ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৫ মিনিট খেলার ‘দম’ আছে নেইমারের: আনচেলত্তি আবু তাহের হ’ত্যাকা’ন্ডে পেকুয়া থানায় মামলা ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলাকে আড়াই লাখ ডলার দিলেন নেইমার একাত্তরের ভূমিকার জন্য একবারও ক্ষমা চাইলেন না: জামায়াতকে মির্জা ফখরুল অর্থনীতিকে তিন ধাপে সাজাতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী ২৯ জুন: ইতিহাসে এই দিনে আলোচিত কী ঘটেছিল? বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন ‘এটা আমাদের জন্য ফাইনাল’—আনচেলত্তি; ‘ব্রাজিলকে ছাড় নয়’—মোরিয়াসু সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘নাগু’ গ্রেফতার ৪.১ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প: উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা লোহাগাড়ায় ঢাকাগামী পর্যটকবাহী বাস উল্টে আহত-১৫ পেকুয়ায় আবু তাহের হত্যাকান্ড: ৭২ঘন্টায়ও দায়ের হয়নি মামলা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ছাত্রদলের আট কমিটি বিলুপ্ত ২৪ দিন পর অপহৃতকে উদ্ধার করলো র‍্যাব টেকনাফে এক চিকিৎসককে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা

জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং-ই হলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পাঁচ বছর পর সেনা সমর্থিত পার্লামেন্টে হওয়া ভোটে সহজে জিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে বসলেন মিন অং হ্লাইং।

এর মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের করে নিলেন, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

সু চিকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়।

জেনারেল থেকে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের এই উত্থান গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে হওয়া এক বিতর্কিত নির্বাচনের ধারাবাহিকতা। ওই নির্বাচনে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও সমালোচক ও পশ্চিমা সরকারগুলো একে সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার একটি ‘অপচেষ্টা’ হিসেবেই দেখছে।

সেনাবাহিনীর কোটাভুক্ত আইনপ্রণেতা এবং ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) আধিপত্য থাকা পার্লামেন্টে ভোট গণনা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তাতে মিন অং হ্লাইংকে অনায়াসেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে দেখা যায়।

‘স্বপ্ন এখন সত্যি’

২০১১ সাল থেকে যে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন, তার শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েই কাঙ্ক্ষিত প্রেসিডেন্ট পদ নিজের করে নিলেন মিন অং হ্লাইং।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মুখিয়ে ছিলেন।

তারা এই ক্ষমতার পরিবর্তনকে মিন অং হ্লাইংয়ের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে তিনি নামমাত্র বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, পাশাপাশি গত ছয় দশকের অধিকাংশ সময় দেশ শাসন করা সামরিক বাহিনীর স্বার্থও রক্ষা করছেন।

মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক অং কিয়াও সো বলেন, “তিনি দীর্ঘকাল ধরে সেনাপ্রধানের পদটি প্রেসিডেন্টের পদের সঙ্গে বিনিময় করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করছিলেন এবং তার স্বপ্ন এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।”

চলমান গৃহযুদ্ধ ও বিরোধীদের অবস্থান

হ্লাইং প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসলেও গত পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে মিয়ানমার এখনো লণ্ডভণ্ড। সু চির দলের অবশিষ্টাংশ এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী মিলে এই সপ্তাহেই জান্তার বিরুদ্ধে একটি নতুন সম্মিলিত ফ্রন্ট গঠন করেছে।

সোমবার এক বিবৃতিতে ‘স্টিয়ারিং কাউন্সিল ফর দ্য ইমার্জেন্স অব আ ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ জানিয়েছে, “আমাদের লক্ষ্য হলো সামরিক স্বৈরশাসনসহ সব ধরনের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সম্মিলিতভাবে একটি নতুন রাজনৈতিক ভূখণ্ড গড়ে তোলা।”

