ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাহাড় কর্তনকারী ও বন্যায় স্লুইসগেট বন্ধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বিশ্বে ফার্মের মুরগি উৎপাদনে বাংলাদেশ কততম, শীর্ষে কারা? সড়ক দুর্ঘটনায় সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ক্যথিং এবং সাবেক এমপি এথিন রাখাইন আহত পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী পদার্থবিজ্ঞানের ৬ ও ৭ দুটি প্রশ্নের পুরো নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ায় বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবিধানে গণভোটের বিধান না থাকলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও নেই: শফিকুর রহমান কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসের ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম, পুনর্বাসনের আশ্বাস জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটিকে স্বাগত, আশাবাদী রোহিঙ্গারা বৃহত্তর গর্জনিয়ায় বানভাসীদের মাঝে ওয়ার্ল্ড ভিশনের ত্রাণ বিতরণ করলেন ডিসি ও ইউএনও ভেসে গেছে ৩ হাজার ৯১৮ পুকুর-ঘেরের মাছ, ক্ষতি ৪৬ কোটি টাকা কক্সবাজারে পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা “বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত, তাই মানুষের প্রতি দায় আছে”- কক্সবাজারে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার: টেন্ডার সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে ‘রয়েল নাসির’

গণহত্যাকারীদের বিচার হবে এ দেশের মাটিতেই: ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যারা গণহত্যায় জড়িত ছিল, যারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার এ দেশের মাটিতে হবেই।

স্বাধীনতা দিবস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ এনে দিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ এনে দিয়েছে, আমরা সে সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।

বাংলাদেশের সবচাইতে বড় সমস্যা সীমাহীন দুর্নীতি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বৈরাচারী সরকার এই দুর্নীতিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানে নিয়ে গেছে। দুর্নীতির ফলে শুধু যে সবকিছুতে অবিশ্বাস্য রকম ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই না, এর ফলে সরকার ও জনগণের সকল আয়োজন বিকৃত হয়ে যায়। সরকারের লক্ষ্য, নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব যা কিছু কাগজে লেখা থাকে তার সবকিছু অর্থহীন হয়ে যায়। দেশ চলে অলিখিত আয়োজনে। সরকারকে চলতে হয়, ব্যবসায়ীকে চলতে হয়, শিল্পপতিকে চলতে হয়, বিনিয়োগকারীকে চলতে হয়, দেশের সকল নাগরিককে এই অলিখিত নিয়মে চলতে হয়।

‘নাগরিককে এই অদৃশ্য জগতের সঙ্গে মোকাবেলা করে টিকে থাকার বিদ্যায় পারদর্শী হবার সাধনা করতে হয়। দৈনন্দিন জীবনে টিকে থাকা এবং সাফল্য অর্জনের জন্য একটা নতুন ভাষা আয়ত্ত করতে হয়। চারদিকে কী শব্দ বলা হচ্ছে, কাগজে কী লেখা হচ্ছে- তা মনে মনে দ্রুত অনুবাদ করে তার মর্মার্থ বুঝে নিতে হয়, তা না হলে দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। সবচেয়ে বড় মুশকিল হলো, এর কোনো অভিধান নেই। কারণ ব্যক্তি বিশেষে, স্থান বিশেষে, পরিস্থিতি বিশেষে এর অর্থ ক্রমাগতভাবে পাল্টে যায়।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন– পুরো বিশ্ব বুঝে গেছে, আমরা জাতি হিসেবে সততার পরিচয় বহন করি না। এটা শুধু জাতীয় কলঙ্কের বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এটা আত্মঘাতী বিষয়। দেশবাসীর মতো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও চায় আমরা দুর্নীতিমুক্ত হই। কারণ, তারা আমাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে চায়। দুর্নীতিমুক্ত হতে না পারলে ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুই চলবে না। দুর্নীতি থেকে মুক্ত হওয়া ছাড়া বাংলাদেশের কোনো গতি নেই।

অন্তর্বর্তী সরকার সকল কাজ দুর্নীতিমুক্ত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সরকারের মেয়াদকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার চেষ্টার পাশাপাশি আগামী দিনেও দেশের নাগরিককে যেন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাপুষ্ট দুর্নীতি থেকে মুক্ত রাখতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

‘দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে আমরা একটা বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। সরকারের সঙ্গে দৈনন্দিন, মাসিক বা বার্ষিক রুটিন কাজের জন্য যেন কোনো নাগরিককে সশরীরে কোনো সরকারি অফিসে উপস্থিত হতে না হয়। দুর্নীতি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সরকারি সব অফিসে ই-ফাইলিং চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চালু হলে দুর্নীতি কমে আসবে। এতে করে কোনো অফিসের কোন ডেস্কে কোন ফাইল আটকে আছে, তা সহজেই জানা যাবে,’ বলেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, বিগত সরকারের আমলে ভিন্নমতকে দমন করার জন্য মিথ্যা মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই বাছাই করে আমরা এসব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছি। গত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর মধ্যে সারাদেশে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২৯৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যান্য সকল হয়রানিমূলক মামলাও ক্রমান্বয়ে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

