ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে “মাদক নিযন্ত্রণ ও যুব সমাজের সম্পৃক্ততা” শীর্ষক সেমিনার মসজিদের কক্ষে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উখিয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে রহস্য ডাকাতি প্রস্তুতি মামলার আসামিকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে ভারতের উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতে নিহত প্রায় ৯০ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের চ্যালেঞ্জ শনাক্তে কক্সবাজারে যাচ্ছে ইসি মহেশখালীতে ড্রেন নির্মাণকাজে ডাম্পারের ধাক্কা, শ্রমিক নিহত টেকনাফে অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি ঘটনায় অভিযুক্ত শীর্ষ মানবপাচারকারী শাকের মাঝি আটক কক্সবাজারে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬ তম আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে সাধারণ সভা ১৫ মে গর্জনিয়ায় সোহেলের বসতঘর থেকে মিললো ১ লাখ পিস ইয়াবা : এলাকায় চাঞ্চল্য কোরবানি পশুর চামড়ার দাম বাড়ল এবার কক্সবাজার সরকারি কলেজে ইউনিফর্ম পরে টিকটক-রিলস নিষিদ্ধ, নির্দেশনা অমান্য করলে শাস্তির সতর্কতা

মধ্যরাতের আগুনে পুড়ে ছাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাড়ে চারশ ঘর

কক্সবাজারের উখিয়ার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে গেছে সাড়ে চার শতাধিক ঘরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। শীতের রাতে সব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পের ডি–৪ ব্লকে ব্র্যাক পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্রে প্রথমে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের শেড ও ঘরগুলোতে।

স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে তিনটি ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্যাম্প প্রশাসন সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ৪৫০টি বসতঘর, ১০টি শিখন কেন্দ্র, দুটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।হঠাৎ আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্যাম্পবাসীরা।

ডি–৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রাতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে কোনোরকমে প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। আমার ব্লকের একটি ঘরও আর অবশিষ্ট নেই—সব পুড়ে গেছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য সাতজন। এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারালাম। এখন কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড নতুন ঘটনা নয়। অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এর আগের দিন, ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুনে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে “মাদক নিযন্ত্রণ ও যুব সমাজের সম্পৃক্ততা” শীর্ষক সেমিনার

মধ্যরাতের আগুনে পুড়ে ছাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাড়ে চারশ ঘর

আপডেট সময় : ১২:২১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই পুড়ে গেছে সাড়ে চার শতাধিক ঘরসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। শীতের রাতে সব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ক্যাম্পের ডি–৪ ব্লকে ব্র্যাক পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্রে প্রথমে আগুন লাগে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের শেড ও ঘরগুলোতে।

স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক এবং ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে তিনটি ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্যাম্প প্রশাসন সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ৪৫০টি বসতঘর, ১০টি শিখন কেন্দ্র, দুটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।হঠাৎ আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্যাম্পবাসীরা।

ডি–৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রাতে ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে কোনোরকমে প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি। আমার ব্লকের একটি ঘরও আর অবশিষ্ট নেই—সব পুড়ে গেছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য সাতজন। এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারালাম। এখন কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—কিছুই বুঝতে পারছি না।’

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ক্যাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ড নতুন ঘটনা নয়। অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এর আগের দিন, ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুনে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।