ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ার হারেসের সুরে মুগ্ধ নেট দুনিয়া,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী কক্সবাজারে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের স্বীকৃতি: জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে ফিচারড SURGE Bangladesh শহরের কুতুবদিয়া পাড়ার আলোচিত রোজিনাকে আটক করেছে পুলিশ বিয়ের অতিথি ১০০ ছাড়ালে জনপ্রতি ১০০০ টাকা ট্যাক্স বসানোর দাবি এমপির বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করতে আইসিসিতে চিঠি সাবেক বিসিবি সভাপতির টেকনাফে সড়কের দুই পাশে কলেমা লেখা সাদা পতাকা আ’র’কা’ন আ’র্মি প্রধানের বাংলাদেশে চিকিৎসা নেওয়ার খবর কতটুকু সত্য? মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রোজিনা গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা জামায়াত আমীরের উদ্যোগে মুক্ত হলো হাসপাতাল বিলের জন্য আটকে থাকা রিয়াজের মরদেহ মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট বোঝাই দুটি বোটসহ ২১ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সবুজ উদ্যোগ -কক্সবাজারে ১ হাজার গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ মহেশখালীতে বাচ্চুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দুই হত্যা চেষ্টা মামলার পলাতক আসামি অহিদুল গ্রেপ্তার  কক্সবাজার সদর থানায় শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড, অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণে আগুন ​”ব্লাড ক্যান্সারে মারা যাওয়া টেকনাফের শিক্ষার্থী রিয়াজের মরদেহ আটকে আছে হাসপাতালে, সাহায্যের আবেদন

পক্ষপাতদুষ্ট’ হওয়ায় খুরুশকুল আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের তালিকা বাতিল

কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের ৪ হাজার ৪০৯ জন উপকারভোগীর তালিকা বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

প্রকল্পে নির্মিত বহুতল ভবনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা হয়েছিলো ওই তালিকা।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিবুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “সরকারি ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও রক্ষাণাবেক্ষণ নীতিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী এ প্রকল্পে পুনর্বাসনের জন্য ২০১১ সালে করা ৪ হাজার ৪০৯ জনের তালিকা ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।”

২০১৭ সালের কক্সবাজার শহরের কাছে খুরুশকুল এলাকায় এই বিশেষ আশ্রায়ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন।

২৫৩ একর জমিতে পুনর্বাসন, বাফার, শুঁটকি মহল এবং পর্যটন-এই চারটি জোন মিলিয়ে হচ্ছে এই প্রকল্প। এরমধ্যে পুনর্বাসন জোনে ১১২ একর জমিতে ১২৯টি পাঁচতলা ভবন তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে রয়েছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট।

সে সময় বলা হয়েছিল, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে এসব ভবনে বসবাসের সুযোগ পাবে ৪ হাজার ৪০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার, যারা কক্সবাজার বিমানবন্দরের পালে ফদনার ডেইল, কুতুবদিয়া পাড়া ও সমিতি পাড়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বহু বছর ধরে।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর বাস্তুহারা মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে এসব এলাকায় সরকারি খাস জমিতে আশ্রয় নেয়। পরে বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরও অনেক পরিবার যোগ দেয় তাদের সঙ্গে।

১৯৯৭ সালের ১৯ মের ঘূর্ণিঝড়ের পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রথম প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবার ঘর পায়।

শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আবাসনের জন্য খুরুশকুলে নতুন এই বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষে শুরু হয় ভবন নির্মাণ।

প্রকল্পের ১২৯টি আবাসিক ভবনের মধ্যে ১২২টির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে করা প্রথম পর্যায়ের ২০টি ভবনের মধ্যে ১৯টির কাজ শেষে ২০২০ সালের ২৩ জুলাই ৬০০ পরিবারকে ১০০১ টাকার নামমাত্র মূল্যে ফ্ল্যাটের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়ার হারেসের সুরে মুগ্ধ নেট দুনিয়া,সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবী

পক্ষপাতদুষ্ট’ হওয়ায় খুরুশকুল আশ্রয়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের তালিকা বাতিল

আপডেট সময় : ০৭:৩২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫

কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু পুনর্বাসন প্রকল্পের ৪ হাজার ৪০৯ জন উপকারভোগীর তালিকা বাতিল করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

প্রকল্পে নির্মিত বহুতল ভবনের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা হয়েছিলো ওই তালিকা।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিবুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “সরকারি ফ্ল্যাট হস্তান্তর ও রক্ষাণাবেক্ষণ নীতিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী এ প্রকল্পে পুনর্বাসনের জন্য ২০১১ সালে করা ৪ হাজার ৪০৯ জনের তালিকা ত্রুটিপূর্ণ, প্রশ্নবিদ্ধ ও পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।”

২০১৭ সালের কক্সবাজার শহরের কাছে খুরুশকুল এলাকায় এই বিশেষ আশ্রায়ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন।

২৫৩ একর জমিতে পুনর্বাসন, বাফার, শুঁটকি মহল এবং পর্যটন-এই চারটি জোন মিলিয়ে হচ্ছে এই প্রকল্প। এরমধ্যে পুনর্বাসন জোনে ১১২ একর জমিতে ১২৯টি পাঁচতলা ভবন তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি পাঁচতলা ভবনে রয়েছে ৪৫৬ বর্গফুট আয়তনের ৩২টি করে ফ্ল্যাট।

সে সময় বলা হয়েছিল, সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে এসব ভবনে বসবাসের সুযোগ পাবে ৪ হাজার ৪০৯টি জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবার, যারা কক্সবাজার বিমানবন্দরের পালে ফদনার ডেইল, কুতুবদিয়া পাড়া ও সমিতি পাড়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বহু বছর ধরে।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর বাস্তুহারা মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে কক্সবাজার বিমানবন্দরের পাশে এসব এলাকায় সরকারি খাস জমিতে আশ্রয় নেয়। পরে বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরও অনেক পরিবার যোগ দেয় তাদের সঙ্গে।

১৯৯৭ সালের ১৯ মের ঘূর্ণিঝড়ের পর তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসনের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন।

সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৭ সালে ‘আশ্রয়ণ’ নামে প্রথম প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৪০টি পরিবার ঘর পায়।

শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের আবাসনের জন্য খুরুশকুলে নতুন এই বিশেষ আশ্রয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষে শুরু হয় ভবন নির্মাণ।

প্রকল্পের ১২৯টি আবাসিক ভবনের মধ্যে ১২২টির নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে করা প্রথম পর্যায়ের ২০টি ভবনের মধ্যে ১৯টির কাজ শেষে ২০২০ সালের ২৩ জুলাই ৬০০ পরিবারকে ১০০১ টাকার নামমাত্র মূল্যে ফ্ল্যাটের চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।