ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
 আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা : ইতিহাস, বাস্তবতা ও করণীয় লোহাগাড়া থেকে নাহিমা আক্তার লিলি নামের এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত উখিয়ায় পুলিশের প্রচেষ্টায় নিখোঁজের এক মাস পর অ’প’হৃ’ত দুই শিশু উদ্ধার টেকনাফ সদর বিভক্তি: ‘উপকূলীয় ইউনিয়ন’ নাম প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ কক্সবাজারে এসএসসির চেয়ে দাখিল-ভোকেশনালে পাসের হার বেশি কক্সবাজারে ডাবল মার্ডারের আসামি সাদ্দাম গ্রেপ্তার কক্সবাজার জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত উদ্বোধনের অপেক্ষায় পেকুয়ার নোয়াখালী সেতু, স্বস্তিতে কয়েক হাজার মানুষ রামুতে মায়ের হাতে ২ মাসের শিশু জবাই : মা আটক আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা : হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নের সমাধান ছাড়া ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়: নাহিদ ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস সোনার ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ছাড়াল আগামী ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে চলেছে বিশ্ব

কোন পথে রোহিঙ্গা সংকট? ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, আসছেন মহাসচিবও

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ। দীর্ঘ সময় ক্যাম্পে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বৈঠক করেন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে। আর রোহিঙ্গারা দাবি জানান, দ্রুত যেন তাদেরকে স্বদেশ মিয়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা, গাড়িবহর যোগে কক্সবাজারের উখিয়ার বর্ধিত ক্যাম্প ৪ পৌছায় জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপসহ ৩ সদস্যদের প্রতিনিধি দল।

প্রথমে বর্ধিত ক্যাম্প ৪ এর সি ব্লকে বৈঠক করেন রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের সঙ্গে। ঘন্টাব্যাপি এ বৈঠক শেষে ছুটে যান একই ক্যাম্পের শিক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ সেন্টারে। সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম দেখার পর ১ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে ঘুরে ঘুরে ক্যাম্পরর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

বেলা ১২ টার পর পরিদর্শন করে ক্যাম্প ৪ এর সোলার প্যানেল মেরামত কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ সেন্টারে। সেখানে রোহিঙ্গা কিশোরীদের সঙ্গে আলাপ করেন। তারপর ছুটে যান একই ক্যাম্পের ডব্লিউএফপি পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে। সেখানে বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি আলাপ করেন রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষদের সঙ্গে। এসময় রোহিঙ্গারা নানা দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

এরপর জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল দুপুরে পর যান ক্যাম্প ১৮ এর রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক স্মৃতি কেন্দ্রে। সেখানে রোহিঙ্গা যুবকদের সঙ্গে আলাপের পর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন জুলি বিশপ। আর প্রতিনিধি দলটি বিকেল ৫ টার দিকে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরে জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ বলেন, “আমি মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত। আমার কাজ হচ্ছে মিয়ানমার এবং আশপাশের দেশ থেকে সব ধরণের মানুষের কথা শোনা। আমি এজন্যই বাংলাদেশে এসেছি বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করার জন্য এবং দেখার জন্য যে আমরা কোন সমাধানে পৌঁছাতে পারি কি না। এখানে থাকা জাতিসংঘের দলটি শরণার্থীদের সহায়তায় কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং আমরা হোস্ট কমিউনিটি ও বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছি একটা সমাধানে পৌঁছানোর জন্য।”

বিকেলে জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের নেতৃত্বে কক্সবাজার আসা প্রতিনিধি দল ঢাকা উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফর করবেন বলেও জানা গেছে। এই সফরে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

 আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা : ইতিহাস, বাস্তবতা ও করণীয়

কোন পথে রোহিঙ্গা সংকট? ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, আসছেন মহাসচিবও

আপডেট সময় : ০৭:০১:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ। দীর্ঘ সময় ক্যাম্পে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বৈঠক করেন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের সঙ্গে। আর রোহিঙ্গারা দাবি জানান, দ্রুত যেন তাদেরকে স্বদেশ মিয়ানমারে ফেরাতে জাতিসংঘ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা, গাড়িবহর যোগে কক্সবাজারের উখিয়ার বর্ধিত ক্যাম্প ৪ পৌছায় জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপসহ ৩ সদস্যদের প্রতিনিধি দল।

প্রথমে বর্ধিত ক্যাম্প ৪ এর সি ব্লকে বৈঠক করেন রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের সঙ্গে। ঘন্টাব্যাপি এ বৈঠক শেষে ছুটে যান একই ক্যাম্পের শিক্ষা কেন্দ্র ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ সেন্টারে। সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম দেখার পর ১ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে ঘুরে ঘুরে ক্যাম্পরর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

বেলা ১২ টার পর পরিদর্শন করে ক্যাম্প ৪ এর সোলার প্যানেল মেরামত কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ সেন্টারে। সেখানে রোহিঙ্গা কিশোরীদের সঙ্গে আলাপ করেন। তারপর ছুটে যান একই ক্যাম্পের ডব্লিউএফপি পরিচালিত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে। সেখানে বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি আলাপ করেন রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষদের সঙ্গে। এসময় রোহিঙ্গারা নানা দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

এরপর জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল দুপুরে পর যান ক্যাম্প ১৮ এর রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক স্মৃতি কেন্দ্রে। সেখানে রোহিঙ্গা যুবকদের সঙ্গে আলাপের পর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন জুলি বিশপ। আর প্রতিনিধি দলটি বিকেল ৫ টার দিকে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরে জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ বলেন, “আমি মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত। আমার কাজ হচ্ছে মিয়ানমার এবং আশপাশের দেশ থেকে সব ধরণের মানুষের কথা শোনা। আমি এজন্যই বাংলাদেশে এসেছি বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করার জন্য এবং দেখার জন্য যে আমরা কোন সমাধানে পৌঁছাতে পারি কি না। এখানে থাকা জাতিসংঘের দলটি শরণার্থীদের সহায়তায় কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে এবং আমরা হোস্ট কমিউনিটি ও বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছি একটা সমাধানে পৌঁছানোর জন্য।”

বিকেলে জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের নেতৃত্বে কক্সবাজার আসা প্রতিনিধি দল ঢাকা উদ্দেশ্যে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফর করবেন বলেও জানা গেছে। এই সফরে কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।