ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিএনসিসি এর দায়িত্ব পালন শাহজাহান-আনোয়ারীর লড়াই জমালো যে ‘ভোটব্যাংক’ তারেক রহমানের সাথে আলমগীর ফরিদের শুভেচ্ছা বিনিময় উখিয়ায় নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধে এনসিপির আহবান কক্সবাজারের চারটি আসনে ১০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত চকরিয়ার ফুলের রাজ্যে ২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি ঢাকায় সালাহউদ্দিনের সাথে আলমগীর ফরিদ, ‘জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি’ মুক্তিযুদ্ধ ও নারী অধিকার: রাষ্ট্রের প্রশ্নে আপসহীনতা মহেশখালীর সাতদিনব্যাপী আদিনাথ মেলা শুরু আগামীকাল থেকে কক্সবাজার ৪ সহ ৩০টি আসনে জয়ীদের শপথ স্থগিতে আইনী পদক্ষেপ নেবে জামায়াত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব: তারেক রহমান চাঁদাবাজদের পুলিশে দিন,সাহসিকতার জন্যে দেয়া হবে পুরস্কার- লুৎফুর রহমান কাজল তারেকের শপথে মোদীকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি: ডব্লিউআইওএন কক্সবাজারে বিএনপির দাপট: সালাহউদ্দিন ৪, ফরিদ ৩, কাজল ২ ও শাহজাহান ৫ বার এমপি জনরায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে নতুন সরকার: ড. আলী রিয়াজ

শর্ত সাপেক্ষে নাফ নদীতে আটক ১২২ জেলেকে মুক্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে প্রবেশের চেষ্টা করায় কোস্ট গার্ডের হাতে আটক হওয়া ১২২ জন জেলেকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৩ জন রোহিঙ্গাকে শরণার্থী শিবিরে পাঠানো হয়েছে। বাকি ২৯ জন বাংলাদেশি জেলে ও ট্রলার সামাজিক বিচারের মাধ্যমে মালিক ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বেলেন, কোস্ট গার্ড জেলেদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। এরপর জেলা প্রশাসন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের সিদ্ধান্তে রোহিঙ্গাদের এপিবিএনের মাধ্যমে ক্যাম্পে পাঠানো হয়। বাংলাদেশি জেলেদের টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হাসান চৌধুরীর উপস্থিতিতে ট্রলার মালিক সমিতির মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে কেউ জলসীমা অতিক্রম করবে না, এই শর্তে অঙ্গীকার নেওয়ার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, শুক্রবার সকালে জালিয়াপাড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ মোহনা পর্যন্ত নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব জেলেকে আটক করা হয়। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তের বড় একটি অংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। সেখানে ঢুকলেই জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে কোস্ট গার্ডসহ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য নানা বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধেও চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।

ট্রলার মালিকদের দাবি, সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে ডুবোচরের কারণে নাইক্ষ্যংদিয়া পয়েন্ট দিয়েই যাতায়াত করতে হয়, নইলে মাছ ধরা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত আট মাসে নাফ নদী-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা থেকে অন্তত ৩০০ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি।

বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের আওতাধীন রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ গত ২৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে বর্তমানে ৫১ জন বাংলাদেশি জেলে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। আনঅফিসিয়ালি যোগাযোগ করে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আর কোনো জেলেকে যেন ধরে নিয়ে যাওয়া না হয়।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বিএনসিসি এর দায়িত্ব পালন

This will close in 6 seconds

শর্ত সাপেক্ষে নাফ নদীতে আটক ১২২ জেলেকে মুক্তি

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে প্রবেশের চেষ্টা করায় কোস্ট গার্ডের হাতে আটক হওয়া ১২২ জন জেলেকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৩ জন রোহিঙ্গাকে শরণার্থী শিবিরে পাঠানো হয়েছে। বাকি ২৯ জন বাংলাদেশি জেলে ও ট্রলার সামাজিক বিচারের মাধ্যমে মালিক ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বেলেন, কোস্ট গার্ড জেলেদের আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। এরপর জেলা প্রশাসন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের সিদ্ধান্তে রোহিঙ্গাদের এপিবিএনের মাধ্যমে ক্যাম্পে পাঠানো হয়। বাংলাদেশি জেলেদের টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হাসান চৌধুরীর উপস্থিতিতে ট্রলার মালিক সমিতির মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে কেউ জলসীমা অতিক্রম করবে না, এই শর্তে অঙ্গীকার নেওয়ার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, শুক্রবার সকালে জালিয়াপাড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ মোহনা পর্যন্ত নাফ নদীতে অভিযান চালিয়ে এসব জেলেকে আটক করা হয়। রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তের বড় একটি অংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। সেখানে ঢুকলেই জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে কোস্ট গার্ডসহ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য নানা বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধেও চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।

ট্রলার মালিকদের দাবি, সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে ডুবোচরের কারণে নাইক্ষ্যংদিয়া পয়েন্ট দিয়েই যাতায়াত করতে হয়, নইলে মাছ ধরা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত আট মাসে নাফ নদী-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা থেকে অন্তত ৩০০ জেলেকে অপহরণ করেছে আরাকান আর্মি।

বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের আওতাধীন রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ গত ২৮ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে বর্তমানে ৫১ জন বাংলাদেশি জেলে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। আনঅফিসিয়ালি যোগাযোগ করে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আর কোনো জেলেকে যেন ধরে নিয়ে যাওয়া না হয়।