ঢাকা ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
বাঁকখালী:

ন্যায়সঙ্গত উচ্ছেদ, পুনর্বাসন ও টেকসই পরিকল্পনা চায় কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স

কক্সবাজার শহরের প্রাণ বাঁকখালী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিবৃতি দিয়েছে রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত কক্সবাজারের বাসিন্দাদের সংগঠন কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলছে-
বাঁকখালী নদী কেবল কক্সবাজারের নয়, এটি পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাণশক্তি। একসময় নদীটি মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে দখল, দূষণ ও অনিয়মিত ব্যবস্থাপনার ফলে আজ এটি তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে মৃত্যুমুখে। নদীকে বাঁচানো এখন আর বিকল্প নয়; এটি সময়ের এবং দায়িত্বের এক অনিবার্য দাবি।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নদীর সঠিক সীমারেখা বা ডিমার্কেশন নির্ধারণই প্রথম ধাপ। সীমারেখা স্পষ্ট না হলে উচ্ছেদ কার্যক্রমও অস্পষ্ট থেকে যাবে, যা নতুন জটিলতার সূত্রপাত করবে। নদীকে প্রভাবশালী দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা ছাড়া পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

তবে নদী রক্ষার অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা অপরিহার্য। বিশেষ করে যারা ভূমিহীন এবং জীবিকার তাগিদে নদীর পাড়ে বসবাস করছিলেন—তাদের জন্য পরিপূর্ণ পুনর্বাসন পরিকল্পনা থাকা জরুরি। অন্যথায় এই উদ্যোগ কেবল পরিবেশগত নয়, সামাজিক দ্বন্দ্বও উস্কে দিতে পারে। তাই উচ্ছেদ কার্যক্রমের সঙ্গে সমান্তরালে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক পুনর্বাসন নীতি গ্রহণ করা আবশ্যক।

শুধু উচ্ছেদ করলেই নদী বাঁচবে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা, যেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। নদীকে কেবল শারীরিকভাবে মুক্ত করাই নয়, তাকে একটি সুস্থ, জীবন্ত ও পুনর্জীবিত বাস্তুতন্ত্রে রূপান্তরিত করা আমাদের লক্ষ্য হতে হবে।

সম্প্রতি কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স পরিচালিত সমীক্ষা এই ধারণাটিকে আরও নিশ্চিত করেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষিত ও পেশাজীবী ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন (৭৬%) নিঃশর্তভাবে উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন। বাকিরা (২৪%) শর্তসাপেক্ষ সমর্থন জানিয়ে বলেছেন—উচ্ছেদ জরুরি, তবে পুনর্বাসন পরিকল্পনা অবশ্যই থাকতে হবে। এটি প্রমাণ করে, জনমতের সঙ্গে মানবিক উদ্বেগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকাস্থ কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—বাঁকখালী নদী রক্ষা অভিযান শুধু উচ্ছেদ নয়, এটি পরিবেশ, ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায়

বাঁকখালী:

ন্যায়সঙ্গত উচ্ছেদ, পুনর্বাসন ও টেকসই পরিকল্পনা চায় কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স

আপডেট সময় : ০৫:৪০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার শহরের প্রাণ বাঁকখালী নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বিবৃতি দিয়েছে রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত কক্সবাজারের বাসিন্দাদের সংগঠন কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলছে-
বাঁকখালী নদী কেবল কক্সবাজারের নয়, এটি পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাণশক্তি। একসময় নদীটি মানুষের জীবিকা, সংস্কৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে দখল, দূষণ ও অনিয়মিত ব্যবস্থাপনার ফলে আজ এটি তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে মৃত্যুমুখে। নদীকে বাঁচানো এখন আর বিকল্প নয়; এটি সময়ের এবং দায়িত্বের এক অনিবার্য দাবি।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নদীর সঠিক সীমারেখা বা ডিমার্কেশন নির্ধারণই প্রথম ধাপ। সীমারেখা স্পষ্ট না হলে উচ্ছেদ কার্যক্রমও অস্পষ্ট থেকে যাবে, যা নতুন জটিলতার সূত্রপাত করবে। নদীকে প্রভাবশালী দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা ছাড়া পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

তবে নদী রক্ষার অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা অপরিহার্য। বিশেষ করে যারা ভূমিহীন এবং জীবিকার তাগিদে নদীর পাড়ে বসবাস করছিলেন—তাদের জন্য পরিপূর্ণ পুনর্বাসন পরিকল্পনা থাকা জরুরি। অন্যথায় এই উদ্যোগ কেবল পরিবেশগত নয়, সামাজিক দ্বন্দ্বও উস্কে দিতে পারে। তাই উচ্ছেদ কার্যক্রমের সঙ্গে সমান্তরালে ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক পুনর্বাসন নীতি গ্রহণ করা আবশ্যক।

শুধু উচ্ছেদ করলেই নদী বাঁচবে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা, যেখানে অন্তর্ভুক্ত থাকবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। নদীকে কেবল শারীরিকভাবে মুক্ত করাই নয়, তাকে একটি সুস্থ, জীবন্ত ও পুনর্জীবিত বাস্তুতন্ত্রে রূপান্তরিত করা আমাদের লক্ষ্য হতে হবে।

সম্প্রতি কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স পরিচালিত সমীক্ষা এই ধারণাটিকে আরও নিশ্চিত করেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষিত ও পেশাজীবী ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন (৭৬%) নিঃশর্তভাবে উচ্ছেদ অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন। বাকিরা (২৪%) শর্তসাপেক্ষ সমর্থন জানিয়ে বলেছেন—উচ্ছেদ জরুরি, তবে পুনর্বাসন পরিকল্পনা অবশ্যই থাকতে হবে। এটি প্রমাণ করে, জনমতের সঙ্গে মানবিক উদ্বেগও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকাস্থ কক্সবাজার কমিউনিটি অ্যালায়েন্স দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—বাঁকখালী নদী রক্ষা অভিযান শুধু উচ্ছেদ নয়, এটি পরিবেশ, ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ।