ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাবাজারে ভবন থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্যে প্রেমঘটিত কারণ ! মেইন লাইনে ত্রুটি: উখিয়া ও টেকনাফসহ বিশাল এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ কক্সবাজারে এক বছর পর ফিরলো ফুটবল উন্মাদনা : উদ্বোধনী ম্যাচে সদরকে হারিয়ে জয় পেলো চকরিয়া ঝিনুকমালা খেলাঘর আসরের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নিলেন নতুন ৪ মন্ত্রী, ২ প্রতিমন্ত্রী ২৫ আগস্ট চুনতিতে শুরু হচ্ছে ১৯ দিনের সীরাতুন্নবী মাহফিল, বাজেট ৬ কোটি টাকা লোহাগাড়ায় বল আনতে পুকুরে নেমে প্রাণ গেল ৮ বছরের আরিয়ানের ‘শুধু মুখে বললে প্রত্যাবাসন হয় না, দরকার স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন চারজন, রাতে শপথ পুলিশের অভিযানে পেকুয়ায় ইয়াবাসহ নারী কারবারি আটক বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ, আজ বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক ​টেকনাফের সাবরাংয়ে অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান: ড্রেজার ও ৩টি ড্রাম ট্রাক জব্দ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

বর্তমান যুগ তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগ। আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন আর সস্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবী এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ‘অবাধ’ স্বাধীনতার কি কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?

বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের এই জগত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আজ চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ‘অসুস্থ’ কনটেন্টের সয়লাব। আর এই সয়লাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশ। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস, উগ্রতা, অবাস্তব জীবনযাপন এবং বিকৃত রুচির ভিডিও। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের নামে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা বড়দের জন্যই অনুপযোগী; সেখানে শিশুদের কোমল মনে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এমন সব বিষয় তুলে ধরছেন, যা শিশুদের কৌতূহলী মনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের অবাধ মেলামেশা—যা সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং আচরণগত বিকৃতিসহ পড়াশোনায় অনীহার মতো ভয়ংকর সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি, মানসম্মত বিকল্প তৈরি, মাঠের খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কার্যকর ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক- মোহাম্মদ জাহেদ

সমাজকর্মী,

উখিয়া,কক্সবাজার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাবাজারে ভবন থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, নেপথ্যে প্রেমঘটিত কারণ !

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বর্তমান যুগ তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগ। আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন আর সস্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবী এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ‘অবাধ’ স্বাধীনতার কি কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?

বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের এই জগত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আজ চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ‘অসুস্থ’ কনটেন্টের সয়লাব। আর এই সয়লাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশ। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস, উগ্রতা, অবাস্তব জীবনযাপন এবং বিকৃত রুচির ভিডিও। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের নামে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা বড়দের জন্যই অনুপযোগী; সেখানে শিশুদের কোমল মনে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এমন সব বিষয় তুলে ধরছেন, যা শিশুদের কৌতূহলী মনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের অবাধ মেলামেশা—যা সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং আচরণগত বিকৃতিসহ পড়াশোনায় অনীহার মতো ভয়ংকর সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি, মানসম্মত বিকল্প তৈরি, মাঠের খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কার্যকর ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক- মোহাম্মদ জাহেদ

সমাজকর্মী,

উখিয়া,কক্সবাজার।