ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ার আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিফাত টেকনাফে গ্রেপ্তার জেলা ফুটবল দলের গোলরক্ষক সাঈদীকে কু/পি/য়ে/ছে স্থানীয় চেয়ারম্যানের ভাইপো ২০২১ সালের আইন, ২০২৫ সালের জরিপ: আয়োডিনযুক্ত লবণের মান নিয়ে আমরা কি সঠিক প্রশ্ন করছি? সদর থানার বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ২৫ জন এডভোকেট হারুন অর রশিদের ২ দফা জানাজা সম্পন্ন : শোকার্ত মানুষের ঢল টেকনাফে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ফুটবলার সৈয়দ করিমের মৃত্যু শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ দুই শিশুর মৃত্যু লোহাগাড়ায় চেকপোস্টে তল্লাশী : মার্কিন পিস্তল-গুলি ও ইয়াবাসহ কক্সবাজারের দুই যুবক গ্রেফতার পেকুয়ায় আবু তাহের হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিফাত গ্রেপ্তার ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগিরই সিদ্ধান্ত: চিফ হুইপ লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টির আভাস মাদক মামলায় ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি কামাল হোসেন গ্রেফতার আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ, দেশে আরও বাড়ল লোডশেডিং পেকুয়ায় দোকানের আড়ালে মাদক বিক্রি, পুলিশের হাতে আটক ২ আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরীর স্মরণে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের প্রথম ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ শিশু রুহাব

মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডে নিরন্তরভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ হয়। এটি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও প্রশমন করা সম্ভব, যা “কার্বন নিরপেক্ষতা” বা Carbon Neutrality নামে পরিচিত। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় যতটা কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরন করেন, সমপরিমাণ কার্বন শোষণ করার ব্যবস্থা গড়ে তুললেই তিনি হন কার্বন নিরপেক্ষ।

এই লক্ষ্যেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি শিশুকে কার্বন নিরপেক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মাত্র আট মাস বয়সী রুহাবকে কার্বন নিরপেক্ষ করতে তার বাবা-মা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরার শিবপুরে তাদের গ্রামের বাড়িতে ৫৮০টি ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন।

রুহাবের বাবা-মা প্রথমে তার জন্ম থেকে ১ বছর বয়স পর্যন্ত দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে কতটা জ্বালানি ব্যবহৃত হবে ও তার ফলে কতটুকু কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরিত হবে তা হিসাব করেন। এরপর সেই অনুমিত পরিমাণ কার্বন শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় গাছের সংখ্যা নির্ধারণ করে রোপণ করেন তারা। সিদ্ধান্ত হয়েছে—যে কোনো গাছ মারা গেলে বা কাটা হলে, সঙ্গে সঙ্গে নতুন একটি গাছ লাগানো হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, একটি গাছ বছরে প্রায় ২২ কেজি কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করতে পারে। অর্থাৎ, রুহাবের জন্য রোপিত ৫৮০টি গাছ বছরে প্রায় ১২ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করবে। পাশাপাশি রুহাবের বাবা-মা পুনঃব্যবহারযোগ্য শিশুপণ্য ও পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারেও সচেতন ছিলেন।

বিশ্বে কার্বন নিরপেক্ষ শিশুর ধারণা নতুন নয়। ভারতের তামিলনাড়ুর আদাভি নামের এক শিশু বিশ্বের প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ শিশু হিসেবে পরিচিত, যার বাবা-মা লাগিয়েছিলেন ৬০০০টি ফলগাছ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, শিল্পায়ন ও জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণ ক্রমাগত বেড়েছে। এমতাবস্থায় রুহাবের বাবা-মায়ের এই ছোট পরিসরের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গঠনে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণেই সাহায্য করবে না, বরং মাটির ক্ষয় রোধ, বন্যপ্রাণীর আবাস সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যদিও সবাই হয়তো শত শত গাছ লাগাতে পারবেন না, তবু নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, শক্তি খরচ কমানো, এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে কেউ হতে পারেন কার্বন নিরপেক্ষ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ার আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিফাত টেকনাফে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশের প্রথম ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ শিশু রুহাব

আপডেট সময় : ০১:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডে নিরন্তরভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ হয়। এটি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও প্রশমন করা সম্ভব, যা “কার্বন নিরপেক্ষতা” বা Carbon Neutrality নামে পরিচিত। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় যতটা কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরন করেন, সমপরিমাণ কার্বন শোষণ করার ব্যবস্থা গড়ে তুললেই তিনি হন কার্বন নিরপেক্ষ।

এই লক্ষ্যেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি শিশুকে কার্বন নিরপেক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মাত্র আট মাস বয়সী রুহাবকে কার্বন নিরপেক্ষ করতে তার বাবা-মা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরার শিবপুরে তাদের গ্রামের বাড়িতে ৫৮০টি ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন।

রুহাবের বাবা-মা প্রথমে তার জন্ম থেকে ১ বছর বয়স পর্যন্ত দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে কতটা জ্বালানি ব্যবহৃত হবে ও তার ফলে কতটুকু কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরিত হবে তা হিসাব করেন। এরপর সেই অনুমিত পরিমাণ কার্বন শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় গাছের সংখ্যা নির্ধারণ করে রোপণ করেন তারা। সিদ্ধান্ত হয়েছে—যে কোনো গাছ মারা গেলে বা কাটা হলে, সঙ্গে সঙ্গে নতুন একটি গাছ লাগানো হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, একটি গাছ বছরে প্রায় ২২ কেজি কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করতে পারে। অর্থাৎ, রুহাবের জন্য রোপিত ৫৮০টি গাছ বছরে প্রায় ১২ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করবে। পাশাপাশি রুহাবের বাবা-মা পুনঃব্যবহারযোগ্য শিশুপণ্য ও পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারেও সচেতন ছিলেন।

বিশ্বে কার্বন নিরপেক্ষ শিশুর ধারণা নতুন নয়। ভারতের তামিলনাড়ুর আদাভি নামের এক শিশু বিশ্বের প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ শিশু হিসেবে পরিচিত, যার বাবা-মা লাগিয়েছিলেন ৬০০০টি ফলগাছ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, শিল্পায়ন ও জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণ ক্রমাগত বেড়েছে। এমতাবস্থায় রুহাবের বাবা-মায়ের এই ছোট পরিসরের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গঠনে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণেই সাহায্য করবে না, বরং মাটির ক্ষয় রোধ, বন্যপ্রাণীর আবাস সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যদিও সবাই হয়তো শত শত গাছ লাগাতে পারবেন না, তবু নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, শক্তি খরচ কমানো, এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে কেউ হতে পারেন কার্বন নিরপেক্ষ।