ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর ঈদগাঁও নদীতে মিলল পল্লব দে’র মরদেহ মহেশখালীতে মাইকিং করে বনকর্মীদের উপর হামলা: আহত একাধিক আর্জেন্টিনাকে ‘কাঁদানো’ রেনার্ড আবার আসছেন বিশ্বকাপে চিত্রচিন্তার প্রথম জাতীয় আলোকচিত্র উৎসব সফলভাবে সমাপ্ত পরিবার বলছে বলাৎকার করে হ’ত্যা : চকরিয়ায় নিখোঁজের একদিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩ রামুতে গোয়ালঘরের ময়লার স্তূপ থেকে অস্ত্র উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে সৌদিতে দেখা গেছে মুহাররমের চাঁদ, শুরু হলো ১৪৪৮ হিজরি নেইমারকে নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল ব্রাজিল প্রতিবাদের পর বিদ্যুৎ পাচ্ছে কুতুপালংয়ের ৩ শ পরিবার, সিআইসির প্রত্যাহার দাবী বিনানোটিশে স্থানীয়দের ৩শ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি! নয়াবাজারে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অপহরণ চেষ্টার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ দাবি প্রতিপক্ষের কুতুবদিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’

মহেশখালীতে ‘উগ্রবাদীরা নারী ফুটবলারের পায়ের রগ কাটার’ অভিযোগ কতোটুকু সত্য?

  • কাব্য সৌরভ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • 794

‘মহেশখালীতে জাতীয় দলের নারী ফুটবলার পারভীন সুলতানার পায়ের রগ কেটে দিয়েছে উগ্রবাদীরা’- এমন সংবাদ আসে অনলাইন মাধ্যমে। সংবাদে এও উল্লেখ করা হয়, ‘নারী ফুটবলকে ইসলামে হারাম বলে ওই উগ্রবাদীরা পারভীনের বাম পায়ের রগ কেটে দেয়।’

যা নিয়ে নানান মাধ্যমে কথা উঠেছে। টিটিএন জানতে চেয়েছে এমন কোনো ঘটনা মহেশখালীতে ঘটেছে কি-না এবং নারী ফুটবলারের সাথে আসলে কি হয়েছিলো? সামগ্রিক বিষয়ে আমরা কথা বলি- স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে।

সেদিন কি হয়েছিলো?
চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল, মহেশখালীর কালামারছড়ার উত্তর নলবিলা গ্রাম। এই গ্রামে রাজনৈতিক কথা কাটাকাটির জেরধরে রশিদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে একই এলাকার অমিত ইকবাল ও তার ভাই কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, অভিযুক্তরা ফুটবলার পারভীন আক্তার পারুলের আপন ভাই।

এই ঘটনার তথ্য দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওসমান গনী জানান, নিহত ব্যক্তি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং অভিযুক্ত অমিত ইকবাল ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন।

অভিযুক্ত ও নিহতের প্রতিবেশী উত্তর নলবিলা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা, যারা এঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে (তাদের পরিচয় টিটিএনের কাছে সংরক্ষিত আছে) জানিয়েছেন, রশিদ আহমেদ এর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত অমিত ইকবাল ও কামরুল হাসানের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। উত্তেজিত জনতার মধ্যে প্রায় তিনশো মতো গ্রামবাসী ছিলো।

বাড়ির তিনপাশে টিন দিয়ে ঘেরা এমন একটি কক্ষ ভাংচুর চালানোর ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই টিনের কক্ষ থেকে অভিযুক্ত কামরুলকে বের করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। এসময় বাড়িতে অভিযুক্ত অমিত ইকবাল ও কামরুল হাসানের মা মোহছেনা বেগম, বোন পারভীন আকতার পারুল, তানিয়া আকতার টিপু, রুজিনা বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন বলেন, “কামরুল হাসানকে যখন বাড়ি থেকে মারধর করে বের করা হচ্ছিল তখন পারভীন একটি কক্ষে ঢুকতে গিয়ে টিনের দরজায় পা আটকে যেতে দেখি। তবে কতটুকু আঘাত হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত বলতে পারবো না।”

