ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টিটিএনের সংবাদকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে ডিডাব্লিউ একাডেমির ইন-হাউস প্রশিক্ষণ কক্সবাজারের মেয়ে তাওয়াক্কুল নূর চৌধুরী স্নেহা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-এর জুডো বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি, সারাদেশে গ্যাসের সংকট নির্ভীক, স্পষ্টবাদী ও সৎ সাংবাদিক ছিলেন আতাহার ইকবাল-লুৎফুর রহমান কাজল এমপি নেপালের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আমন্ত্রিত কক্সবাজারের সন্তান সাংবাদিক ইরফান হোয়াইক্যংয়ের কাটাখালীতে এবার ২ কোটি টাকার ইয়াবা ছিনতাই পালংখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভার প্রতিবাদে বিএনপির মিছিল উখিয়ায় শ্যামল প্রকৃতি আর্ট স্কুলের দিনব্যাপী সংগীত কর্মশালা অনুষ্ঠিত কাঁচা মাছ খেয়ে ৩৬ দিন সাগরে ভাসছিলেন শ্রীলঙ্কার দুই জেলে: উদ্ধার করলেন মহেশখালীর জেলেরা রোহিঙ্গা মাঝি এনায়েত উল্লাহর অত্যাচারে অতিষ্ঠ রোহিঙ্গারাই টানা আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ উখিয়ায় বাসে অভিযান: ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আটক কুতুবদিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত আলমগীর মারা গেছেন
সংসদে ফজলুর রহমান

হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’

বাংলাদেশে শত বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সুফিবাদের চিরায়ত ঐতিহ্য আজ এক শ্রেণির চরমপন্থির কারণে সংকটের মুখে পড়েছে বলে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এর সভাপতিত্বে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পরমতসহিষ্ণুতা এবং বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর আঘাতের তীব্র সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেছেন, অলি-আউলিয়াদের হাত ধরে এই দেশে যে শান্তির সুফিবাদ এসেছে, তা আজ একদল পোশাকধারী ধর্ম ব্যবসায়ী ধ্বংস করতে মেতে উঠেছে।

‘সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের’ হুমকির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, চৌদ্দ পুরুষ আগে থেকেই এই দেশ হিন্দু ও বৌদ্ধদেরও ছিল। তারা এই দেশেরই ৯ শতাংশ মানুষ, যাদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি এবং এই মাটি তাদেরও পূর্বপুরুষের দেশ। হিন্দুরা তাদের মন্দিরে যত খুশি বড় মূর্তি বানিয়ে পূজা করুক আর মুসলমানরা ২৫ তলা মসজিদ বানিয়ে নামাজ পড়ুক, এতে কারও কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। বরং এটাই এ দেশের আসল সৌন্দর্য। অথচ এই সহজ সত্যটি আজ এক শ্রেণির মানুষ মেনে নিতে পারছে না, যারা পৃথিবীর কোনো সভ্যতা বা সংস্কৃতিকে তোয়াক্কা করে না।

এই চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফজলুর রহমান বলেন, যদি সরকার মনে করে দেশে মন্দির বা মূর্তি তৈরি করা যাবে না, তবে তা আইন করে কঠোরভাবে বন্ধ করে দিক। কিন্তু যদি তা না হয়, তবে সংখ্যালঘুদের ওপর এই অত্যাচার ও মাজার সংস্কৃতির ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.), হযরত শাহজালাল (রহ.), শাহ পরান (রহ.) কিংবা খান জাহান আলীর মতো অলি-আউলিয়ারা এই দেশে এসে সবার ওপরে মানুষের জয়গান গেয়েছেন এবং সুফিবাদের শিক্ষা দিয়েছেন। অথচ আজ সেই সুফিবাদের অনুসারীদের ওপর নৃশংস হামলা হচ্ছে, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে পীর-মাশায়েখদের নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে মারা হচ্ছে এবং খোদ শাহজালালের মাজার ভাঙার জন্য কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে।

এই উগ্রতা ও মাজার ভাঙার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, যার ইচ্ছা সে মাজারে যাবে, যার ইচ্ছা যাবে না; কেউ চাইলে আহলে হাদিস পালন করবে, কিন্তু জোর করে কারো ওপর কোনো মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া বা অন্যের উপাসনালয় ও মাজার ধ্বংস করার অধিকার কারো নেই।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

টিটিএনের সংবাদকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে ডিডাব্লিউ একাডেমির ইন-হাউস প্রশিক্ষণ

সংসদে ফজলুর রহমান

হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’

আপডেট সময় : ১২:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে শত বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সুফিবাদের চিরায়ত ঐতিহ্য আজ এক শ্রেণির চরমপন্থির কারণে সংকটের মুখে পড়েছে বলে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এর সভাপতিত্বে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পরমতসহিষ্ণুতা এবং বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর আঘাতের তীব্র সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেছেন, অলি-আউলিয়াদের হাত ধরে এই দেশে যে শান্তির সুফিবাদ এসেছে, তা আজ একদল পোশাকধারী ধর্ম ব্যবসায়ী ধ্বংস করতে মেতে উঠেছে।

‘সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের’ হুমকির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, চৌদ্দ পুরুষ আগে থেকেই এই দেশ হিন্দু ও বৌদ্ধদেরও ছিল। তারা এই দেশেরই ৯ শতাংশ মানুষ, যাদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি এবং এই মাটি তাদেরও পূর্বপুরুষের দেশ। হিন্দুরা তাদের মন্দিরে যত খুশি বড় মূর্তি বানিয়ে পূজা করুক আর মুসলমানরা ২৫ তলা মসজিদ বানিয়ে নামাজ পড়ুক, এতে কারও কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। বরং এটাই এ দেশের আসল সৌন্দর্য। অথচ এই সহজ সত্যটি আজ এক শ্রেণির মানুষ মেনে নিতে পারছে না, যারা পৃথিবীর কোনো সভ্যতা বা সংস্কৃতিকে তোয়াক্কা করে না।

এই চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফজলুর রহমান বলেন, যদি সরকার মনে করে দেশে মন্দির বা মূর্তি তৈরি করা যাবে না, তবে তা আইন করে কঠোরভাবে বন্ধ করে দিক। কিন্তু যদি তা না হয়, তবে সংখ্যালঘুদের ওপর এই অত্যাচার ও মাজার সংস্কৃতির ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.), হযরত শাহজালাল (রহ.), শাহ পরান (রহ.) কিংবা খান জাহান আলীর মতো অলি-আউলিয়ারা এই দেশে এসে সবার ওপরে মানুষের জয়গান গেয়েছেন এবং সুফিবাদের শিক্ষা দিয়েছেন। অথচ আজ সেই সুফিবাদের অনুসারীদের ওপর নৃশংস হামলা হচ্ছে, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে পীর-মাশায়েখদের নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে মারা হচ্ছে এবং খোদ শাহজালালের মাজার ভাঙার জন্য কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে।

এই উগ্রতা ও মাজার ভাঙার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, যার ইচ্ছা সে মাজারে যাবে, যার ইচ্ছা যাবে না; কেউ চাইলে আহলে হাদিস পালন করবে, কিন্তু জোর করে কারো ওপর কোনো মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া বা অন্যের উপাসনালয় ও মাজার ধ্বংস করার অধিকার কারো নেই।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট