ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘আনসারের পৃথক তিনটি আইন রূপান্তর করে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা হবে’  মেসিহীন আর্জেন্টিনার উড়ন্ত সূচনা, ৪ গোল দিলো বলিভিয়াকে জামায়াত-আওয়ামী লীগে কোনো পার্থক্য নেই : উমামা ফাতেমা এমপি পদ থেকে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হচ্ছে আন্তর্জাতিক কফি দিবস আজ ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫০০ টাকা! কলাতলীতে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ২৪ ঘন্টার সময় বেঁধে দিলো প্রশাসন হাসপাতাল থেকে হাতকড়াসহ পালালো অস্ত্র মামলার আসামী রোহিঙ্গা ইব্রাহিম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ : তদন্ত প্রতিবেদন জমা কুলসুমার সঙ্গে বাসটার্মিনালের হোটেলে উঠেছিল যুবক, পরে মিললো মরদেহ হাদির নাম মুছে ঢাবির হলের ফটকে ফিরছে বঙ্গবন্ধুর নাম লোহাগাড়ায় ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির যাচাই-বাছাই কমিটি : প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের ‘রায়’

কলাতলীর অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব: ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

  • রাহুল মহাজন:
  • আপডেট সময় : ০২:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • 502

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কয়েক ঘণ্টা ধরে কাজ করে।

বৃহস্পতিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। সময়োপযোগী ও সমুচিত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সচিব জানান, ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম)-এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে কমিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কে আহবায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপ-পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর, উপ-পরিচালক ফায়ার সার্ভিস ও সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক।

তিনি আরও বলেন, এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষের বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স ছিল কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিস্ফোরণের আগে স্টেশনটিতে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যান। আগুনে গ্যাস পাম্পের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশপাশের কয়েকটি বসতঘর ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

দগ্ধদের ৫ জনকে চমেকে প্রেরণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আবু তাহের ও আব্দুর রহিম নামের দুই জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। বাকী ২ জন কে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকী ৩ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফিরে গেছে।

২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কলাতলী এলাকায় একটি নবনির্মিত কক্সবাজার ফিলিং স্টেশনে এলপিজি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং আশপাশের বসতবাড়ি ও পার্কিং করা পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখনও অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

সাম্প্রতিক এই বিস্ফোরণের ঘটনায় পুনরায় এলপিজি স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা মান নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কলাতলীর অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ত্রাণ ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব: ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ০২:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি এলপিজি গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কয়েক ঘণ্টা ধরে কাজ করে।

বৃহস্পতিবার সকালে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এলপিজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস লিকেজের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টায় রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। সময়োপযোগী ও সমুচিত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সচিব জানান, ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম)-এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে কমিটি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কে আহবায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, উপ-পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর, উপ-পরিচালক ফায়ার সার্ভিস ও সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক।

তিনি আরও বলেন, এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষের বৈধ কাগজপত্র ও লাইসেন্স ছিল কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিস্ফোরণের আগে স্টেশনটিতে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে নিরাপদ স্থানে সরে যান। আগুনে গ্যাস পাম্পের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশপাশের কয়েকটি বসতঘর ও যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

দগ্ধদের ৫ জনকে চমেকে প্রেরণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আবু তাহের ও আব্দুর রহিম নামের দুই জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। বাকী ২ জন কে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকী ৩ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ী ফিরে গেছে।

২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কলাতলী এলাকায় একটি নবনির্মিত কক্সবাজার ফিলিং স্টেশনে এলপিজি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং আশপাশের বসতবাড়ি ও পার্কিং করা পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত একাধিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখনও অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

সাম্প্রতিক এই বিস্ফোরণের ঘটনায় পুনরায় এলপিজি স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা ও নিরাপত্তা মান নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।