ঢাকা ০৫:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লোহাগাড়ায় মন্দির সংলগ্ন পুকুর থেকে তবলা বাদক অরুণ জলদাশের মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, উদ্ধার ১৮ নতুন দায়িত্বে ৩ মন্ত্রী ‘You have your home! We miss our home!’: মার্কিন বিশেষ দূতের সামনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আকুতি নতুন বাহারছড়ার মোস্তাক আহম্মদ আর নেই : জানাজা বাদ আছর ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৫ আগস্ট রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক ড. কামরুজ্জামান সিনহা হত্যা মামলা: ছয় বছর পরও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আটক যুবক কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নোমানের গাড়িচালক দাবি স্থানীয়দের হলদিয়াপালং যুবদলের কমিটি বিতর্ক: সাত সদস্যের কমিটিতে মাদক মামলার আসামি! সড়ক নয়, যেন গর্তের সারি— লোহাগাড়ার দরবেশহাট ডিসি সড়কে সীমাহীন ভোগান্তি জানাজায় কান্নার কলরবে ইয়াসেরের বিদায় লতিফ সিদ্দিকী বললেন, ‘আমাকে ফাঁসি দিয়ে দেন’ চার-পাঁচ মাসের ম‌ন্ত্রিত্বের অ‌ভিজ্ঞতায় দে‌খে‌ছি, কিছুই বদলায়নি: মির্জা ফখরুল।

মহেশখালীর ধলঘাটার ফাটাঘোনা ও মিলঘোনা উন্মুক্ত নিলামের দাবি, সংঘর্ষের আশঙ্কায় জমির মালিকরা

মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের ফাটাঘোনা ও মিলঘোনার জমি উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জমির মালিকরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হলে ফাটাঘোনা ও মিলঘোনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ছয় মাসের জন্য ঘোনা দুটি নিলাম দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, যদিও প্রতিবছর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়, এবার একটি সিন্ডিকেট সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ সময় তারা অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জমির মালিক সালাহউদ্দিন বাবুল অভিযোগ করে বলেন, গত দুই বছর ধরে ফাটাঘোনা ও মিলঘোনার প্রায় ৩০০ কানি জমি নিলাম ছাড়াই অন্যরা ভোগদখলে রেখেছে। এবারও একইভাবে নিলাম ছাড়াই জমি দখলে নেওয়া হয়েছে। তিনি স্বচ্ছ নিলাম প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জমির মালিক জানান, এই দুই ঘোনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ অবস্থায় কোনো একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়া হলে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে অভিযোগকারীরা অভিযোগের তীর ছুড়েছেন আতাহার ইকবাল দাদুলের বিরুদ্ধে। দাদুল বর্তমানে ধলঘাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তার বিরুদ্ধে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নিলাম ছাড়াই ঘোনা দুটি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে দাদুল মুঠোফোনে টিটিএনকে জানান, জমির মালিকদের অধিকাংশই নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান না। সে কারণে একটি পক্ষ জমিটি ইজারা নিয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে অনেক জমির মালিক তাদের প্রাপ্য অর্থ উত্তোলন করে নিয়েছেন।

এদিকে ঘোনা দুটি উন্মুক্ত নিলামের দাবিতে জমির মালিক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এবং লিয়াকত আলী মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উন্মুক্ত নিলাম আয়োজনের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহাদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, কমিটির সদস্যসচিব ও ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সময় দে নির্জর জানান, আগামী ২৫ জুন নিলামের দিনধার্য্য ছিল। তবে সেটি বাতিল করা হয়েছে। কেন বাতিল করা হয়েছে,এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিলাম প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

লোহাগাড়ায় মন্দির সংলগ্ন পুকুর থেকে তবলা বাদক অরুণ জলদাশের মরদেহ উদ্ধার

মহেশখালীর ধলঘাটার ফাটাঘোনা ও মিলঘোনা উন্মুক্ত নিলামের দাবি, সংঘর্ষের আশঙ্কায় জমির মালিকরা

আপডেট সময় : ১১:২৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা ইউনিয়নের ফাটাঘোনা ও মিলঘোনার জমি উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ইজারা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জমির মালিকরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা হলে ফাটাঘোনা ও মিলঘোনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ছয় মাসের জন্য ঘোনা দুটি নিলাম দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, যদিও প্রতিবছর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়, এবার একটি সিন্ডিকেট সেটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ সময় তারা অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জমির মালিক সালাহউদ্দিন বাবুল অভিযোগ করে বলেন, গত দুই বছর ধরে ফাটাঘোনা ও মিলঘোনার প্রায় ৩০০ কানি জমি নিলাম ছাড়াই অন্যরা ভোগদখলে রেখেছে। এবারও একইভাবে নিলাম ছাড়াই জমি দখলে নেওয়া হয়েছে। তিনি স্বচ্ছ নিলাম প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জমির মালিক জানান, এই দুই ঘোনার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ অবস্থায় কোনো একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়া হলে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

এদিকে অভিযোগকারীরা অভিযোগের তীর ছুড়েছেন আতাহার ইকবাল দাদুলের বিরুদ্ধে। দাদুল বর্তমানে ধলঘাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তার বিরুদ্ধে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নিলাম ছাড়াই ঘোনা দুটি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে দাদুল মুঠোফোনে টিটিএনকে জানান, জমির মালিকদের অধিকাংশই নিলাম প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চান না। সে কারণে একটি পক্ষ জমিটি ইজারা নিয়েছে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে অনেক জমির মালিক তাদের প্রাপ্য অর্থ উত্তোলন করে নিয়েছেন।

এদিকে ঘোনা দুটি উন্মুক্ত নিলামের দাবিতে জমির মালিক অ্যাডভোকেট মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এবং লিয়াকত আলী মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উন্মুক্ত নিলাম আয়োজনের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির আহ্বায়ক মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহাদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, কমিটির সদস্যসচিব ও ধলঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সময় দে নির্জর জানান, আগামী ২৫ জুন নিলামের দিনধার্য্য ছিল। তবে সেটি বাতিল করা হয়েছে। কেন বাতিল করা হয়েছে,এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিলাম প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।