ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল ডুলাহাজারায় ফুটবল তারকা জিকুর আয়োজনে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন: প্রধান অতিথি এমপি স্বপ্না লামায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ২ মাদক,গরু চোরাচালান ও আইন বিরোধী কাজ করলে দল তার দায়িত্ব নেবে না- রামুতে এমপি কাজল সৈকতে গোসলে নেমে পর্যটক নিখোঁজ জাতীয় পর্যায়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সেরা কক্সবাজারের মুশফিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে ফের দখলে কক্সবাজার সৈকত, বালিয়াড়িতে ৪ শতাধিক অবৈধ দোকান জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়: মির্জা ফখরুল টেকনাফে মাদক মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার মোদির আমন্ত্রণে ভারত সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কুতুবদিয়ায় ‘দ্বীপবর্তিকা’র উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক সেমিনার ও আইকিউ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম বা দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিরতে পারেন নেইমার: আনচেলত্তি নেইমারকে ছাড়াই পানামার বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশ ঘোষণা হিজাব পরায় তোপের মুখে বলিউড অভিনেত্রী দিল্লিতে বহুতল ভবন ধস, নিহত অন্তত ৯

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

বর্তমান যুগ তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগ। আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন আর সস্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবী এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ‘অবাধ’ স্বাধীনতার কি কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?

বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের এই জগত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আজ চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ‘অসুস্থ’ কনটেন্টের সয়লাব। আর এই সয়লাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশ। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস, উগ্রতা, অবাস্তব জীবনযাপন এবং বিকৃত রুচির ভিডিও। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের নামে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা বড়দের জন্যই অনুপযোগী; সেখানে শিশুদের কোমল মনে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এমন সব বিষয় তুলে ধরছেন, যা শিশুদের কৌতূহলী মনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের অবাধ মেলামেশা—যা সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং আচরণগত বিকৃতিসহ পড়াশোনায় অনীহার মতো ভয়ংকর সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি, মানসম্মত বিকল্প তৈরি, মাঠের খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কার্যকর ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক- মোহাম্মদ জাহেদ

সমাজকর্মী,

উখিয়া,কক্সবাজার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল

অসুস্থ কন্টেন্টে ‘সয়লাব’ নেট দুনিয়া: শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশে বাঁধা

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বর্তমান যুগ তথ্যের অবাধ প্রবাহের যুগ। আমাদের হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন আর সস্তা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবী এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। কিন্তু এই ‘অবাধ’ স্বাধীনতার কি কোনো নিয়ন্ত্রণ আছে?

বিশেষ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—শিশুদের জন্য ইন্টারনেটের এই জগত কি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? আজ চারিদিকে তাকালে দেখা যায়, ইন্টারনেটের আকাশ জুড়ে ‘অসুস্থ’ কনটেন্টের সয়লাব। আর এই সয়লাবে প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের শিশুদের স্বাভাবিক মেধা বিকাশ। ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে কুরুচিপূর্ণ হাস্যরস, উগ্রতা, অবাস্তব জীবনযাপন এবং বিকৃত রুচির ভিডিও। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের নামে যা পরিবেশন করা হচ্ছে, তা বড়দের জন্যই অনুপযোগী; সেখানে শিশুদের কোমল মনে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে এমন সব বিষয় তুলে ধরছেন, যা শিশুদের কৌতূহলী মনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি বাল্যবিবাহের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরীদের অবাধ মেলামেশা—যা সমাজের জন্য এক অশনি সংকেত।

এর ফলে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে এবং আচরণগত বিকৃতিসহ পড়াশোনায় অনীহার মতো ভয়ংকর সমস্যা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ রাতারাতি সম্ভব নয়, তবে বেশ কিছু উপায় অবলম্বন করে এই ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি, মানসম্মত বিকল্প তৈরি, মাঠের খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কার্যকর ও দেশের সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

লেখক- মোহাম্মদ জাহেদ

সমাজকর্মী,

উখিয়া,কক্সবাজার।