ঢাকা ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, দেশের জন্য- পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিপণের দাবিতে পাহাড়ে আটকে নির্যাতন, পরে উদ্ধার কক্সবাজারে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিকশা থেকে ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা ৫৪ বস্তা সার জব্দ, আটক ১ টেকনাফে কিশোরকে অপহরণ, ফোন করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ড নয়, স্লুইসগেট দেখভাল করবে স্থানীয় প্রশাসন : পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘুমের মাঝেই না ফেরার দেশে লোহাগাড়া থানার এসআই আজিজ ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট পেকুয়ায় শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঘর নির্মাণ সামগ্রী বিতরণ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রক্ত, আগুন আর ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে থমকে গিয়েছিল বাংলাদেশ ৫ মাস পূর্ণ করলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রাতে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড  ইয়ামালকে ‘ঘরে আটকে’ রাখতে চান স্কালোনি

বাঁকখালী তীরে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: সময়ের নির্মম অথচ বাস্তব প্রতিচ্ছবি..

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করতে চলছে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। দিনভর নদীর তীরে ভাঙনের শব্দে কেঁপে উঠছে এলাকা। বহু বছরের গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই পরিণত হচ্ছে ধ্বংসস্তূপে। ভাঙা দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ শোকে অশ্রু ফেলছে, কেউ আবার চিৎকার করে বলছে—“আমরা তো খতিয়ানভুক্ত জমির মালিক, ঘর না ভেঙে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন।”

এদিকে ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের প্রবল প্রতিরোধও চোখে পড়েছে। কেউ সড়ক অবরোধ করেছে, কেউ ঠেলাগাড়ি ফেলে পথ রুদ্ধ করেছে, আবার কেউ খননযন্ত্র ঘিরে দাঁড়িয়ে দিয়েছে প্রতিবাদের দেয়াল। অনেকের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে হতাশা—“রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেন, অথচ আমরা যারা এখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আছি, আমাদেরই উচ্ছেদ করছেন। পুনর্বাসন ছাড়া ঘর হারানো মানে মৃত্যু।”

অভিযানের এ অস্থির মুহূর্তে অন্য প্রান্তে দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। নদীর ধারে শরতের আগমনী বার্তায় ফুটে থাকা কাশবনে জড়ো হয়েছে তরুণ-তরুণী, পরিবার ও পর্যটকরা। কারো হাতে ক্যামেরা, কারো হাতে মোবাইল। কাশফুলের সাদা সমুদ্রকে পেছনে রেখে চলছে হাসি-আনন্দে ভরা ছবি তোলা। কেউ প্রেমময় ভঙ্গিতে পোজ দিচ্ছে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠেছে নিছক আনন্দে।

একই জায়গায় এ দুই ছবি যেন জীবনের নির্মম বৈপরীত্য। একদিকে ঘর হারানোর বেদনায় বুকভাঙা কান্না, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েক গজ দূরেই হাসি-খুশির উল্লাসে ছবি তোলার ভিড়। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও মানব জীবনের বেদনা একই নদীর তীরে একসাথে মিলেমিশে গেছে।

এ যেন মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। বাঁকখালীর বুকে একসাথে দাঁড়িয়ে আছে কান্না আর হাসি, ধ্বংস আর সৃষ্টির ছবি—সময়ের নির্মম অথচ বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, দেশের জন্য- পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাঁকখালী তীরে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: সময়ের নির্মম অথচ বাস্তব প্রতিচ্ছবি..

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী দখলমুক্ত করতে চলছে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান। দিনভর নদীর তীরে ভাঙনের শব্দে কেঁপে উঠছে এলাকা। বহু বছরের গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই পরিণত হচ্ছে ধ্বংসস্তূপে। ভাঙা দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ শোকে অশ্রু ফেলছে, কেউ আবার চিৎকার করে বলছে—“আমরা তো খতিয়ানভুক্ত জমির মালিক, ঘর না ভেঙে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন।”

এদিকে ভাঙন ঠেকাতে স্থানীয়দের প্রবল প্রতিরোধও চোখে পড়েছে। কেউ সড়ক অবরোধ করেছে, কেউ ঠেলাগাড়ি ফেলে পথ রুদ্ধ করেছে, আবার কেউ খননযন্ত্র ঘিরে দাঁড়িয়ে দিয়েছে প্রতিবাদের দেয়াল। অনেকের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে হতাশা—“রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেন, অথচ আমরা যারা এখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আছি, আমাদেরই উচ্ছেদ করছেন। পুনর্বাসন ছাড়া ঘর হারানো মানে মৃত্যু।”

অভিযানের এ অস্থির মুহূর্তে অন্য প্রান্তে দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্য। নদীর ধারে শরতের আগমনী বার্তায় ফুটে থাকা কাশবনে জড়ো হয়েছে তরুণ-তরুণী, পরিবার ও পর্যটকরা। কারো হাতে ক্যামেরা, কারো হাতে মোবাইল। কাশফুলের সাদা সমুদ্রকে পেছনে রেখে চলছে হাসি-আনন্দে ভরা ছবি তোলা। কেউ প্রেমময় ভঙ্গিতে পোজ দিচ্ছে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠেছে নিছক আনন্দে।

একই জায়গায় এ দুই ছবি যেন জীবনের নির্মম বৈপরীত্য। একদিকে ঘর হারানোর বেদনায় বুকভাঙা কান্না, অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েক গজ দূরেই হাসি-খুশির উল্লাসে ছবি তোলার ভিড়। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও মানব জীবনের বেদনা একই নদীর তীরে একসাথে মিলেমিশে গেছে।

এ যেন মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। বাঁকখালীর বুকে একসাথে দাঁড়িয়ে আছে কান্না আর হাসি, ধ্বংস আর সৃষ্টির ছবি—সময়ের নির্মম অথচ বাস্তব প্রতিচ্ছবি।