ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর! ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট মিয়ানমারে পাচারকালে ২৪০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ, আটক ৩৩ হঠাৎ রাজধানীজুড়ে পুলিশের কড়া সতর্কতা ট্রেনে ঈদ যাত্রার শেষ দিনের টিকিট বিক্রি আজ সৌদি আরবে আজ সন্ধ্যায় খোঁজা হবে ঈদের চাঁদ হা হা রিয়েক্টের কারণেই হামলা: এক মায়ের মৃত্যু সীমান্তের আরএসও’র গুলির পর বৈঠার আঘাতে রক্তাক্ত স্থানীয় যুবক কক্সবাজার ফিল্ম সোসাইটির যাত্রা: নিজস্ব প্রোডাকশনে স্থানীয় সিনেমা নির্মাণ ও সিনেমা হল ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ রহিম উল্লাহ খান রানা শহর ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনায় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে আনোয়ারী- “সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে” চকরিয়ায় হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার ৩০ পর্যটক অসুস্থের ঘটনায় আল্-গণিতে যৌথ অভিযান, ৫০ হাজার টাকা দন্ড বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য অনেক বেশি বরাদ্দ রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী হতদরিদ্রদের চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করবে সরকার

বাংলাদেশের প্রথম ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ শিশু রুহাব

মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডে নিরন্তরভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ হয়। এটি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও প্রশমন করা সম্ভব, যা “কার্বন নিরপেক্ষতা” বা Carbon Neutrality নামে পরিচিত। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় যতটা কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরন করেন, সমপরিমাণ কার্বন শোষণ করার ব্যবস্থা গড়ে তুললেই তিনি হন কার্বন নিরপেক্ষ।

এই লক্ষ্যেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি শিশুকে কার্বন নিরপেক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মাত্র আট মাস বয়সী রুহাবকে কার্বন নিরপেক্ষ করতে তার বাবা-মা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরার শিবপুরে তাদের গ্রামের বাড়িতে ৫৮০টি ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন।

রুহাবের বাবা-মা প্রথমে তার জন্ম থেকে ১ বছর বয়স পর্যন্ত দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে কতটা জ্বালানি ব্যবহৃত হবে ও তার ফলে কতটুকু কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরিত হবে তা হিসাব করেন। এরপর সেই অনুমিত পরিমাণ কার্বন শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় গাছের সংখ্যা নির্ধারণ করে রোপণ করেন তারা। সিদ্ধান্ত হয়েছে—যে কোনো গাছ মারা গেলে বা কাটা হলে, সঙ্গে সঙ্গে নতুন একটি গাছ লাগানো হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, একটি গাছ বছরে প্রায় ২২ কেজি কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করতে পারে। অর্থাৎ, রুহাবের জন্য রোপিত ৫৮০টি গাছ বছরে প্রায় ১২ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করবে। পাশাপাশি রুহাবের বাবা-মা পুনঃব্যবহারযোগ্য শিশুপণ্য ও পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারেও সচেতন ছিলেন।

বিশ্বে কার্বন নিরপেক্ষ শিশুর ধারণা নতুন নয়। ভারতের তামিলনাড়ুর আদাভি নামের এক শিশু বিশ্বের প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ শিশু হিসেবে পরিচিত, যার বাবা-মা লাগিয়েছিলেন ৬০০০টি ফলগাছ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, শিল্পায়ন ও জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণ ক্রমাগত বেড়েছে। এমতাবস্থায় রুহাবের বাবা-মায়ের এই ছোট পরিসরের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গঠনে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণেই সাহায্য করবে না, বরং মাটির ক্ষয় রোধ, বন্যপ্রাণীর আবাস সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যদিও সবাই হয়তো শত শত গাছ লাগাতে পারবেন না, তবু নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, শক্তি খরচ কমানো, এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে কেউ হতে পারেন কার্বন নিরপেক্ষ।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের প্রথম ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ শিশু রুহাব

আপডেট সময় : ০১:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডে নিরন্তরভাবে কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ হয়। এটি বন্ধ করা সম্ভব না হলেও প্রশমন করা সম্ভব, যা “কার্বন নিরপেক্ষতা” বা Carbon Neutrality নামে পরিচিত। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় যতটা কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরন করেন, সমপরিমাণ কার্বন শোষণ করার ব্যবস্থা গড়ে তুললেই তিনি হন কার্বন নিরপেক্ষ।

এই লক্ষ্যেই বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি শিশুকে কার্বন নিরপেক্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মাত্র আট মাস বয়সী রুহাবকে কার্বন নিরপেক্ষ করতে তার বাবা-মা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সাতক্ষীরার শিবপুরে তাদের গ্রামের বাড়িতে ৫৮০টি ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন।

রুহাবের বাবা-মা প্রথমে তার জন্ম থেকে ১ বছর বয়স পর্যন্ত দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে কতটা জ্বালানি ব্যবহৃত হবে ও তার ফলে কতটুকু কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরিত হবে তা হিসাব করেন। এরপর সেই অনুমিত পরিমাণ কার্বন শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় গাছের সংখ্যা নির্ধারণ করে রোপণ করেন তারা। সিদ্ধান্ত হয়েছে—যে কোনো গাছ মারা গেলে বা কাটা হলে, সঙ্গে সঙ্গে নতুন একটি গাছ লাগানো হবে।

পরিসংখ্যান বলছে, একটি গাছ বছরে প্রায় ২২ কেজি কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করতে পারে। অর্থাৎ, রুহাবের জন্য রোপিত ৫৮০টি গাছ বছরে প্রায় ১২ টন কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণ করবে। পাশাপাশি রুহাবের বাবা-মা পুনঃব্যবহারযোগ্য শিশুপণ্য ও পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারেও সচেতন ছিলেন।

বিশ্বে কার্বন নিরপেক্ষ শিশুর ধারণা নতুন নয়। ভারতের তামিলনাড়ুর আদাভি নামের এক শিশু বিশ্বের প্রথম কার্বন নিরপেক্ষ শিশু হিসেবে পরিচিত, যার বাবা-মা লাগিয়েছিলেন ৬০০০টি ফলগাছ।

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, শিল্পায়ন ও জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে কার্বন নিঃসরণ ক্রমাগত বেড়েছে। এমতাবস্থায় রুহাবের বাবা-মায়ের এই ছোট পরিসরের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গঠনে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু কার্বন ডাইঅক্সাইড শোষণেই সাহায্য করবে না, বরং মাটির ক্ষয় রোধ, বন্যপ্রাণীর আবাস সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যদিও সবাই হয়তো শত শত গাছ লাগাতে পারবেন না, তবু নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, শক্তি খরচ কমানো, এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যে কেউ হতে পারেন কার্বন নিরপেক্ষ।