ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কা, ঘটনাস্থলেই শিশুর মৃত্যু ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে মানসিক চাপ, সৌদি আরবে লোহাগাড়ার যুবকের মরদেহ উদ্ধার লোহাগাড়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় চার যুবক গ্রেপ্তার, আদালতে সোপর্দ চাকরি দেয়ার নামে কিশোর অপহরণ : উখিয়ায় মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ সুপারের বক্তব্যের নিন্দা কক্সবাজার আইনজীবী সমিতির : জেলা জজকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত হত্যা মামলার আসামি মুহুরি পাড়ার ছৈয়দ আলম গ্রেপ্তার কক্সবাজারে সাইবার মামলায় ৬ বিদেশির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৩০ লক্ষ টাকার ঔষধ জব্দ : আটক ৩

মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে যা যা হলো

  • কাব্য সৌরভ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • 323

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত সফরে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ি ঘুরে গেছেন।

রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে হেলিপ্যাডে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ এমপি, কক্সবাজার জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফর সঙ্গী হয়ে এসময় হেলিকপ্টার থেকে নামেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সূত্রে জানা যায়, এ-র আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে সকাল ৯ টা ১৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে মাতারবাড়ি পৌঁছার পর তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। সেখানে সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়োজিত কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেন। এসময় মাতারবাড়ি ১,২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্ট পরিচালনার দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা ১৫ মিনিটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলে।

এ সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে জেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁদের দক্ষতার প্রশংসা করেন।

বৈঠক শেষে বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে তিনি নিমগাছ রোপন করেন। পরে বেলা সাড়ে ১২ টায় মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) এর প্রস্তাবিত প্রকল্প সরেজমিনে দেখতে বের হন প্রধানমন্ত্রী। এসময় ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প, নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থান, এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, কয়লা জেটি,
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর-সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং
প্রস্তাবিত ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্টের স্থান,
প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি ঘুরে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রীর মহেশখালী আগমনে জনসাধারণের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা না থাকলেও ভোর থেকে দলের কর্মী সমর্থক এবং উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূলফটকে (সেলফি গেইট) এসে ভিড় জমান। বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখার সময় মূলফটকের গেইটে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এসময় উপস্থিত জনতা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলে।

মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল আলোচ্য বিষয় ছিলো জ্বালানি ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নির্দেশনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনা, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

পরে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলিকপ্টারে করে মহেশখালী ত্যাগ করে বাঁশখালীর উদ্দেশে রওনা হন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে যা যা হলো

আপডেট সময় : ০৭:১৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত সফরে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ি ঘুরে গেছেন।

রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে হেলিপ্যাডে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ এমপি, কক্সবাজার জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফর সঙ্গী হয়ে এসময় হেলিকপ্টার থেকে নামেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সূত্রে জানা যায়, এ-র আগে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে সকাল ৯ টা ১৫ মিনিটে হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে মাতারবাড়ি পৌঁছার পর তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। সেখানে সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়োজিত কর্মকর্তার সাথে বৈঠক করেন। এসময় মাতারবাড়ি ১,২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্ট পরিচালনার দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা ১৫ মিনিটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলে।

এ সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে জেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁদের দক্ষতার প্রশংসা করেন।

বৈঠক শেষে বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে তিনি নিমগাছ রোপন করেন। পরে বেলা সাড়ে ১২ টায় মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) এর প্রস্তাবিত প্রকল্প সরেজমিনে দেখতে বের হন প্রধানমন্ত্রী। এসময় ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প, নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থান, এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, কয়লা জেটি,
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর-সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং
প্রস্তাবিত ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্টের স্থান,
প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি ঘুরে দেখেন।

প্রধানমন্ত্রীর মহেশখালী আগমনে জনসাধারণের সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা না থাকলেও ভোর থেকে দলের কর্মী সমর্থক এবং উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূলফটকে (সেলফি গেইট) এসে ভিড় জমান। বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখার সময় মূলফটকের গেইটে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এসময় উপস্থিত জনতা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলে।

মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল আলোচ্য বিষয় ছিলো জ্বালানি ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নির্দেশনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনা, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

পরে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলিকপ্টারে করে মহেশখালী ত্যাগ করে বাঁশখালীর উদ্দেশে রওনা হন।