ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আটক, ৭২ হাজার ইয়াবা ও ১৫ লিটার মদ উদ্ধার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জার্মানির সমর্থক: জানালেন ছেলে বিসিবি পরিচালক সাঈদ ইব্রাহীম ​ উন্মাদনারও বাস্তবতা আছে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোর চায় চীন হেরোইন ম্যানেজ হয়ে আটা-ময়দা হয়ে যায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে মাদকবিরোধী র‍্যালী, মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর শোক হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’ সরকার মৌলিক পরিবর্তনের দাবিকে অগ্রাহ্য করছে : শফিকুর রহমান কারা উঠল শেষ বত্রিশে, বাদ পড়ল কারা আজ পবিত্র আশুরা টেকনাফে মাছের ঘের থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা দেশে মোট গাঁজাখোর ৬১ লাখ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে কাজ করছে সরকার: নাইক্ষ্যংছড়িতে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু লামা পৌরসভার ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা
একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যু

যেসব কারণে ঘটতে পারে এই দুর্ঘটনা

লেভেল ক্রসিং
নেই গার্ড
নেই গেইট বার

কক্সবাজারের রামুর রশিদনগর এলাকায় রেললাইন ও ক্রসিং গুলোতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। সর্বশেষ শনিবার দুপুরে একই পরিবারের তিনজনসহ মারা গেছে চার জন।

শনিবারের ঘটনায় দেখা গেছে সিএনজি অটোরিকশাটিকে ট্রেনের সামনের অংশ টেনে নিয়ে গেছে অনেকদূর পর্যটন।

রশিদনগরের স্থানীয় ইউপি সদস্য বদি আলম বলেন, অটোরিকশাটি রশিদনগর রেলক্রসিং পেরিয়ে রেল লাইনের উপর উঠে পড়লে কক্সবাজার এক্সপ্রেস সেটিকে ধাক্কা দেয়।

“এ সময় অটোরিকশাটি ট্রেনের সামনের অংশে আটকে গেলে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় ট্রেন। এতে নিহতদের দেহ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে পড়ে।”

রেলওয়ের রামু স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আক্তার হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনাস্থল আমার স্টেশন থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। সম্ভবত এটি একটি লেভেল ক্রসিং।

“লেভেল ক্রসিংগুলো ছোটো হওয়ায় এখানে কোনো গেইট বা ব্যারিয়ার থাকে না। তবে সতর্কীকরণ নির্দেশনা বোর্ড লাগানো থাকে। গেইট ব্যারিয়ার থাকে বড় ক্রসিংগুলোতে।”

রামুর যেই ক্রসিংটিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে কোনো গার্ড ও গেইট বার না থাকার কথা জানিয়েছে সেখানকার স্থানীয়রা। স্থানীয় সাংবাদিক আবুল কাসেম জানান, এই ক্রসিংয়ে এসব কিছুই নেই। তাই ঘটছে দুর্ঘটনা।

রামু রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আক্তার হোসেন জানান, ট্রেনের ইঞ্জিনের কাছাকাছি থাকলে রেললাইনের উপর থাকা ধাতব বস্তু অনেক সময় সরানো যায়না। শনিবার দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজি অটোরিকশাটিও একারণে সরে যেতে পারেনি হতে পারে।

বারবার দুর্ঘটনা ঘটায় এই ক্রসিং গুলোতে গার্ড ও গেইট বার দেয়ার বিষয়ে উর্ধতন মহলে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান এই রেলওয়ে কর্মকর্তা।

এদিকে এই দুর্ঘটনার পর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যে চলে যায়। কিন্তু রামুর পানিরছড়া এলাকায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস আটকে রাখেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

রামুর স্থানীয়রা দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী তোলে এসময়। রামু থানার ওসি তৈয়বুর রহমান তখন বিষয়টি নিয়ে উপর মহলে জানানোর আশ্বাস দিতে দেখা গেছে।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে র‍্যাব পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে দেন স্থানীয়রা। আড়াই ঘন্টা দেরীতে ট্রেনটি কক্সবাজার পৌঁছেছে বলেও জানান সহকারী স্টেশন মাস্টার আক্তার হোসেন।

শনিবার বেলা দেড়টার দিকে রামুর রশিদনগর এলাকার রেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রামু থানার ওসি তৈয়বুর রহমান।

