ঢাকা ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক পেশকারপাড়ায় ফারুক হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামী হলেন যারা…  সীমান্তের ৫শ হতদরিদ্রকে ফ্রীতে ৪ ধরণের সেবা দিলো ১১ বিজিবির রামুতে কোমলমতি খেলাঘর আসরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হামে মৃত্যু, সামনে ডেঙ্গু, এ কেমন জীবন? নারায়ণগঞ্জে পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের দুই হোতাসহ ৭ জন কক্সবাজারে গ্রেফতার ঈদগাঁওর আলোচিত সেলিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতাউল্লাহ গ্রেফতার আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনলো বিজিবি কক্সবাজারে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, জনজীবনে অস্বস্তি সোনাদিয়ায় প্রশাসনের অভিযান: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কালিরছড়ায় সাহেদের ই’য়াবা নাকি টাকার ব্যাগ ছি’নতাই? শিক্ষক সংকটসহ শিক্ষা খাতের সমস্যা সমাধানে নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪ হোটেল সী-হার্টের মালিক জাহাঙ্গীর আলম মারা গেছেন পেকুয়ায় পুকুরে গোসলে নেমে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে ‘হত্যাকাণ্ডের’ সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাইলেন এটিএম আজহার

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মাধ্যমে যাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হয়েছে, বিচারের নামে তাদের ‘হত্যা করা’ হয়েছে দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা যেখানে যে পর্যায়ে জড়িত। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। তা নাহলে খারাপ সংস্কৃতি চালু থাকবে, এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

বুধবার ২৮ মে) সকালে ১৪ বছর কারাভোগের পর বেরিয়ে এসে শাহবাগ চত্বরে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পেয়ে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে মুক্তি পান জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে ভর্তিরত অবস্থায় কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

পরে তাকে হাসপাতাল থেকে একটি কালো রঙের গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে বের করে আনা হয়। এসময় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে এটিএম আজহারুল ইসলামকে শাহবাগ চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা মঞ্চে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এটিএম আজহার বলেন, ‘আমি প্রায় ১৪ বছর কারাগারে থাকার পর আজ সকালে মুক্তি পেলাম। আমি এখন মুক্ত, আমি এখন স্বাধীন। এই স্বাধীন দেশে স্বাধীন নাগরিক এখন।’

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাসের জন্য উচ্চ আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা (আদালত) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটা অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। এতদিন ন্যায়বিচার ছিল না। আদালতকে ব্যবহার করা হয়েছে। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে জনগণ ন্যয়বিচার যেন পান, সেই ব্যবস্থাই তারা করবেন।’

তার মামলায় যেসব আইনজীবী লড়েছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান এটিএম আজহার। পরে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে বিপ্লবের নায়কদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। তাদের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ছাত্র সমাজই রাজপথে রক্ত ঢেলে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যার কারণে বাংলাদেশ নতুনভাবে স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা আমার নেতা ছিলেন, তাদের অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে।’ এসময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, মো. কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লাকে স্মরণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদিকে বিনাচিকিৎসায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ: আহত একাধিক

যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে ‘হত্যাকাণ্ডের’ সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাইলেন এটিএম আজহার

আপডেট সময় : ০২:১৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মাধ্যমে যাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হয়েছে, বিচারের নামে তাদের ‘হত্যা করা’ হয়েছে দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা যেখানে যে পর্যায়ে জড়িত। তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। তা নাহলে খারাপ সংস্কৃতি চালু থাকবে, এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

বুধবার ২৮ মে) সকালে ১৪ বছর কারাভোগের পর বেরিয়ে এসে শাহবাগ চত্বরে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পেয়ে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে মুক্তি পান জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে ভর্তিরত অবস্থায় কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

পরে তাকে হাসপাতাল থেকে একটি কালো রঙের গাড়িতে করে হাসপাতাল থেকে বের করে আনা হয়। এসময় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানসহ দলটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকে এটিএম আজহারুল ইসলামকে শাহবাগ চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।

সংবর্ধনা মঞ্চে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এটিএম আজহার বলেন, ‘আমি প্রায় ১৪ বছর কারাগারে থাকার পর আজ সকালে মুক্তি পেলাম। আমি এখন মুক্ত, আমি এখন স্বাধীন। এই স্বাধীন দেশে স্বাধীন নাগরিক এখন।’

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাসের জন্য উচ্চ আদালতকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা (আদালত) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটা অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। এতদিন ন্যায়বিচার ছিল না। আদালতকে ব্যবহার করা হয়েছে। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে জনগণ ন্যয়বিচার যেন পান, সেই ব্যবস্থাই তারা করবেন।’

তার মামলায় যেসব আইনজীবী লড়েছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান এটিএম আজহার। পরে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে বিপ্লবের নায়কদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি। তাদের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ছাত্র সমাজই রাজপথে রক্ত ঢেলে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন, যার কারণে বাংলাদেশ নতুনভাবে স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা আমার নেতা ছিলেন, তাদের অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, জুডিশিয়াল কিলিং করা হয়েছে।’ এসময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, মো. কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লাকে স্মরণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদিকে বিনাচিকিৎসায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন