ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পা হারানো রায়হানের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দেওয়া হবে ভাতা-ট্রাইসাইকেল সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান : হত্যা ও চুরির আসামিসহ গ্রেপ্তার ১১ উখিয়ায় ডাম্পারের ধাক্কায় রোহিঙ্গা শিশু নিহত, গাড়ি ও চালক আটক হোয়াইক্যংয়ে মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাবুল মিয়া গ্রেফতার টেকনাফের সীমান্ত এলাকা থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার গোলরক্ষক সাঈদীর উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে পেকুয়ায় মানববন্ধন কক্সবাজারে ‘ইউবিইএসটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নির্দেশ ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু: উখিয়ার সেই আলোচিত ঘটনায় তিন আসামি কারাগারে পালংখালী সীমান্তে রুবেল-খাইরুল বশর গ্রুপের গো’লা’গু’লি, নেপথ্যে ই’য়া’বা ছি’ন’তা’ই টেকনাফে অপহৃত কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো পাচারকারিদের ২০ আস্তানা সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলো আপিল বিভাগ তীব্র গরমে দেশজুড়ে লোডশেডিং, সংকট আরও বাড়ার শঙ্কা বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ৪০ ঘণ্টা পর হস্তান্তর সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিমত, আওয়ামী লীগ প্রশ্নে একমত সিটি কলেজ গেটে গুলিবিদ্ধ নির্মাণ শ্রমিক একরাম মারা গেছে
শূণ্যের কোঠায় বিদেশী পর্যটক

টাকা খরচের জায়গা নেই কক্সবাজারে!

সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীল জল দিগন্ত ছোঁবেন নাকি পাহাড়ের সবুজ মেখে হেঁটে যাবেন মেরিন ড্রাইভের পিচঢালা রাস্তা ধরে? আপনাকে মুগ্ধ করার জন্য প্রকৃতির এমন সব আয়োজনই আছে কক্সবাজার ঘিরে। কিন্তু তারপরও কেনো দেশের এই সর্ববৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র বিমূখ বিদেশি পর্যটকরা?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নেপাল থেকে আসা কিছু পর্যটক খুব আক্ষেপ করে বলছিলেন- কক্সবাজারে তারা টাকা খরচ করার কোনো জায়গায় পাননি। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামতেই বিনোদনহীন সময় পার করতে গিয়ে বিরক্ত হয়ে পড়েন তারা।

সারাবছরই দেশী পর্যটকের আনাগোনা থাকলেও বিদেশী পর্যটকের দেখায় পাওয়া যায়না কক্সবাজারে। এমনকি ঠিক কি পরিমাণ বিদেশী পর্যটক এখানে আসেন, তার কোনো হিসেব নেই প্রশাসনের কাছে। খোঁজ নিয়ে এধরণের কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি সরকারি সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরে।

কক্সবাজারের তারকামানের হোটেল দি কক্স টুডের কর্মকর্তা আবু তালেব জানান, গত একবছরে তাদের হিসেবের খাতায় বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা একেবারেই শূণ্যের কোঠায়।

আবু তালেব বলেন, দিনের বেলায় মানুষ সমুদ্রে থাকেন কিন্তু রাতের বেলা বিনোদনের বড়ই অভাব কক্সবাজারে। যার ফলে এখানে আসতে চায়না বিদেশীরা।

পর্যটন উদ্যোক্তারা দুষলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কোনো পদক্ষেপ না থাকাকে। অথচ পর্যটন খাত থেকেই আয় করা যেতো বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন, কক্সবাজারের সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, বিদেশী পর্যটকদের যদি আকৃষ্ট করা যেতো আমাদের রেভিনিউ বেড়ে যেতো। বিদেশী পর্যটক আনা না গেলে পর্যটন শিল্প কোনোভাবেই আগাবে না।

এমনকি দেশী পর্যটকরাও মনে করছেন শুধুমাত্র দিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অবলোকন ছাড়া আর কোনো বিনোদনের ব্যবস্থায় নেই কক্সবাজারে। তাই এখানে দরকার আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা। ঢাকার ব্যবসায়ী হামিদ হোসেন এসেছেন দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে। তিনি অনেকটা কটাক্ষের সুরেই বলেন, কক্সবাজারে কেউ মিনারেল ওয়াটার খেতে আসবেনা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদেশী পর্যটক টানার জন্য দরকার দেশের বাইরে ব্যপক প্রচার প্রচারণা। যা চোখেই পড়েনা। তাই যথেষ্ট সদিচ্ছার অভাবে মুখথুবড়ে পড়ছে এমন অপার সম্ভাবনা। কক্সবাজার সিটি কলেজের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক মঈনুল হাসান পলাশ মনে করেন, বিদেশী পর্যটক আনতে গেলে যে উদ্যোগ এবং আয়োজন দরকার তার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

এমনকি বিদেশী পর্যটক টানার ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে কতোটুকু আন্তরিকতা আছে তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্যুরিজম বিভাগের এই শিক্ষক।

এছাড়াও সৈকতজুড়ে নানা অনিয়ম অব্যবস্থ্যাপনা যেনো রুটিনে পরিনত হয়েছে। ময়লা আবর্জনার পাশাপাশি বালিয়াড়ি ব্যবহার করেই গড়ে উঠেছে বিশাল ব্যবসায়ীক সিন্ডিকেট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক কারনে কূটনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। কিন্তু এতো অপার সম্ভাবনা কেনো কাজে আসছেনা সেই প্রশ্ন নিয়েই নিতে হবে আগামীর পদক্ষেপ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পা হারানো রায়হানের পাশে উপজেলা প্রশাসন, দেওয়া হবে ভাতা-ট্রাইসাইকেল

শূণ্যের কোঠায় বিদেশী পর্যটক

টাকা খরচের জায়গা নেই কক্সবাজারে!

আপডেট সময় : ০১:০৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

সাগরের ঢেউয়ে চেপে নীল জল দিগন্ত ছোঁবেন নাকি পাহাড়ের সবুজ মেখে হেঁটে যাবেন মেরিন ড্রাইভের পিচঢালা রাস্তা ধরে? আপনাকে মুগ্ধ করার জন্য প্রকৃতির এমন সব আয়োজনই আছে কক্সবাজার ঘিরে। কিন্তু তারপরও কেনো দেশের এই সর্ববৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র বিমূখ বিদেশি পর্যটকরা?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নেপাল থেকে আসা কিছু পর্যটক খুব আক্ষেপ করে বলছিলেন- কক্সবাজারে তারা টাকা খরচ করার কোনো জায়গায় পাননি। বিশেষ করে সন্ধ্যা নামতেই বিনোদনহীন সময় পার করতে গিয়ে বিরক্ত হয়ে পড়েন তারা।

সারাবছরই দেশী পর্যটকের আনাগোনা থাকলেও বিদেশী পর্যটকের দেখায় পাওয়া যায়না কক্সবাজারে। এমনকি ঠিক কি পরিমাণ বিদেশী পর্যটক এখানে আসেন, তার কোনো হিসেব নেই প্রশাসনের কাছে। খোঁজ নিয়ে এধরণের কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি সরকারি সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরে।

কক্সবাজারের তারকামানের হোটেল দি কক্স টুডের কর্মকর্তা আবু তালেব জানান, গত একবছরে তাদের হিসেবের খাতায় বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা একেবারেই শূণ্যের কোঠায়।

আবু তালেব বলেন, দিনের বেলায় মানুষ সমুদ্রে থাকেন কিন্তু রাতের বেলা বিনোদনের বড়ই অভাব কক্সবাজারে। যার ফলে এখানে আসতে চায়না বিদেশীরা।

পর্যটন উদ্যোক্তারা দুষলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কোনো পদক্ষেপ না থাকাকে। অথচ পর্যটন খাত থেকেই আয় করা যেতো বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন, কক্সবাজারের সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, বিদেশী পর্যটকদের যদি আকৃষ্ট করা যেতো আমাদের রেভিনিউ বেড়ে যেতো। বিদেশী পর্যটক আনা না গেলে পর্যটন শিল্প কোনোভাবেই আগাবে না।

এমনকি দেশী পর্যটকরাও মনে করছেন শুধুমাত্র দিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অবলোকন ছাড়া আর কোনো বিনোদনের ব্যবস্থায় নেই কক্সবাজারে। তাই এখানে দরকার আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা। ঢাকার ব্যবসায়ী হামিদ হোসেন এসেছেন দুই বন্ধুকে সাথে নিয়ে। তিনি অনেকটা কটাক্ষের সুরেই বলেন, কক্সবাজারে কেউ মিনারেল ওয়াটার খেতে আসবেনা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদেশী পর্যটক টানার জন্য দরকার দেশের বাইরে ব্যপক প্রচার প্রচারণা। যা চোখেই পড়েনা। তাই যথেষ্ট সদিচ্ছার অভাবে মুখথুবড়ে পড়ছে এমন অপার সম্ভাবনা। কক্সবাজার সিটি কলেজের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক মঈনুল হাসান পলাশ মনে করেন, বিদেশী পর্যটক আনতে গেলে যে উদ্যোগ এবং আয়োজন দরকার তার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

এমনকি বিদেশী পর্যটক টানার ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে কতোটুকু আন্তরিকতা আছে তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্যুরিজম বিভাগের এই শিক্ষক।

এছাড়াও সৈকতজুড়ে নানা অনিয়ম অব্যবস্থ্যাপনা যেনো রুটিনে পরিনত হয়েছে। ময়লা আবর্জনার পাশাপাশি বালিয়াড়ি ব্যবহার করেই গড়ে উঠেছে বিশাল ব্যবসায়ীক সিন্ডিকেট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভৌগোলিক কারনে কূটনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন গন্তব্য। কিন্তু এতো অপার সম্ভাবনা কেনো কাজে আসছেনা সেই প্রশ্ন নিয়েই নিতে হবে আগামীর পদক্ষেপ।