার ব্লকের একটি ঘরও আর অবশিষ্ট নেই—সব পুড়ে গেছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য সাতজন। এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারালাম। এখন কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড নতুন ঘটনা নয়। অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এর আগের দিন, ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুনে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।