ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের স্মৃতির খোঁজে কক্সবাজারে জাপানি প্রতিনিধি দল কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আইভী কক্সবাজার রেল স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীরাই বিক্রি করছেন টিকেট পালংখালী সীমান্তে আরএসওর গুলি, ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও ইয়াবা উদ্ধার ভাবীর ঘাড়ে দা’র কোপ, দেবর ও শাশুড়ি আটক মাঝরাতে গুলির শব্দে কেঁপে উঠল হোয়াইক্যং, আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটালেন বাসিন্দারা টেকনাফে শ্রমিক দল সভাপতির ওপর হামলা পুত্রবধূকে জিম্মি করে আইনজীবী সমিতির সভাপতির বাড়িতে ডাকাতি তরুণদের নেতৃত্ব ও মানবিকতা গঠনে পেকুয়া মুক্ত স্কাউট গ্রুপের বার্ষিক ক্যাম্প টেকনাফে ৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক উদ্ধার, অপহরণকারী চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার মধ্যরাতের ছুরিকাঘাতে আহত আসিফের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, নিহত বেড়ে ২ ভিকটিমের পরিচয় ফাঁসের অভিযোগে চকরিয়া থানার ওসিকে আইনি নোটিশ শহরের শীর্ষ ছিনতাইকারী জিয়া গ্রেফতার দীর্ঘ বিরতির পর চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে কক্সবাজারে ফিরছে সিনেমা, ৫-৬ জুন প্রদর্শিত হবে ৬ টি সিনেমা স্বামীর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে সড়কে ঝরলো স্ত্রীসহ দু’জনের প্রাণ
শ্রীলঙ্কার সাহায্য নাকি নিজেদের যোগ্যতা!

টাইগারদের সুপার ফোরে ওঠার লড়াইয়ের ময়নাতদন্ত

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সুপার ফোরে উঠেছে—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই দাবি করছেন, শ্রীলঙ্কার জয়ে ভর করেই বাংলাদেশ টিকে গেছে। কিন্তু আসল চিত্রটা ভিন্ন। আফগানিস্তানের ব্যর্থতাই তাদের বিদায়ের কারণ হয়েছে, আর তুলনামূলকভাবে ভালো খেলার ফলেই বাংলাদেশ পরের পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

আফগানিস্তানের গ্রুপপর্বের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, তারা কোথায় পিছিয়ে গেছে। হংকংয়ের বিপক্ষে বড় জয় ছাড়া তাদের আর কোনো স্মরণীয় সাফল্য নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ১৭০ রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে ১৮ ওভারের মধ্যেই হেরে বসেছে।

পুরো গ্রুপপর্বে আফগানিস্তানের ব্যাটিং ভর করেছে গুটিকয়েক ইনিংসে। নবীর ৬২, হংকংয়ের বিপক্ষে সাদিক অটলের ৭৩ আর ওমরজাইয়ের ফিফটি ছাড়া আর কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। বেশিরভাগ সময় ব্যাটাররা ২০–৩০ রান তুলতেই হিমশিম খেয়েছেন। বোলিংয়েও প্রত্যাশিত ধার ছিল না। সেরা দশ বোলারের তালিকায় আফগানিস্তানের মাত্র একজন জায়গা পেয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশের আছেন তিনজন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ দেখিয়েছে তুলনামূলক স্থিতিশীল দলীয় পারফরম্যান্স। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের ম্যাচেও জাকের আলি আর শামীম হোসেনের ৪০+ ইনিংস ছিল। হংকংয়ের বিপক্ষে লিটনের ৫৯, আফগানিস্তানের বিপক্ষে তামিমের ৫২ দলের লড়াইকে এগিয়ে নিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডু-অর-ডাই ম্যাচে বাংলাদেশ ১৫৫ রান ডিফেন্ড করে জয় পেয়েছে। চাপের ম্যাচে জয়লাভই বলে দেয়, কে মানসিকভাবে বেশি প্রস্তুত ছিল।

