ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা মাঝি এনায়েত উল্লাহর অত্যাচারে অতিষ্ঠ রোহিঙ্গারাই টানা আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ উখিয়ায় বাসে অভিযান: ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আটক কুতুবদিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত আলমগীর মারা গেছেন বরিষ ধরা মাঝে শান্তির বারি’: বর্ষা বন্দনা-১৪৩৩-এর সঙ্গীত ও নৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত লোহাগাড়ায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারী গুরুতর আহত, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেকে প্রেরণ ২৩ মামলার আসামী সমিতি পাড়ার নুর কাদেরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫ সহজেই মিলছে সরকারি লাইসেন্স! রিজভির গরুর খামারে সাদা হচ্ছে ইয়াবার কালো টাকা সমুদ্রে ভেঁসে যাওয়া ছেলে জীবিত উদ্ধার হলেও খোঁজ মিলছে না বাবার এক সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথ : মিশকাতুল মমতজা মুমুর একক পরিবেশনা লন্ডনের হোটেলে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু: তদন্তে মিলল মাদক গ্রহণের প্রমাণ চুনতিতে গভীর রাতে বন্য হাতির তাণ্ডব ​টেকনাফ-উখিয়ার নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন, ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

রোহিঙ্গা মাঝি এনায়েত উল্লাহর অত্যাচারে অতিষ্ঠ রোহিঙ্গারাই

উখিয়া উপজেলার বালুখালী ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের বি ব্লকের হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঘর নির্মাণ ও বরাদ্দে অর্থ আদায়, বিচার-সালিশে টাকা নেওয়া এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ক্যাম্পের একাধিক বাসিন্দা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


‎ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে অন্তত ২০টির বেশি লিখিত অভিযোগ ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয় এবং ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

‎বাসিন্দাদের ভাষ্য, এর আগে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনায়েত উল্লাহকে মাঝিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন। এরপর আবারও বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

‎অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন ঘর নির্মাণ, পুরোনো ঘর সংস্কার কিংবা বসবাসসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সহায়তার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। কেউ ঘর নির্মাণ করতে চাইলে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি, বিচার-সালিশ এবং বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন একাধিক বাসিন্দা।

‎কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নাম বিভিন্ন তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখানো হয় অথবা প্রশাসনিক কাজে অযথা বিলম্ব করা হয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‎এদিকে, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সনজিদা ও মরিয়ম খাতুন নামে দুই রোহিঙ্গা নারী ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তারা সিআইসি কার্যালয়ের এক ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকুরির সুপারিশের নামে অর্থ দাবি, প্রশাসনিক সেবা দিতে ঘুষ নেওয়া এবং হেড মাঝির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেন। আবেদনকারীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

‎তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

‎হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত নই।

‎ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) রিন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, আমার কাছে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তাহলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

‎ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সাধারণ রোহিঙ্গাদের হয়রানি বন্ধ এবং ক্যাম্পে জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা মাঝি এনায়েত উল্লাহর অত্যাচারে অতিষ্ঠ রোহিঙ্গারাই

রোহিঙ্গা মাঝি এনায়েত উল্লাহর অত্যাচারে অতিষ্ঠ রোহিঙ্গারাই

আপডেট সময় : ০৬:১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

উখিয়া উপজেলার বালুখালী ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের বি ব্লকের হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ঘর নির্মাণ ও বরাদ্দে অর্থ আদায়, বিচার-সালিশে টাকা নেওয়া এবং সাধারণ রোহিঙ্গাদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ক্যাম্পের একাধিক বাসিন্দা। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


‎ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এনায়েত উল্লাহর বিরুদ্ধে অন্তত ২০টির বেশি লিখিত অভিযোগ ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয় এবং ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

‎বাসিন্দাদের ভাষ্য, এর আগে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এনায়েত উল্লাহকে মাঝিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন। এরপর আবারও বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

‎অভিযোগকারীদের দাবি, নতুন ঘর নির্মাণ, পুরোনো ঘর সংস্কার কিংবা বসবাসসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সহায়তার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। কেউ ঘর নির্মাণ করতে চাইলে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি, বিচার-সালিশ এবং বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেন একাধিক বাসিন্দা।

‎কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নাম বিভিন্ন তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ভয় দেখানো হয় অথবা প্রশাসনিক কাজে অযথা বিলম্ব করা হয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‎এদিকে, গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সনজিদা ও মরিয়ম খাতুন নামে দুই রোহিঙ্গা নারী ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের ক্যাম্প ইনচার্জের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তারা সিআইসি কার্যালয়ের এক ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাকুরির সুপারিশের নামে অর্থ দাবি, প্রশাসনিক সেবা দিতে ঘুষ নেওয়া এবং হেড মাঝির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করেন। আবেদনকারীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

‎তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

‎হেড মাঝি এনায়েত উল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত নই।

‎ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) রিন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, আমার কাছে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, তাহলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

‎ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সাধারণ রোহিঙ্গাদের হয়রানি বন্ধ এবং ক্যাম্পে জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।