ইউপি সদস্য ওসমান গনীও বলেন, রশিদের হত্যার দিন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম, পুলিশও ছিলো। ঘটনার দিন পারভীন তার বাড়িতে কোথাও ব্যথা পেতে পারে।

“তবে তার পায়ের আঘাত কিংবা উগ্রবাদীরা তার পায়ের রগ কেটে দেয়ার মতো বিষয় আমি শুনিনি এবং জানিনা”- বলেন ওসমান গণি।

রশিদ আহমেদ নিহত হওয়ার পরদিন (১৫ এপ্রিল) তার স্ত্রী খুরশিদা বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ৫ নম্বর আসামি করা হয় প্রধান অভিযুক্ত অমিত ও কামরুলের বোন ফুটবলার পারভীন আকতার পারুলকে।

১৪ এপ্রিলের ঘটনার দিন থেকে পারভীন আক্তার পারুলের পরিবারকে আর ওই এলাকায় দেখতে পাননি প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ইউপি সদস্য ওসমান গণি জানান, সেদিন উত্তেজিত জনতার কেউ কেউ পারুলদের বাড়িঘর লুটপাট করেন।

ফুটবলার পারুলের অভিযোগ:
গত ৩ জুন স্থানীয় একটি  অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে পারভীন আকতার পারুল অভিযোগ করেন পারভেজ বাহিনীর প্রধান পারভেজসহ একাধিক সন্ত্রাসী তার ভাই ও বোনদের মারধর করে বাড়িঘর ভাংচুর করে, জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং পারুলের পায়ের রগ কেটে দেয়। এসময় সে আরো দাবী করে, ভারত থেকে ফুটবল খেলে আসার পর ৩৬ হাজার রুপি (ইন্ডিয়ান টাকা) বাড়িতে ছিলো, সন্ত্রাসীরা সে টাকা নিয়ে যায়। এরপূর্বে পারভীন একটি সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেছিলেন, তার বাড়ি থেকে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার রুপি নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

যা নিয়ে ঘটনার প্রায় একমাস পর ১৩ মে পারভীন আকতার পারুল বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মহেশখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর মামলা করেন। সে মামলায় আসামি করা হয়, নিহত রশিদ আহমেদ এর স্ত্রী খুরশিদা বেগমসহ তার পরিবারের একাধিক সদস্যদের। খুরশিদা বেগম তার স্বামী হত্যা মামলার বাদী।

মামলার এজাহার আমাদের হাতে এসেছে। সেখানে কোথাও উগ্রবাদীরা তার পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন এমন কথা লেখা নেই।

এসব বিষয়ে জানতে নারী ফুটবলার পারভীন আক্তার পারুলের সাথে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে টিটিএন। তার এবং তার পরিবারের একাধিক সদস্যের মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে পারুলের বড় বোন তানিয়া সুলতানা টিপু শুক্রবার সরাসরি কথা বলতে সম্মত হলেও পরে জানান চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তাই কিছু বলতে পারছেন না।

সম্প্রতি ২১ জুলাই বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ২০ নারী ফুটবল দল নেপাল কে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, মহেশখালীতে উগ্রবাদীরা নারী ফুটবলার পারভীনের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে বলে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে। যদিও ওইসব সংবাদে পারুল নিজে এমন অভিযোগ করেছেন বলে উল্লেখ নেই।

তবে এমন সংবাদে উত্তর নলবিলা গ্রামের স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মহেশখালীর উত্তর নলবিলা গ্রামের বাসিন্দা ঢাকা আরামবাগ ক্লাবের ফুটবলার সাকের আহমেদ বলেন, গ্রামের মাঠে খেলে আমরা জাতীয় ভাবে খেলছি। জাতীয় দলের ফুটবলার তৌহিদুল আলম সবুজও এই গ্রাম থেকে খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। আমাদের গ্রামে ফুটবলকে বাঁধা দেয় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, ভবিষ্যতেও আশা করি ঘটবে না।

পারভীন আকতার পারুলের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমিত বড়ুয়া জানান, ‘মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। পারভীন আহত হওয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট এখনো না পাওয়ায় তিনি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।

