ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৩০ লক্ষ টাকার ঔষধ জব্দ : আটক ৩ সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে স্বাস্থ্য খাতের ওপর: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম মরিয়মের রেখে যাওয়া শেষ চিঠিগুলোতে কী লেখা ছিল? পুলিশ সুপারের সাথে নিহত একরামের পিতা-মাতার সাক্ষাত: সন্তান হত্যার বিচার দাবি পেকুয়ায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ১৩৯তম শুভ আবির্ভাব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী মহোৎসব সম্পন্ন বাফুফের একাডেমিক স্বীকৃতি পেয়েছে কালারমারছড়া ফুটবল একাডেমি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা বাইকের জন্য প্রাণ দিতে হলো সাইফুলকে! কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযান : ২৪ ঘন্টায় আটক ২১ সাবরাং থেকে মিঠাছড়ির ৫ অপহৃত উদ্ধার : গ্রেপ্তার ১

কক্সবাজারে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের দাবিতে মানববন্ধন— দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সমুদ্রের গর্জনে মুখরিত কক্সবাজার — পাহাড়, প্রকৃতি আর পর্যটকে সমৃদ্ধ এক অনন্য জেলা। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা সেবার দিক দিয়ে যেন রয়ে গেছে পিছিয়ে। প্রায় ২৯ লক্ষ মানুষের বসবাস, সঙ্গে ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা, হাজারো সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবী এবং প্রতিদিন আগত অগণিত পর্যটক — অথচ নেই একটি সরকারি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। কক্সবাজারবাসীর এই দীর্ঘদিনের অবহেলার ক্ষোভ এবার রূপ নিলো মানববন্ধনে।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পৌরসভা চত্বরে আয়োজন করা হয় এক শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের। “কক্সবাজারবাসীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করো”—এই স্লোগানে একত্রিত হন জেলার স্বেচ্ছাসেবক, সচেতন নাগরিক এবং সর্বদলীয় মানুষ। বিএনপি, জামায়াত, কমিউনিস্ট পার্টি, এনসিপি — রাজনীতির বিভাজন ভুলে সবাই এক কাতারে।

মানববন্ধনে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, আমার স্ত্রী একজন কিডনি রোগী। ডায়ালাইসিস করাতে সূদুর চট্টগ্রাম নিয়ে যেতে হয়। যেখানে সপ্তাহে ৩ বার ডায়ালাইসিস করতে হয়। প্রতিবার ৪ হাজার টাকা করে সপ্তাহে ১২ টাকা খরচ হয়। এছাড়া আয়রন ইনজেকশন দিতে হয়। এমন খরচের চিকিৎসা কক্সবাজার থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে করানো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমরা অনতিবিলম্বে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দাবি জানাই। যদি দাবি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মতো আন্দোলন করে দাবি আদায় করা হবে। প্রথমে আমরা মতবিনিময় করেছি, এরপর এখানে মানববন্ধন করছি, পরবর্তীতে রাস্তায় নেমে অবরোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলাম বাহাদুর বা ভিপি বাহাদুর বলেন, কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় অবশ্যই কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার প্রয়োজন। আমাদের দাবি যৌক্তিক। যৌক্তিক দাবির জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার দাবি জানান।

বাম নেতা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, প্রথমে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। যদি কলেজ পূর্ণাঙ্গ হয় তাহলে সকল আধুনিক সুযোগসুবিধা পাব। পাশাপাশি এনজিও থেকে বরাদ্দ পাওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ২৫% থেকে একটি আধুনিক কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার অনুরোধ জানাচ্ছি। এটি করার জন্য আমরা একমাস সময় বেঁধে দিচ্ছি। এর মধ্যে করতে হবে। নাহয় আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।

আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, আমরা সকল মানুষ একত্রিত হয়েছি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের মতো আমাদের মৌলিক অধিকার আদায় করতে। আমাদের চাইতে হবে কেন। আমাদের অবশ্যই কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার দিতে হবে কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায়।

পরবর্তীতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিনকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দাবি জানানো হয় জেলা প্রশাসককে।

বিষয়টি নিয়ে মানববন্ধনের সংগঠক ইমরান হোসাইন নবি বলেন, কক্সবাজার জেলা গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। আমরা গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার দাবি জানাচ্ছি। এটি সরকার চাইলে এখনই সম্ভব। বেশি টাকা তো দরকার নেই। এখানে অনেক এনজিও কাজ করে। তাদের বললেও হয়ে যায়। তাই আমাদের যৌক্তিক দাবি সরকারকে জানিয়েছি।

