ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চাই -কক্সবাজারে ক্রীড়ামন্ত্রী কুতুবদিয়ায় উদ্ভাবনী চিন্তা, বিজ্ঞানচর্চা এবং উদ্যোক্তা মনোভাব বিকাশে দিনব্যাপী কর্মসূচি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগুন, ক্ষতি প্রায় ১২ লাখ টাকা কক্সবাজারে ১২ ঘন্টার সফরে ১১ কর্মসূচীতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নিজের দোকানে ফাঁসিতে ঝুলেছে মুজিব: পরকিয়া ও টাকার লেনদেন বলছে স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফতেখাঁরকুলকে পৌরসভা করার দাবি জানালেন ছাত্রনেতা বাসেত মির্জা বৃহত্তর মনোহরখালী ঐক্য পরিষদের জার্সি উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সফর, ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী কক্সবাজারে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি উখিয়ারঘোনা-গর্জনিয়া সড়ক : লাখো মানুষের ভোগান্তি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন চেয়ারম্যান জসিম বিশ্বকাপে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ দাপট দেখিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করল মেক্সিকো কউকের নতুন চেয়ারম্যান পেকুয়ার প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

ছুটির শেষ দিন, সৈকতে ঢেউয়ের মতো ভিড়: বাড়তি খরচে ক্ষোভ

ঈদের তৃতীয় দিন ও টানা সরকারি ছুটির শেষ দিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে পর্যটন নগরী যেন উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতে ভিড় করেন পর্যটকরা। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টসহ আশপাশের সব পর্যটনকেন্দ্রে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। কেউ সমুদ্রস্নান, কেউ ছবি তোলা, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত ছিলেন।

তবে এই আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেও অনেক পর্যটকের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে হোটেল ভাড়া ও খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলেও জানান তারা। এমনকি সৈকতে ঘোড়ার পিঠে ছবি তুলতেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেক পর্যটক। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা তাহমিনা আফরিন বলেন, “ঈদ মৌসুমে কিছুটা দাম বাড়তি থাকলেও সামগ্রিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ভালো।”

ঢাকা থেকে আসা সান্তনু ইসলাম বলেন, “এত বড় সমুদ্র এক নজরে দেখা এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটছে। তবে বিনোদনের আরও সুযোগ থাকলে ভালো হতো।”

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী মূল্য কিছুটা বাড়তে পারে। তবে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন।

নিরাপত্তা ও সেবার দিক থেকে চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন সি-সেইফ লাইফগার্ড সদস্য জয়নাল আবেদনী ভুট্টো। তিনি বলেন, “লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হয়েছে, যা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।”

এদিকে, পর্যটকদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে অতিরিক্ত ভাড়া ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, “হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল দেখতে চাই -কক্সবাজারে ক্রীড়ামন্ত্রী

ছুটির শেষ দিন, সৈকতে ঢেউয়ের মতো ভিড়: বাড়তি খরচে ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ঈদের তৃতীয় দিন ও টানা সরকারি ছুটির শেষ দিনে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে পর্যটন নগরী যেন উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।

সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে সৈকতে ভিড় করেন পর্যটকরা। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টসহ আশপাশের সব পর্যটনকেন্দ্রে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। কেউ সমুদ্রস্নান, কেউ ছবি তোলা, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ব্যস্ত ছিলেন।

তবে এই আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেও অনেক পর্যটকের মধ্যে ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অভিযোগ, ঈদকে কেন্দ্র করে হোটেল ভাড়া ও খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলেও জানান তারা। এমনকি সৈকতে ঘোড়ার পিঠে ছবি তুলতেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেক পর্যটক। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা তাহমিনা আফরিন বলেন, “ঈদ মৌসুমে কিছুটা দাম বাড়তি থাকলেও সামগ্রিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা ভালো।”

ঢাকা থেকে আসা সান্তনু ইসলাম বলেন, “এত বড় সমুদ্র এক নজরে দেখা এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ। পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটছে। তবে বিনোদনের আরও সুযোগ থাকলে ভালো হতো।”

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটকের চাপ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী মূল্য কিছুটা বাড়তে পারে। তবে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন।

নিরাপত্তা ও সেবার দিক থেকে চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন সি-সেইফ লাইফগার্ড সদস্য জয়নাল আবেদনী ভুট্টো। তিনি বলেন, “লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম হয়েছে, যা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি, যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।”

এদিকে, পর্যটকদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের মতে, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে অতিরিক্ত ভাড়া ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, “হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।”