এতে নিহতরা হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব গোমাতলী এলাকার বাসিন্দা রেনু আরা (৩৫), তার বোন আসমা আরা (১৩), রেনু আরার তিন বছর বয়সী এক ছেলে আশেক উল্লাহ ও অটোরিকশার চালক ঈদগাঁও মেহেরঘোনা এলাকার ছৈয়দ নুরের ছেলে হাবিব উল্লাহ (৪০)।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে বিজিবি’র অভিযানে ২ জন আটক, ৭২ হাজার ইয়াবা ও ১৫ লিটার মদ উদ্ধার

একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যু

যেসব কারণে ঘটতে পারে এই দুর্ঘটনা

আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

লেভেল ক্রসিং
নেই গার্ড
নেই গেইট বার

কক্সবাজারের রামুর রশিদনগর এলাকায় রেললাইন ও ক্রসিং গুলোতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। সর্বশেষ শনিবার দুপুরে একই পরিবারের তিনজনসহ মারা গেছে চার জন।

শনিবারের ঘটনায় দেখা গেছে সিএনজি অটোরিকশাটিকে ট্রেনের সামনের অংশ টেনে নিয়ে গেছে অনেকদূর পর্যটন।

রশিদনগরের স্থানীয় ইউপি সদস্য বদি আলম বলেন, অটোরিকশাটি রশিদনগর রেলক্রসিং পেরিয়ে রেল লাইনের উপর উঠে পড়লে কক্সবাজার এক্সপ্রেস সেটিকে ধাক্কা দেয়।

“এ সময় অটোরিকশাটি ট্রেনের সামনের অংশে আটকে গেলে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় ট্রেন। এতে নিহতদের দেহ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে পড়ে।”

রেলওয়ের রামু স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আক্তার হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনাস্থল আমার স্টেশন থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। সম্ভবত এটি একটি লেভেল ক্রসিং।

“লেভেল ক্রসিংগুলো ছোটো হওয়ায় এখানে কোনো গেইট বা ব্যারিয়ার থাকে না। তবে সতর্কীকরণ নির্দেশনা বোর্ড লাগানো থাকে। গেইট ব্যারিয়ার থাকে বড় ক্রসিংগুলোতে।”

রামুর যেই ক্রসিংটিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে কোনো গার্ড ও গেইট বার না থাকার কথা জানিয়েছে সেখানকার স্থানীয়রা। স্থানীয় সাংবাদিক আবুল কাসেম জানান, এই ক্রসিংয়ে এসব কিছুই নেই। তাই ঘটছে দুর্ঘটনা।

রামু রেলস্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আক্তার হোসেন জানান, ট্রেনের ইঞ্জিনের কাছাকাছি থাকলে রেললাইনের উপর থাকা ধাতব বস্তু অনেক সময় সরানো যায়না। শনিবার দুর্ঘটনা কবলিত সিএনজি অটোরিকশাটিও একারণে সরে যেতে পারেনি হতে পারে।

বারবার দুর্ঘটনা ঘটায় এই ক্রসিং গুলোতে গার্ড ও গেইট বার দেয়ার বিষয়ে উর্ধতন মহলে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান এই রেলওয়ে কর্মকর্তা।

এদিকে এই দুর্ঘটনার পর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যে চলে যায়। কিন্তু রামুর পানিরছড়া এলাকায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস আটকে রাখেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

রামুর স্থানীয়রা দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী তোলে এসময়। রামু থানার ওসি তৈয়বুর রহমান তখন বিষয়টি নিয়ে উপর মহলে জানানোর আশ্বাস দিতে দেখা গেছে।

এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে র‍্যাব পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে দেন স্থানীয়রা। আড়াই ঘন্টা দেরীতে ট্রেনটি কক্সবাজার পৌঁছেছে বলেও জানান সহকারী স্টেশন মাস্টার আক্তার হোসেন।

শনিবার বেলা দেড়টার দিকে রামুর রশিদনগর এলাকার রেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রামু থানার ওসি তৈয়বুর রহমান।

এতে নিহতরা হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব গোমাতলী এলাকার বাসিন্দা রেনু আরা (৩৫), তার বোন আসমা আরা (১৩), রেনু আরার তিন বছর বয়সী এক ছেলে আশেক উল্লাহ ও অটোরিকশার চালক ঈদগাঁও মেহেরঘোনা এলাকার ছৈয়দ নুরের ছেলে হাবিব উল্লাহ (৪০)।