ঢাকা ০২:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রোহিঙ্গা সংকটে নতুন উদ্বেগ: মালয়েশিয়ার নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ বিবৃতি কেরানীগঞ্জে ইয়াবা তৈরির ‘কারখানা’, ঢাকাসহ আশপাশে চলত সরবরাহ লোহাগাড়ায় মন্দির সংলগ্ন পুকুর থেকে তবলা বাদক অরুণ জলদাশের মরদেহ উদ্ধার টেকনাফে রাখাইন থেকে আসা রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, উদ্ধার ১৮ নতুন দায়িত্বে ৩ মন্ত্রী ‘You have your home! We miss our home!’: মার্কিন বিশেষ দূতের সামনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আকুতি নতুন বাহারছড়ার মোস্তাক আহম্মদ আর নেই : জানাজা বাদ আছর ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৫ আগস্ট রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নতুন মহাপরিচালক ড. কামরুজ্জামান সিনহা হত্যা মামলা: ছয় বছর পরও আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আটক যুবক কচ্ছপিয়া ইউপি চেয়ারম্যান নোমানের গাড়িচালক দাবি স্থানীয়দের হলদিয়াপালং যুবদলের কমিটি বিতর্ক: সাত সদস্যের কমিটিতে মাদক মামলার আসামি! সড়ক নয়, যেন গর্তের সারি— লোহাগাড়ার দরবেশহাট ডিসি সড়কে সীমাহীন ভোগান্তি জানাজায় কান্নার কলরবে ইয়াসেরের বিদায়

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

বর্তমান যুগ তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগ। আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন আর সস্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবী এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ‘অবাধ’ স্বাধীনতার কি কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?

বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের এই জগত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আজ চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ‘অসুস্থ’ কনটেন্টের সয়লাব। আর এই সয়লাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশ। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস, উগ্রতা, অবাস্তব জীবনযাপন এবং বিকৃত রুচির ভিডিও। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের নামে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা বড়দের জন্যই অনুপযোগী; সেখানে শিশুদের কোমল মনে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এমন সব বিষয় তুলে ধরছেন, যা শিশুদের কৌতূহলী মনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের অবাধ মেলামেশা—যা সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং আচরণগত বিকৃতিসহ পড়াশোনায় অনীহার মতো ভয়ংকর সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি, মানসম্মত বিকল্প তৈরি, মাঠের খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কার্যকর ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক- মোহাম্মদ জাহেদ

সমাজকর্মী,

উখিয়া,কক্সবাজার।

ট্যাগ :

রোহিঙ্গা সংকটে নতুন উদ্বেগ: মালয়েশিয়ার নীতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ বিবৃতি

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বর্তমান যুগ তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগ। আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন আর সস্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবী এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ‘অবাধ’ স্বাধীনতার কি কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?

বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের এই জগত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আজ চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ‘অসুস্থ’ কনটেন্টের সয়লাব। আর এই সয়লাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশ। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস, উগ্রতা, অবাস্তব জীবনযাপন এবং বিকৃত রুচির ভিডিও। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের নামে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা বড়দের জন্যই অনুপযোগী; সেখানে শিশুদের কোমল মনে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এমন সব বিষয় তুলে ধরছেন, যা শিশুদের কৌতূহলী মনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের অবাধ মেলামেশা—যা সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং আচরণগত বিকৃতিসহ পড়াশোনায় অনীহার মতো ভয়ংকর সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি, মানসম্মত বিকল্প তৈরি, মাঠের খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কার্যকর ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক- মোহাম্মদ জাহেদ

সমাজকর্মী,

উখিয়া,কক্সবাজার।