সুমিত বড়ুয়া বলেন, “এটি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট ঘটনা, উগ্রবাদীরা নারী ফুটবলারের পায়ের রগ কেটে দেয়ার বিষয়টি সত্য নয়”।

মহেশখালী থানার ওসি মঞ্জুরুল হক জানান, উগ্রবাদীরা নারী ফুটবলারের পায়ের রগ কেটে দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। অভিযোগকারী রশিদ হত্যা মামলার একজন আসামি। সে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা করেছেন দুইমাস আগে, তার তদন্ত চলছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাতারবাড়ী প্রকল্পে শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ, হাইকোর্টে রিট

মহেশখালীতে ‘উগ্রবাদীরা নারী ফুটবলারের পায়ের রগ কাটার’ অভিযোগ কতোটুকু সত্য?

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

‘মহেশখালীতে জাতীয় দলের নারী ফুটবলার পারভীন সুলতানার পায়ের রগ কেটে দিয়েছে উগ্রবাদীরা’- এমন সংবাদ আসে অনলাইন মাধ্যমে। সংবাদে এও উল্লেখ করা হয়, ‘নারী ফুটবলকে ইসলামে হারাম বলে ওই উগ্রবাদীরা পারভীনের বাম পায়ের রগ কেটে দেয়।’

যা নিয়ে নানান মাধ্যমে কথা উঠেছে। টিটিএন জানতে চেয়েছে এমন কোনো ঘটনা মহেশখালীতে ঘটেছে কি-না এবং নারী ফুটবলারের সাথে আসলে কি হয়েছিলো? সামগ্রিক বিষয়ে আমরা কথা বলি- স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে।

সেদিন কি হয়েছিলো?
চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল, মহেশখালীর কালামারছড়ার উত্তর নলবিলা গ্রাম। এই গ্রামে রাজনৈতিক কথা কাটাকাটির জেরধরে রশিদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠে একই এলাকার অমিত ইকবাল ও তার ভাই কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, অভিযুক্তরা ফুটবলার পারভীন আক্তার পারুলের আপন ভাই।

এই ঘটনার তথ্য দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওসমান গনী জানান, নিহত ব্যক্তি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং অভিযুক্ত অমিত ইকবাল ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন।

অভিযুক্ত ও নিহতের প্রতিবেশী উত্তর নলবিলা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা, যারা এঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে (তাদের পরিচয় টিটিএনের কাছে সংরক্ষিত আছে) জানিয়েছেন, রশিদ আহমেদ এর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত অমিত ইকবাল ও কামরুল হাসানের বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। উত্তেজিত জনতার মধ্যে প্রায় তিনশো মতো গ্রামবাসী ছিলো।

বাড়ির তিনপাশে টিন দিয়ে ঘেরা এমন একটি কক্ষ ভাংচুর চালানোর ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই টিনের কক্ষ থেকে অভিযুক্ত কামরুলকে বের করা হয়। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা। এসময় বাড়িতে অভিযুক্ত অমিত ইকবাল ও কামরুল হাসানের মা মোহছেনা বেগম, বোন পারভীন আকতার পারুল, তানিয়া আকতার টিপু, রুজিনা বেগমসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন বলেন, “কামরুল হাসানকে যখন বাড়ি থেকে মারধর করে বের করা হচ্ছিল তখন পারভীন একটি কক্ষে ঢুকতে গিয়ে টিনের দরজায় পা আটকে যেতে দেখি। তবে কতটুকু আঘাত হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত বলতে পারবো না।”

ইউপি সদস্য ওসমান গনীও বলেন, রশিদের হত্যার দিন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম, পুলিশও ছিলো। ঘটনার দিন পারভীন তার বাড়িতে কোথাও ব্যথা পেতে পারে।

“তবে তার পায়ের আঘাত কিংবা উগ্রবাদীরা তার পায়ের রগ কেটে দেয়ার মতো বিষয় আমি শুনিনি এবং জানিনা”- বলেন ওসমান গণি।

রশিদ আহমেদ নিহত হওয়ার পরদিন (১৫ এপ্রিল) তার স্ত্রী খুরশিদা বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ৫ নম্বর আসামি করা হয় প্রধান অভিযুক্ত অমিত ও কামরুলের বোন ফুটবলার পারভীন আকতার পারুলকে।

