ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্দেশনা লঙ্ঘন, ব্রাজিলের জার্সি পড়ে ওসির ভিডিও বার্তায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণ জিতল কক্সবাজারের মনিষা টেকনাফের সালমান ওরফে কিং গ্রেপ্তার বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা টেকনাফের চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার প্রধান ২ আসামি গ্রেফতার কলাতলীতে অজ্ঞাত মরদেহ, পরিচয় শনাক্তের চেষ্টায় পুলিশ জুলাইয়ের বীরদের ভিলেন বানানোর অপচেষ্টা চলছে : সাদিক কায়েম বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের দাম ছুঁল ৭৪ লাখ সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস যে সমীকরণে গোল্ডেন বুট জিততে পারেন মেসি আমরা রাজনীতি করি মানুষের জন্য, দেশের জন্য- পেকুয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিপণের দাবিতে পাহাড়ে আটকে নির্যাতন, পরে উদ্ধার কক্সবাজারে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সিএনজি অটোরিকশা থেকে ৭০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা ৫৪ বস্তা সার জব্দ, আটক ১

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার রায় : ১ মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর চায় পরিবার

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর হত্যা ও মরদেহ ছয় টুকরো করার দায়ে আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করলেও উচ্চ আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে যেন সাজা বিলম্বিত না হয়, সেজন্য এক মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন আয়াতের বাবা-মা।

বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের পর আদালতের বাইরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আয়াতের বাবা ও মামলার বাদী সোহেল রানা বলেন, ‘রায়ের আদেশে আমি খুশি। তবে আমার দাবি, এই ফাঁসির আদেশ যেন এক মাসের মধ্যে কার্যকর করা হয়। সাজা কার্যকর করতে দেরি হলে অপরাধীরা এ ধরনের নিষ্ঠুর কাজ করতে আরও উৎসাহিত হবে।’

তিনি মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পিবিআইকে ধন্যবাদ জানান এবং সাজা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

একই সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়াতের মা। তিনি বলেন, সন্তানে হারানোর শোক ভুলে থাকা সম্ভব নয়, তবে আসামির ফাঁসি দ্রুত কার্যকর দেখলে আত্মা কিছুটা শান্তি পাব।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস ও নির্মম হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালত বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, উদ্ধারকৃত আলামত এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ এই শাস্তি দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আয়াত। পিবিআই-এর তদন্তে জানা যায়, প্রতিবেশী আবীর আলী মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করেন। কিন্তু শিশুটিকে কোথাও লুকিয়ে রাখতে না পেরে তিনি তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

পরবর্তীতে অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে আবীর শিশুটির মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেন। ঘটনার ১৫ দিন পর আউটার রিং রোড সংলগ্ন স্লুইস গেট এলাকা থেকে আয়াতের খণ্ডিত মাথা ও পা উদ্ধার করা হয়। তদন্তে আবীরের ঘর থেকে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে আয়াতের ডিএনএ-র মিল পাওয়া যায় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটিও উদ্ধার করে পুলিশ। এ মামলায় ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আবীরকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল পিবিআই।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার রায় : ১ মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর চায় পরিবার

আপডেট সময় : ০৭:১১:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর হত্যা ও মরদেহ ছয় টুকরো করার দায়ে আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করলেও উচ্চ আদালত ও আইনি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে যেন সাজা বিলম্বিত না হয়, সেজন্য এক মাসের মধ্যে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন আয়াতের বাবা-মা।

বুধবার চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের পর আদালতের বাইরে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আয়াতের বাবা ও মামলার বাদী সোহেল রানা বলেন, ‘রায়ের আদেশে আমি খুশি। তবে আমার দাবি, এই ফাঁসির আদেশ যেন এক মাসের মধ্যে কার্যকর করা হয়। সাজা কার্যকর করতে দেরি হলে অপরাধীরা এ ধরনের নিষ্ঠুর কাজ করতে আরও উৎসাহিত হবে।’

তিনি মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পিবিআইকে ধন্যবাদ জানান এবং সাজা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

একই সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়াতের মা। তিনি বলেন, সন্তানে হারানোর শোক ভুলে থাকা সম্ভব নয়, তবে আসামির ফাঁসি দ্রুত কার্যকর দেখলে আত্মা কিছুটা শান্তি পাব।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, আদালত পর্যবেক্ষণে এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্ব পরিকল্পিত, নিষ্ঠুর, নৃশংস ও নির্মম হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালত বলেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, উদ্ধারকৃত আলামত এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ এই শাস্তি দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।

২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকায় মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হয় আয়াত। পিবিআই-এর তদন্তে জানা যায়, প্রতিবেশী আবীর আলী মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে তাকে অপহরণ করেন। কিন্তু শিশুটিকে কোথাও লুকিয়ে রাখতে না পেরে তিনি তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

পরবর্তীতে অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে আবীর শিশুটির মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেন। ঘটনার ১৫ দিন পর আউটার রিং রোড সংলগ্ন স্লুইস গেট এলাকা থেকে আয়াতের খণ্ডিত মাথা ও পা উদ্ধার করা হয়। তদন্তে আবীরের ঘর থেকে পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে আয়াতের ডিএনএ-র মিল পাওয়া যায় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটিও উদ্ধার করে পুলিশ। এ মামলায় ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আবীরকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিল পিবিআই।