‘এছাড়া, এ পর্যন্ত সাইবার সিকিউরিটি আইনের অধীনে বিচারাধীন স্পিচ অফেন্স সংক্রান্ত ৪১৩টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই আইনটি অবিলম্বে বাতিল করে নাগরিক বান্ধব সাইবার সুরক্ষা আইন করা হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, মানুষের ভোগান্তি রোধেও আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছি। জিডি করার সময় স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য এখন আর থানায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এটা অনলাইনেই করা যাবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালায় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের হয়রানি লাঘব করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালার আলোকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির পাসপোর্টে ‘নো ভিসা রিকয়ার্ড’ স্টিকার থাকলে কিংবা জন্মসনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই তিনি বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করতে পারবেন।

‘সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পর বিমানের টিকেট কেনার পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে নিয়ে যাওয়ার ফলে বিমানের টিকিটের দাম শতকরা ৫০ থেকে ৭৫ ভাগ কমে গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচের প্রবাসী ভাইবোনেরা এতে করে স্বস্তি পাচ্ছেন। এছাড়া, অন্যান্য এয়ারলাইনে টিকিটের দামও কমে গেছে।’

নাগরিকদের হয়রানিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদানের জন্য সরকার ভূমিসেবা ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন– ভূমি মন্ত্রণালয় অনলাইনে ঘরে বসেই জমির খাজনা প্রদান, নামজারি, জমাখারিজ, খতিয়ান বা পরচা সার্টিফাইড কপি ও মৌজা ম্যাপ বা নকশা প্রদানের কার্যক্রম চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে ভোগান্তি, অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অবসান হবে। বর্তমানে সারাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। এগুলোকে ক্রমান্বয়ে আরও জনবান্ধব করে স্থায়ী রূপ দেয়া হবে।

ড. ইউনূস বলেন, রাজস্ব সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর জায়গায় দুটি পৃথক বিভাগ করা হচ্ছে। একটি হলো নীতি প্রণয়ন বিভাগ বা জাতীয় রাজস্ব নীতি বোর্ড, অন্যটি বাস্তবায়ন বিভাগ বা জাতীয় রাজস্ব সংগ্রহ বিভাগ। এর ফলে সরকারের পছন্দের ব্যক্তিরা হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার আর সুযোগ পাবে না। আমি আশা করি, পরবর্তীতে যারা সরকারে আসবেন, তারাও এই নীতি বহাল রাখবেন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পাহাড় কর্তনকারী ও বন্যায় স্লুইসগেট বন্ধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে-প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম

গণহত্যাকারীদের বিচার হবে এ দেশের মাটিতেই: ড. ইউনূস

আপডেট সময় : ০৮:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যারা গণহত্যায় জড়িত ছিল, যারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার এ দেশের মাটিতে হবেই।

স্বাধীনতা দিবস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ এনে দিয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ এনে দিয়েছে, আমরা সে সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।

বাংলাদেশের সবচাইতে বড় সমস্যা সীমাহীন দুর্নীতি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বৈরাচারী সরকার এই দুর্নীতিকে বিশ্বের শীর্ষস্থানে নিয়ে গেছে। দুর্নীতির ফলে শুধু যে সবকিছুতে অবিশ্বাস্য রকম ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই না, এর ফলে সরকার ও জনগণের সকল আয়োজন বিকৃত হয়ে যায়। সরকারের লক্ষ্য, নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব যা কিছু কাগজে লেখা থাকে তার সবকিছু অর্থহীন হয়ে যায়। দেশ চলে অলিখিত আয়োজনে। সরকারকে চলতে হয়, ব্যবসায়ীকে চলতে হয়, শিল্পপতিকে চলতে হয়, বিনিয়োগকারীকে চলতে হয়, দেশের সকল নাগরিককে এই অলিখিত নিয়মে চলতে হয়।