১৪ এপ্রিলের ঘটনার দিন থেকে পারভীন আক্তার পারুলের পরিবারকে আর ওই এলাকায় দেখতে পাননি প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।

তবে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ইউপি সদস্য ওসমান গণি জানান, সেদিন উত্তেজিত জনতার কেউ কেউ পারুলদের বাড়িঘর লুটপাট করেন।

ফুটবলার পারুলের অভিযোগ:
গত ৩ জুন স্থানীয় একটি  অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে পারভীন আকতার পারুল অভিযোগ করেন পারভেজ বাহিনীর প্রধান পারভেজসহ একাধিক সন্ত্রাসী তার ভাই ও বোনদের মারধর করে বাড়িঘর ভাংচুর করে, জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং পারুলের পায়ের রগ কেটে দেয়। এসময় সে আরো দাবী করে, ভারত থেকে ফুটবল খেলে আসার পর ৩৬ হাজার রুপি (ইন্ডিয়ান টাকা) বাড়িতে ছিলো, সন্ত্রাসীরা সে টাকা নিয়ে যায়। এরপূর্বে পারভীন একটি সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেছিলেন, তার বাড়ি থেকে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার রুপি নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

যা নিয়ে ঘটনার প্রায় একমাস পর ১৩ মে পারভীন আকতার পারুল বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মহেশখালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর মামলা করেন। সে মামলায় আসামি করা হয়, নিহত রশিদ আহমেদ এর স্ত্রী খুরশিদা বেগমসহ তার পরিবারের একাধিক সদস্যদের। খুরশিদা বেগম তার স্বামী হত্যা মামলার বাদী।

মামলার এজাহার আমাদের হাতে এসেছে। সেখানে কোথাও উগ্রবাদীরা তার পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন এমন কথা লেখা নেই।

এসব বিষয়ে জানতে নারী ফুটবলার পারভীন আক্তার পারুলের সাথে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে টিটিএন। তার এবং তার পরিবারের একাধিক সদস্যের মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে পারুলের বড় বোন তানিয়া সুলতানা টিপু শুক্রবার সরাসরি কথা বলতে সম্মত হলেও পরে জানান চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম যাচ্ছেন তাই কিছু বলতে পারছেন না।

সম্প্রতি ২১ জুলাই বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ২০ নারী ফুটবল দল নেপাল কে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, মহেশখালীতে উগ্রবাদীরা নারী ফুটবলার পারভীনের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে বলে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে। যদিও ওইসব সংবাদে পারুল নিজে এমন অভিযোগ করেছেন বলে উল্লেখ নেই।

তবে এমন সংবাদে উত্তর নলবিলা গ্রামের স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মহেশখালীর উত্তর নলবিলা গ্রামের বাসিন্দা ঢাকা আরামবাগ ক্লাবের ফুটবলার সাকের আহমেদ বলেন, গ্রামের মাঠে খেলে আমরা জাতীয় ভাবে খেলছি। জাতীয় দলের ফুটবলার তৌহিদুল আলম সবুজও এই গ্রাম থেকে খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। আমাদের গ্রামে ফুটবলকে বাঁধা দেয় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, ভবিষ্যতেও আশা করি ঘটবে না।

পারভীন আকতার পারুলের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহেশখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমিত বড়ুয়া জানান, ‘মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। পারভীন আহত হওয়ার মেডিক্যাল রিপোর্ট এখনো না পাওয়ায় তিনি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।

সুমিত বড়ুয়া বলেন, “এটি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট ঘটনা, উগ্রবাদীরা নারী ফুটবলারের পায়ের রগ কেটে দেয়ার বিষয়টি সত্য নয়”।

মহেশখালী থানার ওসি মঞ্জুরুল হক জানান, উগ্রবাদীরা নারী ফুটবলারের পায়ের রগ কেটে দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। অভিযোগকারী রশিদ হত্যা মামলার একজন আসামি। সে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা করেছেন দুইমাস আগে, তার তদন্ত চলছে।