ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজার প্রেসক্লাবে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ৭০০ পরিবারের মাঝে তবারুক বিতরণ ২৪ বছর ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত পেকুয়ার নন্দীরপাড়া স্টেশন সড়ক ভেসে এলো নিখোঁজ আলবার্টের মরদেহ : জীবিত উদ্ধার নিউজিল্যান্ডের নাগরিকেরা কোস্টগার্ডের হেফাজতে উখিয়া সীমান্তে ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার সমুদ্র সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১ পুলিশ বাহিনীকে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহানবীর আদর্শ অনুসরণ করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব ইসলামাবাদে হাসপাতালে আগুন, ১৫ নবজাতকের মৃত্যু রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ওয়ান শুটারগানসহ যুবক আটক পালংখালী খালে মাছ ধরতে গিয়ে দুই রোহিঙ্গা শিশু নিখোঁজ, একজনের মরদেহ উদ্ধার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ উখিয়ায় দুই রেস্তোরাঁয় অনিয়ম, ৪ লাখ টাকা জরিমানা বাঁকখালী নয়, রামু অথবা ঈদগাঁও উপজেলার সাথে থাকতে চেয়ে ঈদগড়বাসীর স্মারকলিপি কক্সবাজারে বহুল প্রত্যাশিত মেরিন ড্রাইভ সংযোগ সড়ক বাস্তবায়নের পক্ষে অবস্থান ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ‎

দুই পত্রিকা ও ছায়ানট-উদীচীতে হামলায় শনাক্ত ৩১, গ্রেপ্তার ৯

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের দুই পত্রিকা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

এসব ঘটনায় সোমবার সকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রোববার দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার নয়জনের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছে পুলিশ। তারা হলেন-মো. কাশেম ফারুক, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম।

এর বাইরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

এই ৩১ জনকে হামলার সময়ের ভিভিও দেখে শনাক্ত করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাই কমিশনারের বাসভবনের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের মধ্যে তিনজনকে ভিডিওর মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।

 

লুটের টাকায় কেনা হয় টিভি-ফ্রিজ

মো. কাশেম ফারুক ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা; তিনি পড়াশোনা করেছেন বগুড়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসায়।

মো. সাইদুর রহমান ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার হওয়া রাকিব হোসেনকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে ভিডিওতে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বাড়ি শেরপুর জেলায়। হামলার ছবি তার ফেইসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে ফেইনবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে থাকেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এ ঘটনায় লুট হওয়া ৫০,০০০ টাকাসহ প্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করার কথা স্বীকার করেছে বলে ভাষ্য পুলিশের। লুট করা টাকা দিয়ে সে মোহাম্মদপুর থেকে একটি টিভি ও ফ্রিজও কিনেছিলেন নাইম, যা ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকার কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মো. সোহেল রানাকে। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্যান্য আইনে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে।

একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্যান্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর এলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথমে শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে একদল লোক কারওয়ানবাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এংপরে ডেইলি স্টার ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে।

 

পরে ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনেও হামলা হয়। সেখানেও ভাঙচুর-লুটপাট চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর উদীচীর কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়।

 

সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজার প্রেসক্লাবে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল অনুষ্ঠিত

দুই পত্রিকা ও ছায়ানট-উদীচীতে হামলায় শনাক্ত ৩১, গ্রেপ্তার ৯

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের দুই পত্রিকা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

এসব ঘটনায় সোমবার সকাল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় রোববার দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার নয়জনের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হতে পেরেছে পুলিশ। তারা হলেন-মো. কাশেম ফারুক, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা এবং মো. শফিকুল ইসলাম।

এর বাইরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

এই ৩১ জনকে হামলার সময়ের ভিভিও দেখে শনাক্ত করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাই কমিশনারের বাসভবনের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের মধ্যে তিনজনকে ভিডিওর মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।

 

লুটের টাকায় কেনা হয় টিভি-ফ্রিজ

মো. কাশেম ফারুক ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা; তিনি পড়াশোনা করেছেন বগুড়ার আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম মাদ্রাসায়।

মো. সাইদুর রহমান ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার হওয়া রাকিব হোসেনকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে ভিডিওতে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বাড়ি শেরপুর জেলায়। হামলার ছবি তার ফেইসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা হয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে ফেইনবুকে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে থাকেন বলে পুলিশের ভাষ্য।

ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এ ঘটনায় লুট হওয়া ৫০,০০০ টাকাসহ প্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করার কথা স্বীকার করেছে বলে ভাষ্য পুলিশের। লুট করা টাকা দিয়ে সে মোহাম্মদপুর থেকে একটি টিভি ও ফ্রিজও কিনেছিলেন নাইম, যা ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকার কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মো. সোহেল রানাকে। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্যান্য আইনে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে।

একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্যান্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর এলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রথমে শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে একদল লোক কারওয়ানবাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এংপরে ডেইলি স্টার ভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে।

 

পরে ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনেও হামলা হয়। সেখানেও ভাঙচুর-লুটপাট চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর উদীচীর কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়।

 

সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম