ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ ৮ সপ্তাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ চলতি মাসে একাধিক লঘুচাপের আশঙ্কা, হতে পারে স্বল্পমেয়াদি বন্যা কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হবে খুরুশকুল, পিএমখালী,দ: মিঠাছড়ি, খুনিয়া পালং পুরো ইউনিয়ন আর ঝিলংজার কিছু অংশ সাহিত্যিকা পল্লীতে গোলাগুলির ঘটনায় আবুল মনসুর লুদুকে আটক করেছে পুলিশ সাহিত্যিকা পল্লীতে দুই পক্ষের গোলাগুলি, যুবক গুলিবিদ্ধ সুমাইয়ার মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত আরিফ-সোহেল বিমানবন্দরে আটক হ্নীলা স্টেশনের অগ্নিকাণ্ডে ওয়ালটন-ভিশন শোরুমসহ পুড়ে ছাই ৮ দোকান; আহত অন্তত ২০ টেকনাফের হ্নীলা স্টেশনে জামাল কমপ্লেক্সে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে নেপালের বন্যার্তদের পাশে কাঠমান্ডুর রোহিঙ্গারা, নিজেদের সংকটের মধ্যেও মানবিক সহায়তা চিঠি দিবসে নিঃসঙ্গ পড়ে আছে কক্সবাজারের ডাকবাক্স : নেই ডাকপিয়নের আনাগোনা মায়ের কোলে ফিরল চার মাস বয়সী মাহি, ৩ অপহরণকারী গ্রেফতার চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন সাংবাদিক ইলিয়াছ পেকুয়ায় মাছে বিষ প্রয়োগ করে বিক্রির অভিযোগে আটক ১ কক্সবাজারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন : গুরুত্ব পায় পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষার ইস্যু

বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নুরুল হক বীর প্রতীক মারা গেছেন

বীর মুক্তিযোদ্ধা, এস এম নুরুল হক (বীর প্রতীক)

মারা গেছেন। তিনি বুধবার রাত (আনুমানিক ২:৩০ মিনিটের সময়) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসিইউ তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বৃহস্পতিবার আছরের নামাজের পর, বাংলাবাজার ছুরুতিয়া মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নুরুল হক বীর প্রতীক।১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সারগোদা বিমানঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন।

১ জুন সেখান থেকে পালিয়ে দেশে চলে আসেন। ১১ জুন তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ১ নম্বর সেক্টরে রণকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হলে তিনি সেখানে ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৭ সালে এস এম নুরুল হক বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর নেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নুরুল হকের বাড়ি কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার মুক্তারকুল গ্রামে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী জাহান আরা বেগম, পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৭১ সালে বীর এই যুদ্ধা দেশের জন্য লড়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দেশকে রক্ষা করেছেন।

১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে একটি যুদ্ধবিমান (অটার) ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের ডিমাপুর বিমানঘাঁটি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বিমানে আছেন এস এম নুরুল হকসহ আরও তিনজন। অন্য দুজন বৈমানিক।

তাঁদের উদ্দেশ্য, পতেঙ্গায় অবস্থিত পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র তেল শোধনাগারটি ধ্বংস করে দেওয়া। মনে প্রচণ্ড সাহস আর উত্তেজনা নিয়ে তাঁরা এগিয়ে যাচ্ছেন চরম ঝুঁকিপূর্ণ ওই অপারেশন সফল করার জন্য। রাত দুইটার দিকে তাঁরা পতেঙ্গার কাছাকাছি পৌঁছে বিমান থেকে তেল শোধনাগারে হামলার জন্য রকেট, বোমা ও মেশিনগান প্রস্তুত করেন। পরিকল্পনামতো দ্রুতই তাঁরা কাজটি সেরে ফেলেন। পাকিস্তানি সেনারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের পলকে শোধনাগারটি দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। এরপর ওই যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে নিচ থেকে শুরু হয় পাকিস্তানি সেনাদের অবিরাম গুলিবর্ষণ। পাকিস্তানি সেনাদের বিমানবিধ্বংসী কামান থেকে ছোড়া মুহুর্মুহু গুলির মুখে বিমান চালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে সাগরপথ ধরে (বঙ্গোপসাগর) তা চলতে শুরু করে। তারপর ফেনী সীমান্ত দিয়ে ভারতের আসামের কোম্ভিগ্রাম বিমানঘাঁটিতে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। তখন ভোর পাঁচটা।

তথ্য সূত্র-প্রথম আলো

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নুরুল হক বীর প্রতীক মারা গেছেন

আপডেট সময় : ১২:২১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা, এস এম নুরুল হক (বীর প্রতীক)

মারা গেছেন। তিনি বুধবার রাত (আনুমানিক ২:৩০ মিনিটের সময়) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসিইউ তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বৃহস্পতিবার আছরের নামাজের পর, বাংলাবাজার ছুরুতিয়া মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে মরহুমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নুরুল হক বীর প্রতীক।১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সারগোদা বিমানঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন।

১ জুন সেখান থেকে পালিয়ে দেশে চলে আসেন। ১১ জুন তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ১ নম্বর সেক্টরে রণকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বিমানবাহিনী গঠিত হলে তিনি সেখানে ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৭ সালে এস এম নুরুল হক বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর নেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নুরুল হকের বাড়ি কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার মুক্তারকুল গ্রামে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী জাহান আরা বেগম, পাঁচ ছেলে ও তিন মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

১৯৭১ সালে বীর এই যুদ্ধা দেশের জন্য লড়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দেশকে রক্ষা করেছেন।

১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে একটি যুদ্ধবিমান (অটার) ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের ডিমাপুর বিমানঘাঁটি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বিমানে আছেন এস এম নুরুল হকসহ আরও তিনজন। অন্য দুজন বৈমানিক।

তাঁদের উদ্দেশ্য, পতেঙ্গায় অবস্থিত পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র তেল শোধনাগারটি ধ্বংস করে দেওয়া। মনে প্রচণ্ড সাহস আর উত্তেজনা নিয়ে তাঁরা এগিয়ে যাচ্ছেন চরম ঝুঁকিপূর্ণ ওই অপারেশন সফল করার জন্য। রাত দুইটার দিকে তাঁরা পতেঙ্গার কাছাকাছি পৌঁছে বিমান থেকে তেল শোধনাগারে হামলার জন্য রকেট, বোমা ও মেশিনগান প্রস্তুত করেন। পরিকল্পনামতো দ্রুতই তাঁরা কাজটি সেরে ফেলেন। পাকিস্তানি সেনারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই চোখের পলকে শোধনাগারটি দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। এরপর ওই যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে নিচ থেকে শুরু হয় পাকিস্তানি সেনাদের অবিরাম গুলিবর্ষণ। পাকিস্তানি সেনাদের বিমানবিধ্বংসী কামান থেকে ছোড়া মুহুর্মুহু গুলির মুখে বিমান চালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে সাগরপথ ধরে (বঙ্গোপসাগর) তা চলতে শুরু করে। তারপর ফেনী সীমান্ত দিয়ে ভারতের আসামের কোম্ভিগ্রাম বিমানঘাঁটিতে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। তখন ভোর পাঁচটা।

তথ্য সূত্র-প্রথম আলো