ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেশের স্বার্থ ও জনস্বার্থ বিবেচনা করেই কাজ করতে হবে-টেকনাফে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি কক্সবাজারে চালু হলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমনে তিন ট্রাইব্যুনাল পড়ে আছে মহেশখালীর ৮ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইন নিখোঁজের ৮ বছর পর বালুখালীর জসিমকে  পঞ্চগড় থেকে ফিরে পেল পরিবার বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ : সারাদেশে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা, কমবে তাপদাহ বিশ্ব গণ্ডার দিবস আজ বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আসছেন কক্সবাজার : যাবেন টেকনাফ,কুতুবদিয়া ও পেকুয়ায় ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ১ দিনের সফরে কক্সবাজার আসছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ঈদগড় ইউপি নির্বাচনে সৌদি প্রবাসী মঈন উদ্দিনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা কক্সবাজারে পুলিশের বিশেষ অভিযান : গ্রেপ্তার ১০ মহেশখালীতে স্কুলছাত্রকে ডিশের ক্যাবল দিয়ে পিটিয়ে জখম করলো শিক্ষক, থানায় অভিযোগ হঠাৎ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিস্থিতি দেখতে ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক, যা বললেন

বাংলাদেশের প্রথম ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ শিশু রুহাব

মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডে নিরন্তরভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ হয়। এটি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও প্রশমন করা সম্ভব, যা “কার্বন নিরপেক্ষতা” বা Carbon Neutrality নামে পরিচিত। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় যতটা কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরন করেন, সমপরিমাণ কার্বন শোষণ করার ব্যবস্থা গড়ে তুললেই তিনি হন কার্বন নিরপেক্ষ।

এই লক্ষ্যেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি শিশুকে কার্বন নিরপেক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মাত্র আট মাস বয়সী রুহাবকে কার্বন নিরপেক্ষ করতে তার বাবা-মা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরার শিবপুরে তাদের গ্রামের বাড়িতে ৫৮০টি ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন।

রুহাবের বাবা-মা প্রথমে তার জন্ম থেকে ১ বছর বয়স পর্যন্ত দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে কতটা জ্বালানি ব্যবহৃত হবে ও তার ফলে কতটুকু কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরিত হবে তা হিসাব করেন। এরপর সেই অনুমিত পরিমাণ কার্বন শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় গাছের সংখ্যা নির্ধারণ করে রোপণ করেন তারা। সিদ্ধান্ত হয়েছে—যে কোনো গাছ মারা গেলে বা কাটা হলে, সঙ্গে সঙ্গে নতুন একটি গাছ লাগানো হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, একটি গাছ বছরে প্রায় ২২ কেজি কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করতে পারে। অর্থাৎ, রুহাবের জন্য রোপিত ৫৮০টি গাছ বছরে প্রায় ১২ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করবে। পাশাপাশি রুহাবের বাবা-মা পুনঃব্যবহারযোগ্য শিশুপণ্য ও পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারেও সচেতন ছিলেন।

বিশ্বে কার্বন নিরপেক্ষ শিশুর ধারণা নতুন নয়। ভারতের তামিলনাড়ুর আদাভি নামের এক শিশু বিশ্বের প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ শিশু হিসেবে পরিচিত, যার বাবা-মা লাগিয়েছিলেন ৬০০০টি ফলগাছ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, শিল্পায়ন ও জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণ ক্রমাগত বেড়েছে। এমতাবস্থায় রুহাবের বাবা-মায়ের এই ছোট পরিসরের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গঠনে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণেই সাহায্য করবে না, বরং মাটির ক্ষয় রোধ, বন্যপ্রাণীর আবাস সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যদিও সবাই হয়তো শত শত গাছ লাগাতে পারবেন না, তবু নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, শক্তি খরচ কমানো, এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে কেউ হতে পারেন কার্বন নিরপেক্ষ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেকুয়ায় সড়ক অবরুদ্ধ করে লবণবোঝাই, ট্রাকচালককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

বাংলাদেশের প্রথম ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ শিশু রুহাব

আপডেট সময় : ০১:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডে নিরন্তরভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ হয়। এটি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও প্রশমন করা সম্ভব, যা “কার্বন নিরপেক্ষতা” বা Carbon Neutrality নামে পরিচিত। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় যতটা কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরন করেন, সমপরিমাণ কার্বন শোষণ করার ব্যবস্থা গড়ে তুললেই তিনি হন কার্বন নিরপেক্ষ।

এই লক্ষ্যেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি শিশুকে কার্বন নিরপেক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মাত্র আট মাস বয়সী রুহাবকে কার্বন নিরপেক্ষ করতে তার বাবা-মা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরার শিবপুরে তাদের গ্রামের বাড়িতে ৫৮০টি ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন।

রুহাবের বাবা-মা প্রথমে তার জন্ম থেকে ১ বছর বয়স পর্যন্ত দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে কতটা জ্বালানি ব্যবহৃত হবে ও তার ফলে কতটুকু কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরিত হবে তা হিসাব করেন। এরপর সেই অনুমিত পরিমাণ কার্বন শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় গাছের সংখ্যা নির্ধারণ করে রোপণ করেন তারা। সিদ্ধান্ত হয়েছে—যে কোনো গাছ মারা গেলে বা কাটা হলে, সঙ্গে সঙ্গে নতুন একটি গাছ লাগানো হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, একটি গাছ বছরে প্রায় ২২ কেজি কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করতে পারে। অর্থাৎ, রুহাবের জন্য রোপিত ৫৮০টি গাছ বছরে প্রায় ১২ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করবে। পাশাপাশি রুহাবের বাবা-মা পুনঃব্যবহারযোগ্য শিশুপণ্য ও পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারেও সচেতন ছিলেন।

বিশ্বে কার্বন নিরপেক্ষ শিশুর ধারণা নতুন নয়। ভারতের তামিলনাড়ুর আদাভি নামের এক শিশু বিশ্বের প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ শিশু হিসেবে পরিচিত, যার বাবা-মা লাগিয়েছিলেন ৬০০০টি ফলগাছ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, শিল্পায়ন ও জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণ ক্রমাগত বেড়েছে। এমতাবস্থায় রুহাবের বাবা-মায়ের এই ছোট পরিসরের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গঠনে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণেই সাহায্য করবে না, বরং মাটির ক্ষয় রোধ, বন্যপ্রাণীর আবাস সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যদিও সবাই হয়তো শত শত গাছ লাগাতে পারবেন না, তবু নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, শক্তি খরচ কমানো, এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে কেউ হতে পারেন কার্বন নিরপেক্ষ।