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হ্লাইংয়ের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে প্রতিবেশী দেশগুলো যখন সক্রিয় হবে, তখন প্রতিরোধ যোদ্ধারা আরও তীব্র সামরিক চাপ ও নজরদারির মুখে পড়বে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে বিরোধীদের নিজেদের ঐক্য ও সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মনে করেন বিশ্লেষক সাই কি জিন সোয়ে।

সংকট যত বাড়বে, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা বজায় রাখাও ততটাই চ্যালেঞ্জিং হবে, মত তার।

সূত্র: বিডিনিউজ

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

১৫ মিনিট খেলার ‘দম’ আছে নেইমারের: আনচেলত্তি

জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং-ই হলেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

আপডেট সময় : ০৪:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

মিয়ানমারে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পাঁচ বছর পর সেনা সমর্থিত পার্লামেন্টে হওয়া ভোটে সহজে জিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে বসলেন মিন অং হ্লাইং।

এর মাধ্যমে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের করে নিলেন, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

৬৯ বছর বয়সী এই জেনারেল ২০২১ সালে নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

সু চিকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহে রূপ নেয়।

জেনারেল থেকে বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের এই উত্থান গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে হওয়া এক বিতর্কিত নির্বাচনের ধারাবাহিকতা। ওই নির্বাচনে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল বড় ব্যবধানে জয়ী হলেও সমালোচক ও পশ্চিমা সরকারগুলো একে সামরিক শাসন দীর্ঘায়িত করার একটি ‘অপচেষ্টা’ হিসেবেই দেখছে।

সেনাবাহিনীর কোটাভুক্ত আইনপ্রণেতা এবং ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) আধিপত্য থাকা পার্লামেন্টে ভোট গণনা টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তাতে মিন অং হ্লাইংকে অনায়াসেই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে দেখা যায়।

‘স্বপ্ন এখন সত্যি’

২০১১ সাল থেকে যে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন, তার শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েই কাঙ্ক্ষিত প্রেসিডেন্ট পদ নিজের করে নিলেন মিন অং হ্লাইং।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই মুখিয়ে ছিলেন।

তারা এই ক্ষমতার পরিবর্তনকে মিন অং হ্লাইংয়ের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে তিনি নামমাত্র বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, পাশাপাশি গত ছয় দশকের অধিকাংশ সময় দেশ শাসন করা সামরিক বাহিনীর স্বার্থও রক্ষা করছেন।

মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক অং কিয়াও সো বলেন, “তিনি দীর্ঘকাল ধরে সেনাপ্রধানের পদটি প্রেসিডেন্টের পদের সঙ্গে বিনিময় করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা লালন করছিলেন এবং তার স্বপ্ন এখন বাস্তবে পরিণত হয়েছে।”

চলমান গৃহযুদ্ধ ও বিরোধীদের অবস্থান

হ্লাইং প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসলেও গত পাঁচ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে মিয়ানমার এখনো লণ্ডভণ্ড। সু চির দলের অবশিষ্টাংশ এবং বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী মিলে এই সপ্তাহেই জান্তার বিরুদ্ধে একটি নতুন সম্মিলিত ফ্রন্ট গঠন করেছে।

সোমবার এক বিবৃতিতে ‘স্টিয়ারিং কাউন্সিল ফর দ্য ইমার্জেন্স অব আ ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ জানিয়েছে, “আমাদের লক্ষ্য হলো সামরিক স্বৈরশাসনসহ সব ধরনের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে সম্মিলিতভাবে একটি নতুন রাজনৈতিক ভূখণ্ড গড়ে তোলা।”

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হ্লাইংয়ের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে প্রতিবেশী দেশগুলো যখন সক্রিয় হবে, তখন প্রতিরোধ যোদ্ধারা আরও তীব্র সামরিক চাপ ও নজরদারির মুখে পড়বে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে বিরোধীদের নিজেদের ঐক্য ও সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মনে করেন বিশ্লেষক সাই কি জিন সোয়ে।

সংকট যত বাড়বে, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা বজায় রাখাও ততটাই চ্যালেঞ্জিং হবে, মত তার।

সূত্র: বিডিনিউজ