ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাসিরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হলেন তাসনিমুর রহমান হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ করলো ইরান “জনগণ কে সাথে নিয়ে দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে” কক্সবাজারে এইচআইভি আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই রোহিঙ্গা, বাড়ছে উদ্বেগ “মিয়ানমারে সেফজোন করা হলে আমরা ফিরে যাবো”: রোহিঙ্গা নেতা জুবায়ের কক্সবাজার কলেজের শিক্ষার্থীদের সমুদ্র বিষয়ক জ্ঞান বিনিময় কর্মসূচী ও শিক্ষামূলক সফর রশিতে ঝুলছিলো গৃহবধুর মরদেহ, পরিবারের দাবী পরিকল্পিত হত্যা ​‘ঘরে বসে খেলা বিশ্বের প্রথম ফুটবলার নেইমার’, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা ও মন্দির ভাঙার হুমকির প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন ধানের শীষের পক্ষে ভোট করায় রেমিটেন্স যোদ্ধাকে সাজানো হয়েছে মাদক ছিনতাইকারী – প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যায় কবির আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস আজ টেকনাফে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জমির হোসেন গ্রেফতার স্বামীকে ছাড়াতে পুলিশের ওপর হামলা, স্ত্রী গ্রেপ্তার ‘তরুণ বন্ধুদের দ্বারা গঠিত এনসিপির কিছু সাংগঠনিক কার্যক্রম মদের বারে হচ্ছে’ শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

বর্তমান যুগ তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগ। আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন আর সস্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবী এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ‘অবাধ’ স্বাধীনতার কি কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?

বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের এই জগত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আজ চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ‘অসুস্থ’ কনটেন্টের সয়লাব। আর এই সয়লাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশ। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস, উগ্রতা, অবাস্তব জীবনযাপন এবং বিকৃত রুচির ভিডিও। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের নামে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা বড়দের জন্যই অনুপযোগী; সেখানে শিশুদের কোমল মনে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এমন সব বিষয় তুলে ধরছেন, যা শিশুদের কৌতূহলী মনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের অবাধ মেলামেশা—যা সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং আচরণগত বিকৃতিসহ পড়াশোনায় অনীহার মতো ভয়ংকর সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি, মানসম্মত বিকল্প তৈরি, মাঠের খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কার্যকর ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক- মোহাম্মদ জাহেদ

সমাজকর্মী,

উখিয়া,কক্সবাজার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

নাসিরা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত হলেন তাসনিমুর রহমান

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বর্তমান যুগ তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগ। আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন আর সস্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবী এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ‘অবাধ’ স্বাধীনতার কি কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?

বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের এই জগত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আজ চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ‘অসুস্থ’ কনটেন্টের সয়লাব। আর এই সয়লাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশ। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস, উগ্রতা, অবাস্তব জীবনযাপন এবং বিকৃত রুচির ভিডিও। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের নামে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা বড়দের জন্যই অনুপযোগী; সেখানে শিশুদের কোমল মনে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এমন সব বিষয় তুলে ধরছেন, যা শিশুদের কৌতূহলী মনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের অবাধ মেলামেশা—যা সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং আচরণগত বিকৃতিসহ পড়াশোনায় অনীহার মতো ভয়ংকর সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি, মানসম্মত বিকল্প তৈরি, মাঠের খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কার্যকর ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক- মোহাম্মদ জাহেদ

সমাজকর্মী,

উখিয়া,কক্সবাজার।