ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ৩ কেন আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে চান স্পেন কোচ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের পাটের মান বেশি উন্নত: ভারতীয় কৃষিমন্ত্রী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সিতে নামবে আর্জেন্টিনা, কেন এই জার্সি নিয়ে এত আলোচনা? দায়িত্ববোধ-সচেতনতা তৈরি করা গেলে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা যাবে  দেশটাকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে হবে : প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল রথযাত্রা উৎসব- থাকছে নানা আয়োজন তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়া চাচি পলাতক, আটক ৩ সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত আজ ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তিন বিষয়ের পরীক্ষা আবার নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী পেকুয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু রাজাপালংয়ের চেয়ারম্যান দুর্নীতিগ্রস্ত : জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া এমপির চিঠি ভাইরাল! বুধবার পরীক্ষা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা মাতারবাড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ: ‘আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা’ দাবি পরিবারের

সেন্টমার্টিনে কেয়াবন উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণ,পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে কেয়াবনের গাছ উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,’ টেকনাফ মডেল থানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান বাদী হয়ে দুইজনকে এজহার নামীয় আসামী করে গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন।’ অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসামিরা হলেন, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কেফায়েত আল্লাহ এবং রিসোর্ট মালিক নুর মোহাম্মদ খান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণের জন্য গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু কেয়া গাছ কাটা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করলে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনার সত্যতা পায়।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন,

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় আমরা কাজ করছি। কেয়াগাছ দ্বীপের সম্পদ, পরিবেশবিরোধী কাজ পরিলক্ষিত হওয়ায় বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।  ইসিএ এর আইন অনুযায়ী, এই দ্বীপে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যার মাধ্যমে দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি হয়। এখানে যেকোনো প্রকারের অবকাঠামো নির্মাণও নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়াও ২০২২ সালে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে সেন্ট মার্টিনকে মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া ঘোষণা করা হয় যেখানে ইট ও সিমেন্ট নেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

স্থানীয় প্রশাসনের পরিসংখ্যান বলছে,  ইতোমধ্যে ২৩৭টির বেশি হোটেল-রির্সোট-কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। একসময় দ্বীপ বৃক্ষ-গাছে পরিপূর্ণ থাকলে সময়ের সাথে সাথে তা কমতে শুরু করে, প্রবাল প্রজাতির সংখ্যা ১৪১ থেকে এখন ৪০ এ দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন, ‘ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় যথাযথ কার্যক্রম পরিচালনা না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।’

দীর্ঘ কয়েক যুগে দ্বীপে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে ৪০টিতে নেমে এসেছে। কমেছে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী আব্দুল মালেক বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সেন্টমার্টিনে অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এতে করে দ্বীপ ও দ্বীপের মানুষেরা সুরক্ষিত থাকবে। ‘

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো প্রাইভেটকারে ৬ হাজার ইয়াবা, আটক ৩

সেন্টমার্টিনে কেয়াবন উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণ,পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা

আপডেট সময় : ১২:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে কেয়াবনের গাছ উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,’ টেকনাফ মডেল থানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান বাদী হয়ে দুইজনকে এজহার নামীয় আসামী করে গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন।’ অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসামিরা হলেন, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কেফায়েত আল্লাহ এবং রিসোর্ট মালিক নুর মোহাম্মদ খান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণের জন্য গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু কেয়া গাছ কাটা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করলে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনার সত্যতা পায়।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন,

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় আমরা কাজ করছি। কেয়াগাছ দ্বীপের সম্পদ, পরিবেশবিরোধী কাজ পরিলক্ষিত হওয়ায় বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।  ইসিএ এর আইন অনুযায়ী, এই দ্বীপে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যার মাধ্যমে দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি হয়। এখানে যেকোনো প্রকারের অবকাঠামো নির্মাণও নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়াও ২০২২ সালে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে সেন্ট মার্টিনকে মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া ঘোষণা করা হয় যেখানে ইট ও সিমেন্ট নেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

স্থানীয় প্রশাসনের পরিসংখ্যান বলছে,  ইতোমধ্যে ২৩৭টির বেশি হোটেল-রির্সোট-কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। একসময় দ্বীপ বৃক্ষ-গাছে পরিপূর্ণ থাকলে সময়ের সাথে সাথে তা কমতে শুরু করে, প্রবাল প্রজাতির সংখ্যা ১৪১ থেকে এখন ৪০ এ দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন, ‘ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় যথাযথ কার্যক্রম পরিচালনা না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।’

দীর্ঘ কয়েক যুগে দ্বীপে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে ৪০টিতে নেমে এসেছে। কমেছে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী আব্দুল মালেক বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সেন্টমার্টিনে অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এতে করে দ্বীপ ও দ্বীপের মানুষেরা সুরক্ষিত থাকবে। ‘