‘নাগরিককে এই অদৃশ্য জগতের সঙ্গে মোকাবেলা করে টিকে থাকার বিদ্যায় পারদর্শী হবার সাধনা করতে হয়। দৈনন্দিন জীবনে টিকে থাকা এবং সাফল্য অর্জনের জন্য একটা নতুন ভাষা আয়ত্ত করতে হয়। চারদিকে কী শব্দ বলা হচ্ছে, কাগজে কী লেখা হচ্ছে- তা মনে মনে দ্রুত অনুবাদ করে তার মর্মার্থ বুঝে নিতে হয়, তা না হলে দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। সবচেয়ে বড় মুশকিল হলো, এর কোনো অভিধান নেই। কারণ ব্যক্তি বিশেষে, স্থান বিশেষে, পরিস্থিতি বিশেষে এর অর্থ ক্রমাগতভাবে পাল্টে যায়।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন– পুরো বিশ্ব বুঝে গেছে, আমরা জাতি হিসেবে সততার পরিচয় বহন করি না। এটা শুধু জাতীয় কলঙ্কের বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এটা আত্মঘাতী বিষয়। দেশবাসীর মতো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও চায় আমরা দুর্নীতিমুক্ত হই। কারণ, তারা আমাদের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে চায়। দুর্নীতিমুক্ত হতে না পারলে ব্যবসা-বাণিজ্য কিছুই চলবে না। দুর্নীতি থেকে মুক্ত হওয়া ছাড়া বাংলাদেশের কোনো গতি নেই।

অন্তর্বর্তী সরকার সকল কাজ দুর্নীতিমুক্ত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সরকারের মেয়াদকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার চেষ্টার পাশাপাশি আগামী দিনেও দেশের নাগরিককে যেন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাপুষ্ট দুর্নীতি থেকে মুক্ত রাখতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

‘দুর্নীতি ও হয়রানি রোধে আমরা একটা বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। সরকারের সঙ্গে দৈনন্দিন, মাসিক বা বার্ষিক রুটিন কাজের জন্য যেন কোনো নাগরিককে সশরীরে কোনো সরকারি অফিসে উপস্থিত হতে না হয়। দুর্নীতি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সরকারি সব অফিসে ই-ফাইলিং চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ই-ফাইলিং ব্যবস্থা চালু হলে দুর্নীতি কমে আসবে। এতে করে কোনো অফিসের কোন ডেস্কে কোন ফাইল আটকে আছে, তা সহজেই জানা যাবে,’ বলেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, বিগত সরকারের আমলে ভিন্নমতকে দমন করার জন্য মিথ্যা মামলাকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই বাছাই করে আমরা এসব হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছি। গত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলোর মধ্যে সারাদেশে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২৯৫টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যান্য সকল হয়রানিমূলক মামলাও ক্রমান্বয়ে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

‘এছাড়া, এ পর্যন্ত সাইবার সিকিউরিটি আইনের অধীনে বিচারাধীন স্পিচ অফেন্স সংক্রান্ত ৪১৩টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই আইনটি অবিলম্বে বাতিল করে নাগরিক বান্ধব সাইবার সুরক্ষা আইন করা হচ্ছে,’ যোগ করেন তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, মানুষের ভোগান্তি রোধেও আমরা আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছি। জিডি করার সময় স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য এখন আর থানায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এটা অনলাইনেই করা যাবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালায় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের হয়রানি লাঘব করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালার আলোকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির পাসপোর্টে ‘নো ভিসা রিকয়ার্ড’ স্টিকার থাকলে কিংবা জন্মসনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই তিনি বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করতে পারবেন।

‘সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পর বিমানের টিকেট কেনার পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে নিয়ে যাওয়ার ফলে বিমানের টিকিটের দাম শতকরা ৫০ থেকে ৭৫ ভাগ কমে গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচের প্রবাসী ভাইবোনেরা এতে করে স্বস্তি পাচ্ছেন। এছাড়া, অন্যান্য এয়ারলাইনে টিকিটের দামও কমে গেছে।’

নাগরিকদের হয়রানিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদানের জন্য সরকার ভূমিসেবা ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন– ভূমি মন্ত্রণালয় অনলাইনে ঘরে বসেই জমির খাজনা প্রদান, নামজারি, জমাখারিজ, খতিয়ান বা পরচা সার্টিফাইড কপি ও মৌজা ম্যাপ বা নকশা প্রদানের কার্যক্রম চালু করেছে। এই পদ্ধতিতে ভোগান্তি, অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অবসান হবে। বর্তমানে সারাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। এগুলোকে ক্রমান্বয়ে আরও জনবান্ধব করে স্থায়ী রূপ দেয়া হবে।

ড. ইউনূস বলেন, রাজস্ব সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর জায়গায় দুটি পৃথক বিভাগ করা হচ্ছে। একটি হলো নীতি প্রণয়ন বিভাগ বা জাতীয় রাজস্ব নীতি বোর্ড, অন্যটি বাস্তবায়ন বিভাগ বা জাতীয় রাজস্ব সংগ্রহ বিভাগ। এর ফলে সরকারের পছন্দের ব্যক্তিরা হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার আর সুযোগ পাবে না। আমি আশা করি, পরবর্তীতে যারা সরকারে আসবেন, তারাও এই নীতি বহাল রাখবেন।