ঢাকা ০২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিচারে বৈষম্যের অবসান কবে হবে? প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরকে ২-১ গোলে হারালো ব্রাজিল রায়ে খুশি, দ্রুত কার্যকর চাই : রামিসার বাবা টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে শামীমকে চায় তৃণমূল রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাসকে ২-০ গোলে হারালো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দুপুরের মধ্যে কক্সবাজারসহ ১৭ জেলায় ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কা “আজতেকা থেকে কক্সবাজার: ফুটবলের উদ্বোধনী বাঁশি যেন সমুদ্রের ঢেউয়েও” ৫ মাস পর মুক্তি! ৪টি ট্রলারসহ ৯১ বাংলাদেশি কুতুবদিয়ার জেলেকে ফেরত দিলো ভারত নাফ নদীতে আরাকান আর্মির গুলি, সাঁতরে বাংলাদেশে এলেন আহত রোহিঙ্গা যুবক মহেশখালী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে গাজী সালাহউদ্দিন মানিককে চায় তৃণমূল শিল্পী ইফতিকে নিয়ে মানহানিকর ভূয়া সংবাদ : কমবার নিন্দা ও আইনের আওতায় আনার দাবী টেকনাফে মালয়েশিয়াগামী বোট থেকে ৫০ ভুক্তভোগী উদ্ধার, আটক ৯ পাচারকারী ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই সচেতন হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে ভোর রাতে সাংবাদিকের বাড়িতে ডাকাতি, বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে টাকা-স্বর্ণালংকার লুট

হাদির শোকে স্তব্ধ বাংলাদেশ : মরদেহ আসবে শুক্রবার,শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা

দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে থেমে গেলো জুলাই বিপ্লবী শরিফ উসমান বিন হাদীর জীবন। নানা চেষ্টায়ও তাকে আর বাঁচানো গেলো না। হাদির মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ যেনো বাংলাদেশ। চব্বিশের জুলাইয়ে যার কণ্ঠে উঠেছিলো বিপ্লবের সুর, সেই যোদ্ধার জীবন থেমে গেলো পঁচিশের ১৮ই ডিসেম্বর।

বিদ্রোহী কবির কবিতার মতোই ছিল ওসমান হাদির জীবন। ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন।

চব্বিশের জুলাইয়ে বুলেটের মুখে দাঁড়িয়েছিলেন রাজপথে। অভ্যুত্থানের পর গড়ে তুলেছিলেন আধিপত্যবিরোধী প্ল্যাটফর্ম, ইনকিলাব মঞ্চ।

জুলাইয়ের পর কারো কারো জীবন যাপন এবং আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও, হাদি ছিলেন চালচলনে সাদামাটা। কোনো দলের টিকিট না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। চালাতে থাকেন প্রচারণা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিন ১২ই ডিসেম্বর হঠাৎ ছন্দপতন। নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সময় বিজয়নগরে রিকশায় ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত হাদিকে তাৎক্ষণিক নেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মাথায় গুলি লাগায় অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসকরা। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল থেকে পরিবারের ইচ্ছায় নেয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। তারপর ১৫ই ডিসেম্বর সরকারি খরচে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ওসমান হাদিকে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। ভর্তি করা হয় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে। হাদিকে বাঁচাতে চলে সিঙ্গাপুরের একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নানা চেষ্টা। অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে থেমে যায় বিপ্লবী ওসমান হাদির জীবন।

জুলাই বিপ্লবী হাদির জীবন প্রদীপ নিভে গেছে, তার বিপ্লবের আলো নিভে যাওয়ার নয়।শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে যেই আওয়াজ তুলেছেন, সেই আওয়াজ থাকবে যুগ থেকে যুগান্তর।

এদিকে ওসমান শরীফ হাদির মৃত্যকে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোঘনা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনুস টেলিভিশনে দেয়া ভাষনে এ ঘোষণা দেন। এদিন সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। সেইসাথে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সকল মসজিদে ওসমান শরীফ হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের নির্দেশনা দেন তিনি। ভাষনে প্রধান উপদেষ্টা শহীদ হাদির পরিবারের দায়িত্ব সরকার নিবে বলে ঘোষনা দেন।

এদিকে শুক্রবার দেশে আসবে জুলাই বীর শহদী হাদির মরদেহ এমনটাই জাানিয়েছে জাতীয় গণমাধ্যমগুলো। শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ তে শহীদ হাদির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিচারে বৈষম্যের অবসান কবে হবে?

হাদির শোকে স্তব্ধ বাংলাদেশ : মরদেহ আসবে শুক্রবার,শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজা

আপডেট সময় : ০২:৩১:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশ-বিদেশের চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে থেমে গেলো জুলাই বিপ্লবী শরিফ উসমান বিন হাদীর জীবন। নানা চেষ্টায়ও তাকে আর বাঁচানো গেলো না। হাদির মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ যেনো বাংলাদেশ। চব্বিশের জুলাইয়ে যার কণ্ঠে উঠেছিলো বিপ্লবের সুর, সেই যোদ্ধার জীবন থেমে গেলো পঁচিশের ১৮ই ডিসেম্বর।

বিদ্রোহী কবির কবিতার মতোই ছিল ওসমান হাদির জীবন। ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন।

চব্বিশের জুলাইয়ে বুলেটের মুখে দাঁড়িয়েছিলেন রাজপথে। অভ্যুত্থানের পর গড়ে তুলেছিলেন আধিপত্যবিরোধী প্ল্যাটফর্ম, ইনকিলাব মঞ্চ।

জুলাইয়ের পর কারো কারো জীবন যাপন এবং আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও, হাদি ছিলেন চালচলনে সাদামাটা। কোনো দলের টিকিট না নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। চালাতে থাকেন প্রচারণা।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ঠিক পরদিন ১২ই ডিসেম্বর হঠাৎ ছন্দপতন। নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সময় বিজয়নগরে রিকশায় ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত হাদিকে তাৎক্ষণিক নেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মাথায় গুলি লাগায় অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসকরা। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল থেকে পরিবারের ইচ্ছায় নেয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। তারপর ১৫ই ডিসেম্বর সরকারি খরচে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ওসমান হাদিকে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। ভর্তি করা হয় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে। হাদিকে বাঁচাতে চলে সিঙ্গাপুরের একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নানা চেষ্টা। অবশেষে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে থেমে যায় বিপ্লবী ওসমান হাদির জীবন।

জুলাই বিপ্লবী হাদির জীবন প্রদীপ নিভে গেছে, তার বিপ্লবের আলো নিভে যাওয়ার নয়।শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে যেই আওয়াজ তুলেছেন, সেই আওয়াজ থাকবে যুগ থেকে যুগান্তর।

এদিকে ওসমান শরীফ হাদির মৃত্যকে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোঘনা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনুস টেলিভিশনে দেয়া ভাষনে এ ঘোষণা দেন। এদিন সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। সেইসাথে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সকল মসজিদে ওসমান শরীফ হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের নির্দেশনা দেন তিনি। ভাষনে প্রধান উপদেষ্টা শহীদ হাদির পরিবারের দায়িত্ব সরকার নিবে বলে ঘোষনা দেন।

এদিকে শুক্রবার দেশে আসবে জুলাই বীর শহদী হাদির মরদেহ এমনটাই জাানিয়েছে জাতীয় গণমাধ্যমগুলো। শনিবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ তে শহীদ হাদির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।