ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবকের পা বিচ্ছিন্ন টেকনাফে অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে : চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক শামীম কক্সবাজারে অস্ত্র মামলার পলাতক আসামি আবু সিদ্দিক গ্রেপ্তার পেকুয়ায় এবার ব্যবসায়ীর বাড়িতে দূর্ধর্ষ চুরি : স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট রামুতে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন: ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা মেসির ৩ ছেলের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো ফুটবলার হতে পারে? হোয়াইক্যং চেকপোস্টে বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৬ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, আটক চালক মৃত্যুকে ভয় পাই না, আমি নিজেই একজন জুলাই যোদ্ধা: হিরো আলম উপকূল অতিক্রম করে দুর্বল হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সংকেত বহাল ‎বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে জিবনের বিচ্ছেদ হলো রুবিনা আক্তারের জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কক্সবাজার জেলার আহবায়ক কমিটি: স্বপন আহবায়ক, বাবু সদস্য সচিব ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর হাইকোর্টের আদেশ: পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আগের সভাপতি বহাল প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা
সংসদে ফজলুর রহমান

হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’

বাংলাদেশে শত বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সুফিবাদের চিরায়ত ঐতিহ্য আজ এক শ্রেণির চরমপন্থির কারণে সংকটের মুখে পড়েছে বলে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এর সভাপতিত্বে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পরমতসহিষ্ণুতা এবং বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর আঘাতের তীব্র সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেছেন, অলি-আউলিয়াদের হাত ধরে এই দেশে যে শান্তির সুফিবাদ এসেছে, তা আজ একদল পোশাকধারী ধর্ম ব্যবসায়ী ধ্বংস করতে মেতে উঠেছে।

‘সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের’ হুমকির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, চৌদ্দ পুরুষ আগে থেকেই এই দেশ হিন্দু ও বৌদ্ধদেরও ছিল। তারা এই দেশেরই ৯ শতাংশ মানুষ, যাদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি এবং এই মাটি তাদেরও পূর্বপুরুষের দেশ। হিন্দুরা তাদের মন্দিরে যত খুশি বড় মূর্তি বানিয়ে পূজা করুক আর মুসলমানরা ২৫ তলা মসজিদ বানিয়ে নামাজ পড়ুক, এতে কারও কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। বরং এটাই এ দেশের আসল সৌন্দর্য। অথচ এই সহজ সত্যটি আজ এক শ্রেণির মানুষ মেনে নিতে পারছে না, যারা পৃথিবীর কোনো সভ্যতা বা সংস্কৃতিকে তোয়াক্কা করে না।

এই চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফজলুর রহমান বলেন, যদি সরকার মনে করে দেশে মন্দির বা মূর্তি তৈরি করা যাবে না, তবে তা আইন করে কঠোরভাবে বন্ধ করে দিক। কিন্তু যদি তা না হয়, তবে সংখ্যালঘুদের ওপর এই অত্যাচার ও মাজার সংস্কৃতির ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.), হযরত শাহজালাল (রহ.), শাহ পরান (রহ.) কিংবা খান জাহান আলীর মতো অলি-আউলিয়ারা এই দেশে এসে সবার ওপরে মানুষের জয়গান গেয়েছেন এবং সুফিবাদের শিক্ষা দিয়েছেন। অথচ আজ সেই সুফিবাদের অনুসারীদের ওপর নৃশংস হামলা হচ্ছে, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে পীর-মাশায়েখদের নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে মারা হচ্ছে এবং খোদ শাহজালালের মাজার ভাঙার জন্য কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে।

এই উগ্রতা ও মাজার ভাঙার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, যার ইচ্ছা সে মাজারে যাবে, যার ইচ্ছা যাবে না; কেউ চাইলে আহলে হাদিস পালন করবে, কিন্তু জোর করে কারো ওপর কোনো মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া বা অন্যের উপাসনালয় ও মাজার ধ্বংস করার অধিকার কারো নেই।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট
ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি যুবকের পা বিচ্ছিন্ন

সংসদে ফজলুর রহমান

হিন্দুরা মন্দিরে মূর্তি বানাবে, মুসলমানরা মসজিদ বানাবে—সমস্যা কোথায়?’

আপডেট সময় : ১২:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে শত বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সুফিবাদের চিরায়ত ঐতিহ্য আজ এক শ্রেণির চরমপন্থির কারণে সংকটের মুখে পড়েছে বলে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এর সভাপতিত্বে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পরমতসহিষ্ণুতা এবং বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ওপর আঘাতের তীব্র সমালোচনা করে ফজলুর রহমান বলেছেন, অলি-আউলিয়াদের হাত ধরে এই দেশে যে শান্তির সুফিবাদ এসেছে, তা আজ একদল পোশাকধারী ধর্ম ব্যবসায়ী ধ্বংস করতে মেতে উঠেছে।

‘সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগের’ হুমকির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, চৌদ্দ পুরুষ আগে থেকেই এই দেশ হিন্দু ও বৌদ্ধদেরও ছিল। তারা এই দেশেরই ৯ শতাংশ মানুষ, যাদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি এবং এই মাটি তাদেরও পূর্বপুরুষের দেশ। হিন্দুরা তাদের মন্দিরে যত খুশি বড় মূর্তি বানিয়ে পূজা করুক আর মুসলমানরা ২৫ তলা মসজিদ বানিয়ে নামাজ পড়ুক, এতে কারও কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। বরং এটাই এ দেশের আসল সৌন্দর্য। অথচ এই সহজ সত্যটি আজ এক শ্রেণির মানুষ মেনে নিতে পারছে না, যারা পৃথিবীর কোনো সভ্যতা বা সংস্কৃতিকে তোয়াক্কা করে না।

এই চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফজলুর রহমান বলেন, যদি সরকার মনে করে দেশে মন্দির বা মূর্তি তৈরি করা যাবে না, তবে তা আইন করে কঠোরভাবে বন্ধ করে দিক। কিন্তু যদি তা না হয়, তবে সংখ্যালঘুদের ওপর এই অত্যাচার ও মাজার সংস্কৃতির ওপর আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী (রহ.), হযরত শাহজালাল (রহ.), শাহ পরান (রহ.) কিংবা খান জাহান আলীর মতো অলি-আউলিয়ারা এই দেশে এসে সবার ওপরে মানুষের জয়গান গেয়েছেন এবং সুফিবাদের শিক্ষা দিয়েছেন। অথচ আজ সেই সুফিবাদের অনুসারীদের ওপর নৃশংস হামলা হচ্ছে, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরে পীর-মাশায়েখদের নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পুড়িয়ে মারা হচ্ছে এবং খোদ শাহজালালের মাজার ভাঙার জন্য কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে।

এই উগ্রতা ও মাজার ভাঙার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, যার ইচ্ছা সে মাজারে যাবে, যার ইচ্ছা যাবে না; কেউ চাইলে আহলে হাদিস পালন করবে, কিন্তু জোর করে কারো ওপর কোনো মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া বা অন্যের উপাসনালয় ও মাজার ধ্বংস করার অধিকার কারো নেই।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট