ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এডভোকেট হারুন অর রশিদের ২ দফা জানাজা সম্পন্ন : শোকার্ত মানুষের ঢল টেকনাফে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফুটবলার সৈয়দ করিমের মৃত্যু শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ দুই শিশুর মৃত্যু লোহাগাড়ায় চেকপোস্টে তল্লাশী : মার্কিন পিস্তল-গুলি ও ইয়াবাসহ কক্সবাজারের দুই যুবক গ্রেফতার পেকুয়ায় আবু তাহের হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিফাত গ্রেপ্তার ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগিরই সিদ্ধান্ত: চিফ হুইপ লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টির আভাস মাদক মামলায় ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি কামাল হোসেন গ্রেফতার আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ, দেশে আরও বাড়ল লোডশেডিং পেকুয়ায় দোকানের আড়ালে মাদক বিক্রি, পুলিশের হাতে আটক ২ আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরীর স্মরণে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত উখিয়া প্রেসক্লাবে নতুন নেতৃত্বের শপথ, দায়িত্ব হস্তান্তর ও নবীন সদস্য বরণ গ্রেপ্তারের ১১ দিন পর জামিনে মুক্ত চকরিয়ার সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরী মেধা, পরিশ্রম আর মায়ের ত্যাগে ওয়াসিমা জান্নাতের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নপূরণ টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে ভ’য়া’ব’হ স’ড়’ক দু’র্ঘ’ট’নায় নিহত ১

সেন্টমার্টিনে কেয়াবন উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণ,পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে কেয়াবনের গাছ উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,’ টেকনাফ মডেল থানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান বাদী হয়ে দুইজনকে এজহার নামীয় আসামী করে গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন।’ অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসামিরা হলেন, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কেফায়েত আল্লাহ এবং রিসোর্ট মালিক নুর মোহাম্মদ খান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণের জন্য গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু কেয়া গাছ কাটা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করলে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনার সত্যতা পায়।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন,

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় আমরা কাজ করছি। কেয়াগাছ দ্বীপের সম্পদ, পরিবেশবিরোধী কাজ পরিলক্ষিত হওয়ায় বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।  ইসিএ এর আইন অনুযায়ী, এই দ্বীপে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যার মাধ্যমে দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি হয়। এখানে যেকোনো প্রকারের অবকাঠামো নির্মাণও নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়াও ২০২২ সালে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে সেন্ট মার্টিনকে মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া ঘোষণা করা হয় যেখানে ইট ও সিমেন্ট নেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

স্থানীয় প্রশাসনের পরিসংখ্যান বলছে,  ইতোমধ্যে ২৩৭টির বেশি হোটেল-রির্সোট-কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। একসময় দ্বীপ বৃক্ষ-গাছে পরিপূর্ণ থাকলে সময়ের সাথে সাথে তা কমতে শুরু করে, প্রবাল প্রজাতির সংখ্যা ১৪১ থেকে এখন ৪০ এ দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন, ‘ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় যথাযথ কার্যক্রম পরিচালনা না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।’

দীর্ঘ কয়েক যুগে দ্বীপে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে ৪০টিতে নেমে এসেছে। কমেছে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী আব্দুল মালেক বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সেন্টমার্টিনে অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এতে করে দ্বীপ ও দ্বীপের মানুষেরা সুরক্ষিত থাকবে। ‘

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

এডভোকেট হারুন অর রশিদের ২ দফা জানাজা সম্পন্ন : শোকার্ত মানুষের ঢল

সেন্টমার্টিনে কেয়াবন উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণ,পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলা

আপডেট সময় : ১২:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে কেয়াবনের গাছ উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণের ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান,’ টেকনাফ মডেল থানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান বাদী হয়ে দুইজনকে এজহার নামীয় আসামী করে গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন।’ অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসামিরা হলেন, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কেফায়েত আল্লাহ এবং রিসোর্ট মালিক নুর মোহাম্মদ খান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণের জন্য গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু কেয়া গাছ কাটা হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করলে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনার সত্যতা পায়।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন,

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় আমরা কাজ করছি। কেয়াগাছ দ্বীপের সম্পদ, পরিবেশবিরোধী কাজ পরিলক্ষিত হওয়ায় বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে।  ইসিএ এর আইন অনুযায়ী, এই দ্বীপে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যার মাধ্যমে দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি হয়। এখানে যেকোনো প্রকারের অবকাঠামো নির্মাণও নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়াও ২০২২ সালে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে সেন্ট মার্টিনকে মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া ঘোষণা করা হয় যেখানে ইট ও সিমেন্ট নেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

স্থানীয় প্রশাসনের পরিসংখ্যান বলছে,  ইতোমধ্যে ২৩৭টির বেশি হোটেল-রির্সোট-কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। একসময় দ্বীপ বৃক্ষ-গাছে পরিপূর্ণ থাকলে সময়ের সাথে সাথে তা কমতে শুরু করে, প্রবাল প্রজাতির সংখ্যা ১৪১ থেকে এখন ৪০ এ দাঁড়িয়েছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন, ‘ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় যথাযথ কার্যক্রম পরিচালনা না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।’

দীর্ঘ কয়েক যুগে দ্বীপে প্রবাল প্রজাতি ১৪১টি থেকে কমে ৪০টিতে নেমে এসেছে। কমেছে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী আব্দুল মালেক বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সেন্টমার্টিনে অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এতে করে দ্বীপ ও দ্বীপের মানুষেরা সুরক্ষিত থাকবে। ‘