টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে অব্যাহত অপহরণ, মানবপাচার, সীমান্ত অপরাধ এবং নাফ নদীকেন্দ্রিক সশস্ত্র তৎপরতার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্তবর্তী জনগণের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতা দূর ও স্থায়ী সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে “নিরাপদ সীমান্ত আন্দোলন, টেকনাফ–উখিয়া”-এর ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে টেকনাফ ও উখিয়ার নানা শ্রেণি-পেশার কর্মজীবী মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ ও উখিয়ার সাধারণ মানুষ অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মানবপাচার, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানসহ সীমান্তকেন্দ্রিক চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। বিদ্যমান আইন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা না আসায় এখন কার্যকর ও স্থায়ী উদ্যোগ নেয়ার বিকল্প নেই। টেকনাফ-উখিয়ার এই সংকট কেবল স্থানীয় বিষয় নয়, এটি সরাসরি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্তের অখণ্ডতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিশেষ বাহিনী গঠনের দাবি
বর্তমান টাস্কফোর্স কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পৃথক জনবল, বাজেট ও কমান্ড কাঠামোসহ একটি স্থায়ী ” অপহরণ ও মানবপাচার দমন বিশেষ বাহিনী” গঠন করে টেকনাফ–উখিয়ায় স্থায়ীভাবে মোতায়েনের দাবি জানানো হয়।
এ বাহিনীর কার্যক্রমের মাসিক অগ্রগতি প্রকাশ এবং ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান আয়োজকরা।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার ও সেনা টহল নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র অনুপ্রবেশ ও আধিপত্য প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম জোরদার, সীমান্তে প্রয়োজনীয় সেনা ক্যাম্প স্থাপন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত টহল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন বক্তারা।
জালিয়ার দ্বীপে কোস্ট গার্ডের স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন
নাফ নদীতে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র টহল ও আধুনিক নজরদারি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জালিয়ার দ্বীপে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি স্থায়ী ঘাঁটি অবিলম্বে স্থাপনের জন্য সরকারের জরুরি নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ
বাহারছড়া পাহাড়, হোয়াইক্যং ঢালা, হ্নীলা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি বা পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও সীমানা বেষ্টনী কার্যকরভাবে সম্পন্ন করার দাবি তুলে ধরা হয়।
সশস্ত্র অপরাধী ও মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
রোহিঙ্গা ক্যাম্প বা সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় যে কোনো সশস্ত্র অপরাধী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে সাগরপথে নিয়মিত অভিযান চালানোর আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।
আগামী ৫ দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা
মানববন্ধনে বক্তাদের বক্তব্য শেষে আন্দোলনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলো পাঠ করেন চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী রুবায়েত হোসাইন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইসাল সাফি আগামী ৫ দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার চট্টগ্রাম ডিআইজির সাথে সমন্বিত মিটিং, রোববার বিভাগীয় কমিশনারের সাথে বিস্তর আলোচনা করা হবে। পরবর্তী দিনগুলোতে সারাদেশের ভার্সিটি, মাদ্রাসা, কলেজ ও স্কুলে টেকনাফ-উখিয়ার শিক্ষার্থীদের ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন, স্থানীয় ছাত্র ও সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতি প্রদান এবং ২৪ ঘণ্টার জন্য সামাজিক মাধ্যমে প্রোফাইল কালো করার কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং টেকনাফ-উখিয়ার ইউএনও ও ওসিসহ স্থানীয় প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, লাগাতার এই কর্মসূচির পরও সীমান্ত সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না দেখা গেলে পুরো কক্সবাজার জেলা অবরুদ্ধ (ব্লক) করার মতো কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি 



















