ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ঈদগাঁও নদীতে মিলল পল্লব দে’র মরদেহ মহেশখালীতে মাইকিং করে বনকর্মীদের উপর হামলা: আহত একাধিক আর্জেন্টিনাকে ‘কাঁদানো’ রেনার্ড আবার আসছেন বিশ্বকাপে চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত পরিবার বলছে বলাৎকার করে হ’ত্যা : চকরিয়ায় নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ রামুতে গোয়ালঘরের ময়লার স্তূপ থেকে অস্ত্র উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে সৌদিতে দেখা গেছে মুহাররমের চাঁদ, শুরু হলো ১৪৪৮ হিজরি নেইমারকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল ব্রাজিল প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’

মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাতিলের দাবিতে গণপ্রতিবাদ সমাবেশ সোমবার

মহেশখালীকে শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চলে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারের প্রণীত “মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা)” সংক্রান্ত অধ্যাদেশকে স্থানীয় জনগণ চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই অধ্যাদেশকে মহেশখালীর সচেতন নাগরিকরা স্থানীয় সমাজ, পরিবেশ, জীবন-জীবিকা ও প্রজন্মান্তরের অস্তিত্বের উপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।

মহেশখালীর তরুণদের উদ্যোগে আগামী সোমবার, ২৮ জুলাই সকাল ১০টায় এক গণপ্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সমাবেশটি মহেশখালীবাসীর অস্তিত্ব রক্ষায় একটি পদক্ষেপ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে।

মহেশখালী রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আব্দুল মান্নান রানা বলেন, “মহেশখালী শুধু একটি দ্বীপ নয়—এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চল। কৃষি, মৎস্য, লবণ ও পানচাষের উপর নির্ভর করে এখানকার প্রায় ৫ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা। সরকারের মিডা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই ঐতিহ্যবাহী ও প্রাকৃতিক জীবনব্যবস্থার উপর এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।”

আরেক সংগঠক রুহুল আমিন বলেন,

“মিডা প্রকল্পের বাস্তবায়ন মানে মহেশখালীতে দেশি-বিদেশি কর্পোরেটদের দখলদারিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা। এতে বাস্তুচ্যুত হবে হাজারো পরিবার, হারাবে নিজেদের ভূমি ও পরিচয়। উন্নয়নের নামে উপকৃত হবে কেবল কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও কর্পোরেট গোষ্ঠী—না কৃষক, না জেলে, না সাধারণ মানুষ। এই শোষণের রূপ অতীতেও আমরা ব্রিটিশদের সময় দেখেছি।”

আরেক সংগঠক আবদু রশিদ মানিক, মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নামে মহেশখালীর মানুষকে ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মহেশখালীর বাপ-দাদার কবরস্থান সহ সবগুলো সম্পত্তি মিডা প্রকল্পের নামে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর, এসপিএম, এলএনজি ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের কারণে মহেশখালীর প্রাণ-প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত। এখন মিডার নামে মহেশখালীকে ধ্বংসের পরিকল্পনা করছে সরকার। আমরা এটা বাতিলের দাবিতে সোমবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছি।

আরেক সংগঠক আরিফ উল্লাহ বলেন,

“মহেশখালীর অস্তিত্ব, পরিবেশ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল করা এখন সময়ের দাবি। তাই আসন্ন গণপ্রতিবাদ সমাবেশে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।”

মহেশখালীবাসীর পক্ষ থেকে এই আন্দোলন কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প বিরোধিতা নয়—এটি এক জীবন্ত প্রতিবাদ, এক অস্তিত্ব রক্ষার ডাক।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট

মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাতিলের দাবিতে গণপ্রতিবাদ সমাবেশ সোমবার

আপডেট সময় : ১০:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ জুলাই ২০২৫

মহেশখালীকে শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চলে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারের প্রণীত “মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা)” সংক্রান্ত অধ্যাদেশকে স্থানীয় জনগণ চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই অধ্যাদেশকে মহেশখালীর সচেতন নাগরিকরা স্থানীয় সমাজ, পরিবেশ, জীবন-জীবিকা ও প্রজন্মান্তরের অস্তিত্বের উপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।

মহেশখালীর তরুণদের উদ্যোগে আগামী সোমবার, ২৮ জুলাই সকাল ১০টায় এক গণপ্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সমাবেশটি মহেশখালীবাসীর অস্তিত্ব রক্ষায় একটি পদক্ষেপ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে।

মহেশখালী রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আব্দুল মান্নান রানা বলেন, “মহেশখালী শুধু একটি দ্বীপ নয়—এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চল। কৃষি, মৎস্য, লবণ ও পানচাষের উপর নির্ভর করে এখানকার প্রায় ৫ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা। সরকারের মিডা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই ঐতিহ্যবাহী ও প্রাকৃতিক জীবনব্যবস্থার উপর এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।”

আরেক সংগঠক রুহুল আমিন বলেন,

“মিডা প্রকল্পের বাস্তবায়ন মানে মহেশখালীতে দেশি-বিদেশি কর্পোরেটদের দখলদারিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা। এতে বাস্তুচ্যুত হবে হাজারো পরিবার, হারাবে নিজেদের ভূমি ও পরিচয়। উন্নয়নের নামে উপকৃত হবে কেবল কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও কর্পোরেট গোষ্ঠী—না কৃষক, না জেলে, না সাধারণ মানুষ। এই শোষণের রূপ অতীতেও আমরা ব্রিটিশদের সময় দেখেছি।”

আরেক সংগঠক আবদু রশিদ মানিক, মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নামে মহেশখালীর মানুষকে ভূমির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মহেশখালীর বাপ-দাদার কবরস্থান সহ সবগুলো সম্পত্তি মিডা প্রকল্পের নামে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাতারবাড়ি কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর, এসপিএম, এলএনজি ও অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের কারণে মহেশখালীর প্রাণ-প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত। এখন মিডার নামে মহেশখালীকে ধ্বংসের পরিকল্পনা করছে সরকার। আমরা এটা বাতিলের দাবিতে সোমবার আন্দোলনের ডাক দিয়েছি।

আরেক সংগঠক আরিফ উল্লাহ বলেন,

“মহেশখালীর অস্তিত্ব, পরিবেশ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল করা এখন সময়ের দাবি। তাই আসন্ন গণপ্রতিবাদ সমাবেশে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাই।”

মহেশখালীবাসীর পক্ষ থেকে এই আন্দোলন কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প বিরোধিতা নয়—এটি এক জীবন্ত প্রতিবাদ, এক অস্তিত্ব রক্ষার ডাক।