এশিয়া কাপ ইতিহাসে বাংলাদেশ একাধিকবার “সবাই হারবে” বলা পরিস্থিতি থেকেও ফাইনালে উঠেছে। এবারও তারা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ সুপার ফোরে গেছে শ্রীলঙ্কার সহায়তায় নয়, বরং নিজেদের কনসিসটেন্ট দলীয় পারফরম্যান্সের কারণেই। আর আফগানিস্তানের অতিরিক্ত শর্ট বল, এক্সট্রা, আর দিশাহীন ব্যাটিংই তাদের বিদায়ের মূল কারণ।

সব মিলিয়ে, ক্রিকেট মানে খালি কয়েকটা ফ্লেয়ারফুল শট নয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই এখানে মুখ্য। সেই জায়গাতেই বাংলাদেশ আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থেকেছে, আর যোগ্যতর দল হিসেবেই জায়গা করে নিয়েছে সুপার ফোরে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাপানি সৈন্যদের স্মৃতির খোঁজে কক্সবাজারে জাপানি প্রতিনিধি দল

শ্রীলঙ্কার সাহায্য নাকি নিজেদের যোগ্যতা!

টাইগারদের সুপার ফোরে ওঠার লড়াইয়ের ময়নাতদন্ত

আপডেট সময় : ০৮:১২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ সুপার ফোরে উঠেছে—এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই দাবি করছেন, শ্রীলঙ্কার জয়ে ভর করেই বাংলাদেশ টিকে গেছে। কিন্তু আসল চিত্রটা ভিন্ন। আফগানিস্তানের ব্যর্থতাই তাদের বিদায়ের কারণ হয়েছে, আর তুলনামূলকভাবে ভালো খেলার ফলেই বাংলাদেশ পরের পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

আফগানিস্তানের গ্রুপপর্বের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, তারা কোথায় পিছিয়ে গেছে। হংকংয়ের বিপক্ষে বড় জয় ছাড়া তাদের আর কোনো স্মরণীয় সাফল্য নেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ১৭০ রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে ১৮ ওভারের মধ্যেই হেরে বসেছে।

পুরো গ্রুপপর্বে আফগানিস্তানের ব্যাটিং ভর করেছে গুটিকয়েক ইনিংসে। নবীর ৬২, হংকংয়ের বিপক্ষে সাদিক অটলের ৭৩ আর ওমরজাইয়ের ফিফটি ছাড়া আর কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। বেশিরভাগ সময় ব্যাটাররা ২০–৩০ রান তুলতেই হিমশিম খেয়েছেন। বোলিংয়েও প্রত্যাশিত ধার ছিল না। সেরা দশ বোলারের তালিকায় আফগানিস্তানের মাত্র একজন জায়গা পেয়েছেন, যেখানে বাংলাদেশের আছেন তিনজন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ দেখিয়েছে তুলনামূলক স্থিতিশীল দলীয় পারফরম্যান্স। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের ম্যাচেও জাকের আলি আর শামীম হোসেনের ৪০+ ইনিংস ছিল। হংকংয়ের বিপক্ষে লিটনের ৫৯, আফগানিস্তানের বিপক্ষে তামিমের ৫২ দলের লড়াইকে এগিয়ে নিয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডু-অর-ডাই ম্যাচে বাংলাদেশ ১৫৫ রান ডিফেন্ড করে জয় পেয়েছে। চাপের ম্যাচে জয়লাভই বলে দেয়, কে মানসিকভাবে বেশি প্রস্তুত ছিল।

এশিয়া কাপ ইতিহাসে বাংলাদেশ একাধিকবার “সবাই হারবে” বলা পরিস্থিতি থেকেও ফাইনালে উঠেছে। এবারও তারা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। তাই বাংলাদেশ সুপার ফোরে গেছে শ্রীলঙ্কার সহায়তায় নয়, বরং নিজেদের কনসিসটেন্ট দলীয় পারফরম্যান্সের কারণেই। আর আফগানিস্তানের অতিরিক্ত শর্ট বল, এক্সট্রা, আর দিশাহীন ব্যাটিংই তাদের বিদায়ের মূল কারণ।

সব মিলিয়ে, ক্রিকেট মানে খালি কয়েকটা ফ্লেয়ারফুল শট নয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই এখানে মুখ্য। সেই জায়গাতেই বাংলাদেশ আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থেকেছে, আর যোগ্যতর দল হিসেবেই জায়গা করে নিয়েছে সুপার ফোরে।