ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত? দেখে নিন মুক্তির উপায়

ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও এক্স-এর মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো প্রায়ই কর্মদক্ষতা, মানসিক সুস্থতা ও বাস্তব জীবনের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে কীভাবে সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকে দূরে থাকা যায় ও আমাদের ডিজিটাল জীবনের নিয়ন্ত্রণ আনা যায়।

সচেতনভাবে ব্যবহার না করলে সামাজিক মাধ্যম মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই নিয়মিত নোটিফিকেশন দেখে, ফিড স্ক্রল করে, অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করে নিজের অজান্তে একটি অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলেন।

এ নির্ভরতা কেবল বাস্তবজীবনের যোগাযোগ কমায় না বরং উদ্বেগ, একাকিত্ব এমনকি ফোমো বা ফিয়ার অফ মিসিং আউট-এর মত মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে।

সামাজিক মাধ্যম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ওই প্ল্যাটফর্মগুলোতে লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক আবার মূল্যায়ন করা ও নেতিবাচক প্রভাবক কমানোর সুযোগ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

ব্যবহারের ওপর নজন রাখুন

সব অ্যাপ ডিলিট করার আগে প্রথম ধাপ হলো এটির ব্যবহার ট্র্যাক করা। অ্যাপল ও গুগল দুই কোম্পানিই কিছু বিল্ট ইন টুল দেয় যার মাধ্যমে কোন অ্যাপে কতটা সময় ব্যয় করেছেন তা দেখা যায়।

আইফোনে এ ফিচারটি অ্যাপ ব্যবহরের বিস্তারিত বিবরণ দেয় যার মধ্যে রয়েছে কতটা সময় ব্যয় করা হয়েছে, কোন অ্যাপগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় এবং কত ঘন ঘন ফোন আনলক করা হয়।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল একই ধরনের ফিচার দিয়ে থাকে যা স্ক্রিন টাইম ও অ্যাপ ব্যবহার ট্র্যাক করে থাকে।

ডিটক্স অ্যাপ ব্যবহার করুন

বেশকিছু অ্যাপ রয়েছে যা সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করতে পারে ও ভালো ডিজিটাল অভ্যাস তৈরি করে সহায়তা দেয়।

ডাম্ব ফোন: এটি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো সরিয়ে একটি সাধারণ হোম স্ক্রিন তৈরি করে যা অনর্থক স্ক্রলিংকে নিরুৎসাহিত করে। এটি আপনার ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে সহজ করে তোলে ফলে বার বার ফোন ধরার প্রবণতা কমে যায়।

ওপাল: অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে ফেলা অ্যাপগুলো ব্লক করে আসক্তি দূর করতে সাহায্য করে। এটি স্ক্রিনটাইম দিয়ে থাকে এবং কতটা সময় ব্যয় করা হয়েছে তার একটি ব্যাখ্যা দেয়।

ফরেস্ট: এটি একটি মজাদার অ্যাপ যা ব্যবহারকারীদের গেইম খেলার ছলে ফোন থেকে দূরে রাখে। এতে যখন ফোন এড়িয়ে চলা সহজ হয় তখন একটা ভার্চুয়াল গাছ গজায়। আর ফোন ব্যবহার করলে সে গাছ মারে যায়।

ডিভাইস বদলান

যারা সামাজিক মাধ্যম থেকে কঠোরভাবে বিরতি চান তাদের জন্য ‘বোকা ফোন’ একটি সমাধান হতে পারে। নোকিয়া ২৬৬০ ফোনের মতো ডিভাইসগুলো আধুনিক স্মার্টফোনের ঝামেলা ছাড়াই সাধারণ ফাংশন দিয়ে থাকে। ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীদের যোগাযোগের সুবিধা দেয় একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আকর্ষণ থেকে দূরে রাখে।

নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন

যদি সামাজিক মাধ্যম থেকে পুরোপুরি আলাদা থাকা সম্ভব না হয় তাহলে ধীরে ধীরে ব্যবহারের মাত্রা কমানোর লক্ষ্য ঠিক করুন। নিজের সময়সীমা সম্পর্কে বাস্তববাদী হন, আসক্তি দূর করতে সময় লাগে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন যেমন প্রতি সপ্তাহে স্ক্রিনটাইম ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা।

এসব অ্যাপ একা এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না দৈনন্দিন জীবনে যদি নিজ থেকে উদ্যোগী হয়ে না করেন। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে করা কাজকে এমন কাজের সঙ্গে পরিবর্তন করে দেখুন যা সুস্থতা বৃদ্ধি করে যেমন পড়া, ব্যায়াম করা, রান্না অথবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো। এ কাজগুলো বাস্তব জগতে ফিরে যেতে ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায়

সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত? দেখে নিন মুক্তির উপায়

আপডেট সময় : ০৩:৫৮:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও এক্স-এর মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো প্রায়ই কর্মদক্ষতা, মানসিক সুস্থতা ও বাস্তব জীবনের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ফলে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে কীভাবে সামাজিক মাধ্যমগুলো থেকে দূরে থাকা যায় ও আমাদের ডিজিটাল জীবনের নিয়ন্ত্রণ আনা যায়।

সচেতনভাবে ব্যবহার না করলে সামাজিক মাধ্যম মানসিক স্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকেই নিয়মিত নোটিফিকেশন দেখে, ফিড স্ক্রল করে, অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করে নিজের অজান্তে একটি অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলেন।

এ নির্ভরতা কেবল বাস্তবজীবনের যোগাযোগ কমায় না বরং উদ্বেগ, একাকিত্ব এমনকি ফোমো বা ফিয়ার অফ মিসিং আউট-এর মত মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে।

সামাজিক মাধ্যম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ওই প্ল্যাটফর্মগুলোতে লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক আবার মূল্যায়ন করা ও নেতিবাচক প্রভাবক কমানোর সুযোগ পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

ব্যবহারের ওপর নজন রাখুন

সব অ্যাপ ডিলিট করার আগে প্রথম ধাপ হলো এটির ব্যবহার ট্র্যাক করা। অ্যাপল ও গুগল দুই কোম্পানিই কিছু বিল্ট ইন টুল দেয় যার মাধ্যমে কোন অ্যাপে কতটা সময় ব্যয় করেছেন তা দেখা যায়।

আইফোনে এ ফিচারটি অ্যাপ ব্যবহরের বিস্তারিত বিবরণ দেয় যার মধ্যে রয়েছে কতটা সময় ব্যয় করা হয়েছে, কোন অ্যাপগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় এবং কত ঘন ঘন ফোন আনলক করা হয়।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল একই ধরনের ফিচার দিয়ে থাকে যা স্ক্রিন টাইম ও অ্যাপ ব্যবহার ট্র্যাক করে থাকে।

ডিটক্স অ্যাপ ব্যবহার করুন

বেশকিছু অ্যাপ রয়েছে যা সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করতে পারে ও ভালো ডিজিটাল অভ্যাস তৈরি করে সহায়তা দেয়।

ডাম্ব ফোন: এটি অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো সরিয়ে একটি সাধারণ হোম স্ক্রিন তৈরি করে যা অনর্থক স্ক্রলিংকে নিরুৎসাহিত করে। এটি আপনার ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে সহজ করে তোলে ফলে বার বার ফোন ধরার প্রবণতা কমে যায়।

ওপাল: অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে ফেলা অ্যাপগুলো ব্লক করে আসক্তি দূর করতে সাহায্য করে। এটি স্ক্রিনটাইম দিয়ে থাকে এবং কতটা সময় ব্যয় করা হয়েছে তার একটি ব্যাখ্যা দেয়।

ফরেস্ট: এটি একটি মজাদার অ্যাপ যা ব্যবহারকারীদের গেইম খেলার ছলে ফোন থেকে দূরে রাখে। এতে যখন ফোন এড়িয়ে চলা সহজ হয় তখন একটা ভার্চুয়াল গাছ গজায়। আর ফোন ব্যবহার করলে সে গাছ মারে যায়।

ডিভাইস বদলান

যারা সামাজিক মাধ্যম থেকে কঠোরভাবে বিরতি চান তাদের জন্য ‘বোকা ফোন’ একটি সমাধান হতে পারে। নোকিয়া ২৬৬০ ফোনের মতো ডিভাইসগুলো আধুনিক স্মার্টফোনের ঝামেলা ছাড়াই সাধারণ ফাংশন দিয়ে থাকে। ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীদের যোগাযোগের সুবিধা দেয় একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আকর্ষণ থেকে দূরে রাখে।

নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন

যদি সামাজিক মাধ্যম থেকে পুরোপুরি আলাদা থাকা সম্ভব না হয় তাহলে ধীরে ধীরে ব্যবহারের মাত্রা কমানোর লক্ষ্য ঠিক করুন। নিজের সময়সীমা সম্পর্কে বাস্তববাদী হন, আসক্তি দূর করতে সময় লাগে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করুন যেমন প্রতি সপ্তাহে স্ক্রিনটাইম ২০ শতাংশ কমিয়ে আনা।

এসব অ্যাপ একা এ সমস্যার সমাধান করতে পারবে না দৈনন্দিন জীবনে যদি নিজ থেকে উদ্যোগী হয়ে না করেন। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে করা কাজকে এমন কাজের সঙ্গে পরিবর্তন করে দেখুন যা সুস্থতা বৃদ্ধি করে যেমন পড়া, ব্যায়াম করা, রান্না অথবা প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো। এ কাজগুলো বাস্তব জগতে ফিরে যেতে ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম