ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে জিবনের বিচ্ছেদ হলো রুবিনা আক্তারের জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কক্সবাজার জেলার আহবায়ক কমিটি: স্বপন আহবায়ক, বাবু সদস্য সচিব ৩২ ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর হাইকোর্টের আদেশ: পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আগের সভাপতি বহাল প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা চট্টগ্রাম রেঞ্জে সর্বোচ্চ মাদক উদ্ধার ও সাহসিকতার জন্য সম্মাননা পেলেন সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী স্বপ্নের পথে, বিজয়ের সাথে’— ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ মাতারবাড়ি থেকে অনলাইন জুয়ার দুই এজেন্ট কে আটক করেছে পুলিশ ৩ টি পুলিশ ফাঁড়ি হবে টেকনাফের বাহারছড়ায় : প্রস্তাবিত কচ্ছপিয়ায় পুলিশ ফাঁড়ির জমি নির্ধারন কলাতলীতে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার পারিবারিক মামলার শুনানি শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল আপন দুই বোনসহ ৩ জনের উখিয়ায় ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, সিএনজি জব্দ মাদক মামলায় ৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কাশেম গ্রেপ্তার সমিতি পাড়ার সুকান্ত হত্যা মামলার আসামি বাপ্পি গ্রেপ্তার সাতক্ষীরার সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম ডিবির হাতে গ্রেফতার

মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের হাতে আটক ৩ ব্যক্তিকে নিরপরাধ বলছে পরিবার, তদন্তের দাবি

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে তিন স্থানীয় বাসিন্দাকে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র সহ আটকের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কোস্টগার্ড। কিন্তু পরিবার ও স্থানীয়রা আটককৃতদের ‘নিরীহ লবণচাষী’ উল্লেখ করে অভিযোগ করছেন নিরপরাধদের অস্ত্রসহ ছবি তোলা হয়েছে এবং তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাতারবাড়ি ও কালারমারছড়ার মধ্যবর্তী বুইরগাজুড়া এলাকায় কোহেলিয়া নদীর পাড়ের একটি লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করে কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে তাদের মহেশখালী পৌরসভাস্থ কোস্টগার্ড কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, আটককৃতদের কারো কাছেই কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাদের জোরপূর্বক অস্ত্র ধরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা বা অপরাধ প্রমাণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দক্ষিণ ঝাপুয়া এলাকার ছাবের আহমদ (৪৭), পিতা ইউসুফ আলী; ছালেহ আহমদ (৪০), পিতা ইউসুফ আলী; গফুর, পিতা আলী হোসেন; হুমায়নু, পিতা জয়নাল; আব্বাস ও আবদুল হক (পিতার নাম অজ্ঞাত)। স্থানীয়দের দাবি, তারা সবাই লবণ মাঠে কাজ করা শ্রমিক বা জমির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

ছাবের আহমদের স্ত্রী খদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, লবণ জমি নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে কোস্টগার্ডকে ব্যবহার করে তার স্বামী, ভাসুর ও শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আটক অবস্থায় তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে কোস্টগার্ড সদস্যরা তার মোবাইল ফোন থেকে ওষুধ আনার জন্য পরিবারকে যোগাযোগ করতে বলেন। ছাবের আহমদ হৃদরোগে আক্রান্ত বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কোস্টগার্ড সদস্যদের সঙ্গে মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন, যাদের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারাই বিরোধপূর্ণ পক্ষের লোক এবং তাদের দেখানো অনুযায়ী আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমে লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে জমির মালিক ছালেহ আহমদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০ নম্বর গেট এলাকায় আটক হন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এখনো ঘটনাস্থলে পড়ে আছে বলে দাবি পরিবারের।

অন্যদিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, আটককৃতদের ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

‎বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে জিবনের বিচ্ছেদ হলো রুবিনা আক্তারের

মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের হাতে আটক ৩ ব্যক্তিকে নিরপরাধ বলছে পরিবার, তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে তিন স্থানীয় বাসিন্দাকে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র সহ আটকের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কোস্টগার্ড। কিন্তু পরিবার ও স্থানীয়রা আটককৃতদের ‘নিরীহ লবণচাষী’ উল্লেখ করে অভিযোগ করছেন নিরপরাধদের অস্ত্রসহ ছবি তোলা হয়েছে এবং তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাতারবাড়ি ও কালারমারছড়ার মধ্যবর্তী বুইরগাজুড়া এলাকায় কোহেলিয়া নদীর পাড়ের একটি লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করে কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে তাদের মহেশখালী পৌরসভাস্থ কোস্টগার্ড কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, আটককৃতদের কারো কাছেই কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাদের জোরপূর্বক অস্ত্র ধরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা বা অপরাধ প্রমাণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দক্ষিণ ঝাপুয়া এলাকার ছাবের আহমদ (৪৭), পিতা ইউসুফ আলী; ছালেহ আহমদ (৪০), পিতা ইউসুফ আলী; গফুর, পিতা আলী হোসেন; হুমায়নু, পিতা জয়নাল; আব্বাস ও আবদুল হক (পিতার নাম অজ্ঞাত)। স্থানীয়দের দাবি, তারা সবাই লবণ মাঠে কাজ করা শ্রমিক বা জমির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

ছাবের আহমদের স্ত্রী খদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, লবণ জমি নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে কোস্টগার্ডকে ব্যবহার করে তার স্বামী, ভাসুর ও শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আটক অবস্থায় তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে কোস্টগার্ড সদস্যরা তার মোবাইল ফোন থেকে ওষুধ আনার জন্য পরিবারকে যোগাযোগ করতে বলেন। ছাবের আহমদ হৃদরোগে আক্রান্ত বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কোস্টগার্ড সদস্যদের সঙ্গে মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন, যাদের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারাই বিরোধপূর্ণ পক্ষের লোক এবং তাদের দেখানো অনুযায়ী আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমে লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে জমির মালিক ছালেহ আহমদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০ নম্বর গেট এলাকায় আটক হন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এখনো ঘটনাস্থলে পড়ে আছে বলে দাবি পরিবারের।

অন্যদিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, আটককৃতদের ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।