বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্র এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ জন নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এসব ভিকটিমের পরিবার বছরের পর বছর থানায়, আদালতে, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে, আইনজীবীর চেম্বারে ঘুরে বেড়ান ন্যায় বিচারের জন্য। দেশের অধিকাংশ আদালতে লাখ লাখ মামলার চাপে একেকটি মামলার শুনানীর ধার্য্য তারিখ কয়েক মাস পর হয়। সে যে মামলা হোক না কেন। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার চিত্র ঠিক এতটাই ভয়াবহ যে তা সরাসরি কেউ ভিকটিম না হলে বা কোর্ট সংশ্লিষ্টরা ছাড়া কেউ জানতেও পারবে না।
অথচ, ঠিক এই একই বিচার ব্যবস্থায় এই রাষ্ট্র ম্যাংগো পিপলকে শান্ত করতে শিশু রামিসার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মাত্র ১৯ দিনে বিচার শেষ করলেন। অন্য হাজার হাজার রামিসার মতো শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলা পেছনে ফেলে রামিসার ঘটনায় বিচার হয়েছে, ম্যাংগো পিপল বাহবা দিচ্ছে।
সরকার এবং রাষ্ট্র এই বোকাচোদা ম্যাংগো পিপল যাতে সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কথা না বলে এবং প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫ জন অন্য কারো শিশু, বোন, মা যে ধর্ষিত হচ্ছে, খুন হচ্ছে তাদের বিচার নিয়ে প্রশ্ন করতে না পারে সে জন্য রামিসার মামলায় চটজলদি রায় দিয়ে ম্যাংগো পিপল এর আই ওয়াশ করেছে তা একবারও জনগণ নামক এই মূর্খের দল ভাবছে না।
রাষ্ট্রের হাজার হাজার নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়ে যারা বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন বিচারের জন্য, যারা অদ্যাবদি রামিসার মতো ভাইরাল হতে পারেনি বলে বিচার পাচ্ছে না তাদের পক্ষ থেকে আমি এই রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানালাম।
বলছি কি রামিসার মামলার দ্রুত বিচার করে রায় দিয়ে ম্যাংগো পিপলের জ্বালানি পোড়ানির সাময়িক ব্যাথার মলম এই সরকার লাগিয়ে দিয়ে শান্ত রাখতে পারবেন। কিন্তু দেশের সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থা, ভঙ্গুর অবকাঠামো, লাখ লাখ রামিসার মতো শিশুদের মা-বাবার বছরের পর বছর ধরে বিচার প্রাপ্তির আশায় আদালতে ঘুরে বেড়ানোর দীর্ঘদিনের দীর্ঘশ্বাসের সমাধান কি দিবে এই সরকার ও রাষ্ট্র?
আমি অবশ্যই শিশু রামিসার হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারে সন্তুষ প্রকাশ করি। হ্যালো ম্যাংগো পিপল আপনারাও যারা এই রায়ে সন্তুষ্ট, সরকার ও রাষ্ট্রের সুনামের ঢেকুর গিলছেন দয়া করে বাংলাদেশেরই নাগরিক প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫ জন নারী ও শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ভিকটিমদের বিচারও যাতে ভিকটিমদের পরিবারগুলো দ্রুত পায় সে দাবী তুলুন।
অথবা প্রশ্ন করুন, বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়া প্রত্যেকেই তো রামিসার পরিবারের মতো এই দেশেরই নাগরিক। তাহলে এই দেশ ও রাষ্ট্র সবার সাথে সমান আচরণ কেনো করে না? সবাই কেন দ্রুত বিচার পায়না? বিচারেও বৈষম্য কেন? বিচার পেতে ভাইরাল হতে হয় কেন?
লেখক- শিপ্ত বড়ুয়া, এডভোকেট কক্সবাজার জজ৷ কোর্ট।
শিপ্ত বড়ুয়া: 
























