ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু, এক মাসে দেওয়া হবে আরও ৩৫ লাখ প্রবাসীদের পরিবার নিয়ে সৌদি থাকার সুযোগ সাগরে লঘুচাপ, টানা বৃষ্টির আভাস দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী

“মা হয়তো মারা গেছেন”- সূচীর ছেলের মন্তব্যের পর যা জানালো মায়ানমারের জান্তা সরকার

  • টিটিএন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • 734

মা কবে মারা গেলেন, সেই বিষয়ে হয়তো জানতেও পারবো না বলে মিয়ানমারের কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ছেলে উদ্বেগ প্রকাশের পরদিন দেশটির জান্তা সরকার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মঙ্গলবার জান্তার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আটক সাবেক নেত্রী অং সান সু চি ‍সুস্থ আছেন।

এর আগে, সোমবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুচির ছেলে কিম আরিস বলেছিলেন, ৮০ বছর বয়সী মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি খুব কম তথ্য পাচ্ছেন এবং আশঙ্কা করছেন—তিনি হয়তো জানতেই পারবেন না, মা কবে মারা গেলেন।

রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, মায়ের সঙ্গে তিনি বছরের পর বছর ধরে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে সু চি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তার হৃদ্‌যন্ত্র, হাড় ও মাড়ির সমস্যার বিষয়ে কেবল বিচ্ছিন্ন এবং পরোক্ষ কিছু তথ্যই তিনি পেয়েছেন। মিয়ানমারের এই নেত্রী রাজধানী নেইপিদোতে আটকে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সাক্ষাৎকারে কিম আরিস বলেন, ‘‘তার মায়ের বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা রয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে কেউ দেখেনি। তার আইনজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরিবার তো দূর। আমার জানা মতে, তিনি ইতোমধ্যে মারা গেছেন—এমনও হতে পারে।’’

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিতিশীলতা চলছে। সামরিক ওই অভ্যুত্থান মিয়ানমারে সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা করেছে; যা দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

নির্বাচনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সু চিকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের আদালত। যদিও মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী এই নেত্রী তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জান্তা-নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার ডিজিটাল নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডাও অং সান সু চি ভালো আছেন। সাবেক নেত্রীর ক্ষেত্রে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা হলেও বিবৃতিতে তার শারীরিক অবস্থার কোনও প্রমাণ কিংবা বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

জান্তার এই বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে কিম আরিসের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আরিস বলেন, ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া কয়েক ধাপের নির্বাচন তার মায়ের দুর্দশা লাঘবের একটি সুযোগ এনে দিতে পারে। যদিও বহু বিদেশি সরকার এই নির্বাচন সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি বলেন, ভোটের আগে সমালোচকদের শান্ত করতে সামরিক বাহিনী সু চিকে মুক্তি বা গৃহবন্দী করতে পারে—এমন প্রত্যাশা করছেন তিনি। তবে জান্তা অভিযোগ করে বলেছে, আরিস নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন—যা ২০২০ সালের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন; সে সময় সামরিক বাহিনী সু চির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তোলে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারে শিগগির অনুষ্ঠিতব্য অবাধ ও সুষ্ঠু বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য এই মনগড়া গল্প সময়মতো সাজিয়ে ছড়ানো হয়েছে। 
মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এখনও বিলুপ্ত রয়েছে এবং অন্য কয়েকটি জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদরাসা কমিটি নিয়ে বিরোধ, শিক্ষককে পিটিয়ে আহত

“মা হয়তো মারা গেছেন”- সূচীর ছেলের মন্তব্যের পর যা জানালো মায়ানমারের জান্তা সরকার

আপডেট সময় : ০৯:২০:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

মা কবে মারা গেলেন, সেই বিষয়ে হয়তো জানতেও পারবো না বলে মিয়ানমারের কারাবন্দী গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির ছেলে উদ্বেগ প্রকাশের পরদিন দেশটির জান্তা সরকার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মঙ্গলবার জান্তার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আটক সাবেক নেত্রী অং সান সু চি ‍সুস্থ আছেন।

এর আগে, সোমবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুচির ছেলে কিম আরিস বলেছিলেন, ৮০ বছর বয়সী মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি খুব কম তথ্য পাচ্ছেন এবং আশঙ্কা করছেন—তিনি হয়তো জানতেই পারবেন না, মা কবে মারা গেলেন।

রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, মায়ের সঙ্গে তিনি বছরের পর বছর ধরে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে সু চি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তার হৃদ্‌যন্ত্র, হাড় ও মাড়ির সমস্যার বিষয়ে কেবল বিচ্ছিন্ন এবং পরোক্ষ কিছু তথ্যই তিনি পেয়েছেন। মিয়ানমারের এই নেত্রী রাজধানী নেইপিদোতে আটকে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সাক্ষাৎকারে কিম আরিস বলেন, ‘‘তার মায়ের বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা রয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে কেউ দেখেনি। তার আইনজীবীদের সঙ্গেও যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরিবার তো দূর। আমার জানা মতে, তিনি ইতোমধ্যে মারা গেছেন—এমনও হতে পারে।’’

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিতিশীলতা চলছে। সামরিক ওই অভ্যুত্থান মিয়ানমারে সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা করেছে; যা দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে।

নির্বাচনে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে সু চিকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের আদালত। যদিও মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী এই নেত্রী তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জান্তা-নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার ডিজিটাল নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডাও অং সান সু চি ভালো আছেন। সাবেক নেত্রীর ক্ষেত্রে সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার করা হলেও বিবৃতিতে তার শারীরিক অবস্থার কোনও প্রমাণ কিংবা বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

জান্তার এই বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে কিম আরিসের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

আরিস বলেন, ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া কয়েক ধাপের নির্বাচন তার মায়ের দুর্দশা লাঘবের একটি সুযোগ এনে দিতে পারে। যদিও বহু বিদেশি সরকার এই নির্বাচন সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি বলেন, ভোটের আগে সমালোচকদের শান্ত করতে সামরিক বাহিনী সু চিকে মুক্তি বা গৃহবন্দী করতে পারে—এমন প্রত্যাশা করছেন তিনি। তবে জান্তা অভিযোগ করে বলেছে, আরিস নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছেন—যা ২০২০ সালের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন; সে সময় সামরিক বাহিনী সু চির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তোলে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারে শিগগির অনুষ্ঠিতব্য অবাধ ও সুষ্ঠু বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য এই মনগড়া গল্প সময়মতো সাজিয়ে ছড়ানো হয়েছে। 
মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এখনও বিলুপ্ত রয়েছে এবং অন্য কয়েকটি জান্তাবিরোধী রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স।