ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে সাংবাদিকদের ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপন অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে পেকুয়ায় র‍্যালি ও পথসভা দশ মিনিটেই পুড়ে ছাই ব্যবসায়ী কাইছারের শেষ সম্বল দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য খুলল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার পথ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়া উদ্যানের জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস : প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার থেকে ফেরা হলো না, লোহাগাড়ায় মিনিট্রাকের ধাক্কায় দুই যুবক নিহত শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে দু’র্ঘ’ট’না, বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নি’হ’ত শক্তিশালী টেকনাফকে হারিয়ে ফাইনালে রামু : ম্যান অব দ্যা ম্যাচ কৌশিক বড়ুয়া প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভা: দিনব্যাপী কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি চকরিয়ায় বাসে তল্লাশি : ইয়াবাসহ ২ রোহিঙ্গা যুবক আটক আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন মেসি উজানটিয়া বেড়িবাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বসানো হচ্ছে জিও ব্যাগ, এলাকাজুড়ে স্বস্তি

কক্সবাজারে ভোট গ্রহন হয়েছে ৫০ শতাংশ

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও কক্সবাজার জেলায় অর্ধেকের মতো ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। জেলার চারটি সংসদীয় আসনে গড়ে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫০ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

জেলার ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও টহলের মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হলে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় গণনা।

আসনভিত্তিক ভোটের হার বিশ্লেষণে দেখা যায়, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৪ শতাংশ, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে ৪৬ শতাংশ, কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে ৪৮ শতাংশ এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে কক্সবাজার-১ আসনে এবং সর্বনিম্ন কক্সবাজার-২ আসনে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. আজিজ জানান, কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। ভোটের দিন সকাল থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিলো তুলনামূলক বেশি। দুপুরের পর ভোটারের উপস্থিতি কমে শেষ পর্যন্ত গড় হার ৫০ শতাংশেই থেমে যায়।

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও প্রত্যাশিত হারে ভোটার উপস্থিতি ছিল না।ভোট চলাকালে সদর উপজেলার গর্জনীয় ও খুরুশকুল ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে আটক করে পুলিশ। তবে ভোটগ্রহণ শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন উপলক্ষে কক্সবাজার জেলায় ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যদের টহল ছিল দৃশ্যমান। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। ক্যাম্প এলাকায় চলাচলে নজরদারি জোরদার করা হয় এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথবাহিনী প্রস্তুত ছিল। কক্সবাজার জেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তায় মোট ১৩ হাজার ৪৯৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলো। এর মধ্যে রয়েছেন ২ হাজার ১৬৬ জন সেনা, ৮৮০ জন বিজিবি, ৩৯৯ জন নৌবাহিনী, ৫০ জন বিমান বাহিনী, ১৪৫ জন কোস্টগার্ড, ৮০ জন র‌্যাব, ১৯০ জন আনসার ব্যাটেলিয়ন ও ১ হাজার ৮১৫ জন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া আনসার ও ভিডিপির ৭ হাজার ৭৭৪ জন সদস্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতি কেন্দ্রে তাঁদের ১৩ জন সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করেছেন।

জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ পেলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গণনা শুরু হয়েছে এবং ফলাফল পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অর্ধেক ভোটার ভোট না দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আস্থা ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে সাংবাদিকদের ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপন অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ

কক্সবাজারে ভোট গ্রহন হয়েছে ৫০ শতাংশ

আপডেট সময় : ০১:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হলেও কক্সবাজার জেলায় অর্ধেকের মতো ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি। জেলার চারটি সংসদীয় আসনে গড়ে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫০ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

জেলার ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও টহলের মধ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হলে সন্ধ্যা থেকে শুরু হয় গণনা।

আসনভিত্তিক ভোটের হার বিশ্লেষণে দেখা যায়, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৪ শতাংশ, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে ৪৬ শতাংশ, কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) আসনে ৪৮ শতাংশ এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) আসনে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে কক্সবাজার-১ আসনে এবং সর্বনিম্ন কক্সবাজার-২ আসনে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. আজিজ জানান, কক্সবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। ভোটের দিন সকাল থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিলো তুলনামূলক বেশি। দুপুরের পর ভোটারের উপস্থিতি কমে শেষ পর্যন্ত গড় হার ৫০ শতাংশেই থেমে যায়।

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও প্রত্যাশিত হারে ভোটার উপস্থিতি ছিল না।ভোট চলাকালে সদর উপজেলার গর্জনীয় ও খুরুশকুল ইউনিয়নের দুটি কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে আটক করে পুলিশ। তবে ভোটগ্রহণ শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

নির্বাচন উপলক্ষে কক্সবাজার জেলায় ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যদের টহল ছিল দৃশ্যমান। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। ক্যাম্প এলাকায় চলাচলে নজরদারি জোরদার করা হয় এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথবাহিনী প্রস্তুত ছিল। কক্সবাজার জেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তায় মোট ১৩ হাজার ৪৯৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলো। এর মধ্যে রয়েছেন ২ হাজার ১৬৬ জন সেনা, ৮৮০ জন বিজিবি, ৩৯৯ জন নৌবাহিনী, ৫০ জন বিমান বাহিনী, ১৪৫ জন কোস্টগার্ড, ৮০ জন র‌্যাব, ১৯০ জন আনসার ব্যাটেলিয়ন ও ১ হাজার ৮১৫ জন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া আনসার ও ভিডিপির ৭ হাজার ৭৭৪ জন সদস্য ভোটকেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতি কেন্দ্রে তাঁদের ১৩ জন সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। ৩৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করেছেন।

জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ পেলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গণনা শুরু হয়েছে এবং ফলাফল পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অর্ধেক ভোটার ভোট না দেওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আস্থা ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।