ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার ওভারটেকের সময় ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো সিএনজি, প্রাণ গেল দুই যাত্রীর পেকুয়ায় গরুর কা/টা মাথার সূত্র ধরেই মিলল চোরের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৩ শাহপরীর দ্বীপে সাড়ে চার কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো ৩ মাসব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল সেন্টমার্টিনে খতনার পর অসুস্থ হওয়া শিশুদের চিকিৎসা দিলো সরকারি মেডিকেল টিম আবেগঘন স্ট্যাটাস :সহধর্মিণীর আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন এমপি কাজল কক্সবাজারে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা আজ পৃথিবীর মন খারাপ: ‘বিদায়’ বললেন, ফুটবলের কবি হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু, এক মাসে দেওয়া হবে আরও ৩৫ লাখ প্রবাসীদের পরিবার নিয়ে সৌদি থাকার সুযোগ সাগরে লঘুচাপ, টানা বৃষ্টির আভাস দেশকে অস্থির করার জন্য পতিত দোসররা নানাভাবে কাজ করছে : রিজভী বিশ্ববাজারে ১০১ ডলারে পৌঁছেছে জ্বালানি তেলের দাম

মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের হাতে আটক ৩ ব্যক্তিকে নিরপরাধ বলছে পরিবার, তদন্তের দাবি

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে তিন স্থানীয় বাসিন্দাকে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র সহ আটকের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কোস্টগার্ড। কিন্তু পরিবার ও স্থানীয়রা আটককৃতদের ‘নিরীহ লবণচাষী’ উল্লেখ করে অভিযোগ করছেন নিরপরাধদের অস্ত্রসহ ছবি তোলা হয়েছে এবং তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাতারবাড়ি ও কালারমারছড়ার মধ্যবর্তী বুইরগাজুড়া এলাকায় কোহেলিয়া নদীর পাড়ের একটি লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করে কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে তাদের মহেশখালী পৌরসভাস্থ কোস্টগার্ড কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, আটককৃতদের কারো কাছেই কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাদের জোরপূর্বক অস্ত্র ধরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা বা অপরাধ প্রমাণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দক্ষিণ ঝাপুয়া এলাকার ছাবের আহমদ (৪৭), পিতা ইউসুফ আলী; ছালেহ আহমদ (৪০), পিতা ইউসুফ আলী; গফুর, পিতা আলী হোসেন; হুমায়নু, পিতা জয়নাল; আব্বাস ও আবদুল হক (পিতার নাম অজ্ঞাত)। স্থানীয়দের দাবি, তারা সবাই লবণ মাঠে কাজ করা শ্রমিক বা জমির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

ছাবের আহমদের স্ত্রী খদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, লবণ জমি নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে কোস্টগার্ডকে ব্যবহার করে তার স্বামী, ভাসুর ও শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আটক অবস্থায় তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে কোস্টগার্ড সদস্যরা তার মোবাইল ফোন থেকে ওষুধ আনার জন্য পরিবারকে যোগাযোগ করতে বলেন। ছাবের আহমদ হৃদরোগে আক্রান্ত বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কোস্টগার্ড সদস্যদের সঙ্গে মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন, যাদের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারাই বিরোধপূর্ণ পক্ষের লোক এবং তাদের দেখানো অনুযায়ী আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমে লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে জমির মালিক ছালেহ আহমদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০ নম্বর গেট এলাকায় আটক হন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এখনো ঘটনাস্থলে পড়ে আছে বলে দাবি পরিবারের।

অন্যদিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, আটককৃতদের ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :

কক্সবাজারে সদর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান: ১৭ গ্রেপ্তার

মহেশখালীতে কোস্টগার্ডের হাতে আটক ৩ ব্যক্তিকে নিরপরাধ বলছে পরিবার, তদন্তের দাবি

আপডেট সময় : ০১:২৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে তিন স্থানীয় বাসিন্দাকে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র সহ আটকের কথা জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কোস্টগার্ড। কিন্তু পরিবার ও স্থানীয়রা আটককৃতদের ‘নিরীহ লবণচাষী’ উল্লেখ করে অভিযোগ করছেন নিরপরাধদের অস্ত্রসহ ছবি তোলা হয়েছে এবং তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাতারবাড়ি ও কালারমারছড়ার মধ্যবর্তী বুইরগাজুড়া এলাকায় কোহেলিয়া নদীর পাড়ের একটি লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করে কোস্টগার্ড সদস্যরা। পরে তাদের মহেশখালী পৌরসভাস্থ কোস্টগার্ড কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক ব্যক্তিদের পরিবারের অভিযোগ, আটককৃতদের কারো কাছেই কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তারা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাদের জোরপূর্বক অস্ত্র ধরিয়ে ছবি তোলা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা বা অপরাধ প্রমাণের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দক্ষিণ ঝাপুয়া এলাকার ছাবের আহমদ (৪৭), পিতা ইউসুফ আলী; ছালেহ আহমদ (৪০), পিতা ইউসুফ আলী; গফুর, পিতা আলী হোসেন; হুমায়নু, পিতা জয়নাল; আব্বাস ও আবদুল হক (পিতার নাম অজ্ঞাত)। স্থানীয়দের দাবি, তারা সবাই লবণ মাঠে কাজ করা শ্রমিক বা জমির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

ছাবের আহমদের স্ত্রী খদিজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, লবণ জমি নিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে কোস্টগার্ডকে ব্যবহার করে তার স্বামী, ভাসুর ও শ্রমিকদের আটক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আটক অবস্থায় তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে কোস্টগার্ড সদস্যরা তার মোবাইল ফোন থেকে ওষুধ আনার জন্য পরিবারকে যোগাযোগ করতে বলেন। ছাবের আহমদ হৃদরোগে আক্রান্ত বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় কোস্টগার্ড সদস্যদের সঙ্গে মুখ বাঁধা কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন, যাদের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারাই বিরোধপূর্ণ পক্ষের লোক এবং তাদের দেখানো অনুযায়ী আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমে লবণ মাঠ থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে জমির মালিক ছালেহ আহমদ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১০ নম্বর গেট এলাকায় আটক হন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এখনো ঘটনাস্থলে পড়ে আছে বলে দাবি পরিবারের।

অন্যদিকে কোস্টগার্ডের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, আটককৃতদের ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।