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সরকারিভাবে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের জন্য এই মানববন্ধন থেকে সরকার, সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে দাবি জানাচ্ছি। আমাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। বিদেশে না গিয়ে আমাদের দেশে আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

কক্সবাজারে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের দাবিতে মানববন্ধন— দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

সমুদ্রের গর্জনে মুখরিত কক্সবাজার — পাহাড়, প্রকৃতি আর পর্যটকে সমৃদ্ধ এক অনন্য জেলা। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা সেবার দিক দিয়ে যেন রয়ে গেছে পিছিয়ে। প্রায় ২৯ লক্ষ মানুষের বসবাস, সঙ্গে ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা, হাজারো সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবী এবং প্রতিদিন আগত অগণিত পর্যটক — অথচ নেই একটি সরকারি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। কক্সবাজারবাসীর এই দীর্ঘদিনের অবহেলার ক্ষোভ এবার রূপ নিলো মানববন্ধনে।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পৌরসভা চত্বরে আয়োজন করা হয় এক শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের। “কক্সবাজারবাসীর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করো”—এই স্লোগানে একত্রিত হন জেলার স্বেচ্ছাসেবক, সচেতন নাগরিক এবং সর্বদলীয় মানুষ। বিএনপি, জামায়াত, কমিউনিস্ট পার্টি, এনসিপি — রাজনীতির বিভাজন ভুলে সবাই এক কাতারে।

মানববন্ধনে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, আমার স্ত্রী একজন কিডনি রোগী। ডায়ালাইসিস করাতে সূদুর চট্টগ্রাম নিয়ে যেতে হয়। যেখানে সপ্তাহে ৩ বার ডায়ালাইসিস করতে হয়। প্রতিবার ৪ হাজার টাকা করে সপ্তাহে ১২ টাকা খরচ হয়। এছাড়া আয়রন ইনজেকশন দিতে হয়। এমন খরচের চিকিৎসা কক্সবাজার থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে করানো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমরা অনতিবিলম্বে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দাবি জানাই। যদি দাবি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মতো আন্দোলন করে দাবি আদায় করা হবে। প্রথমে আমরা মতবিনিময় করেছি, এরপর এখানে মানববন্ধন করছি, পরবর্তীতে রাস্তায় নেমে অবরোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।

জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলাম বাহাদুর বা ভিপি বাহাদুর বলেন, কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায় অবশ্যই কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার প্রয়োজন। আমাদের দাবি যৌক্তিক। যৌক্তিক দাবির জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার দাবি জানান।

বাম নেতা বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, প্রথমে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপ দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। যদি কলেজ পূর্ণাঙ্গ হয় তাহলে সকল আধুনিক সুযোগসুবিধা পাব। পাশাপাশি এনজিও থেকে বরাদ্দ পাওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ২৫% থেকে একটি আধুনিক কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার অনুরোধ জানাচ্ছি। এটি করার জন্য আমরা একমাস সময় বেঁধে দিচ্ছি। এর মধ্যে করতে হবে। নাহয় আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।

আমরা কক্সবাজারবাসী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, আমরা সকল মানুষ একত্রিত হয়েছি কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের মতো আমাদের মৌলিক অধিকার আদায় করতে। আমাদের চাইতে হবে কেন। আমাদের অবশ্যই কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার দিতে হবে কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গায়।

পরবর্তীতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিনকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দাবি জানানো হয় জেলা প্রশাসককে।

বিষয়টি নিয়ে মানববন্ধনের সংগঠক ইমরান হোসাইন নবি বলেন, কক্সবাজার জেলা গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। আমরা গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার দাবি জানাচ্ছি। এটি সরকার চাইলে এখনই সম্ভব। বেশি টাকা তো দরকার নেই। এখানে অনেক এনজিও কাজ করে। তাদের বললেও হয়ে যায়। তাই আমাদের যৌক্তিক দাবি সরকারকে জানিয়েছি।

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সরকারিভাবে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের জন্য এই মানববন্ধন থেকে সরকার, সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে দাবি জানাচ্ছি। আমাদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। বিদেশে না গিয়ে আমাদের দেশে আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।