ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়া-টেকনাফের উপর থেকে মাদকের অপবাদ ঘুচানোর দাবী এমপি শাহজাহান চৌধুরীর কক্সবাজার প্রেসক্লাবে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় উখিয়া প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের চুনতির সীরত মাহফিলের সমাপনী দিন: মোনাজাতের অপেক্ষায় লাখো মানুষ চোরাই এসির তারসহ ভাঙ্গারি দোকানদার গ্রেপ্তার জেলার ৭১ ইউনিয়নের মধ্যে ৬২ টিতে ইউপি নির্বাচন হবে : তফসিল সেপ্টেম্বরেই অস্বাস্থ্যকর আইসক্রিম তৈরীর দায়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা; ধ্বংস করা হল তৈরি পণ্য প্রতিদিন ১ ঘন্টা পরিচ্ছন্নতার কাজে সময় দেয়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর: কক্সবাজারে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন পালংখালীতে এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার, আলোচনায় রিজভী পেকুয়ায় চাচা-ভাতিজাকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত আটক কক্সবাজারে চিহ্নিত ৬ ছিনতাইকারী ও ১৭ মাদকসেবীসহ গ্রেফতার ৩০ জন খেলাঘর নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাথে কক্সবাজার জেলা খেলাঘরের মত বিনিময় ফেনীর ৪ তরুণ অপহরণের আসামি টেকনাফে গ্রেপ্তার মাদক কারবারিকে কোনো ছাড় নয়: আজিজনগরে ওসি কায়ছার হামিদের কঠোর বার্তা তরুণরা চাইলে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেপ্তার ৩২

বাঁকখালী নদীর তীরে উচ্ছেদ-নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করল হাইকোর্ট

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর ‘জায়গা উদ্ধারে’ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও উচ্ছেদকৃত মালামাল নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের (বিশেষ মূল এখতিয়ার) যৌথ ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ এ নির্দেশ দেন।

উচ্ছেদ কার্যক্রমের ‘ভুক্তভোগী’ দাবীদার কক্সবাজারের আইনজীবী এডভোকেট আবদুল খালেক এ বিষয়ে রিট আবেদন (নং-১৫২৬৬/২০২৫) করলে আদালত আদেশ দেন। আদালত নির্দেশনায় বলেছে, সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বাঁকখালী নদী উদ্ধারের নামে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালিত উচ্ছেদ, নিলামসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

গত ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাঁকখালী নদী পুনরুদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে কস্তুরাঘাট ও আশপাশ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় বহু ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয় এবং মালামাল জব্দ করে নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযান শুরুর পর থেকেই সেখানে বসবাসকারী স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পেশকারপাড়া ও নুনিয়ার ছড়া এলাকায় স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে বিআইডব্লিউটিএ। শেষ পর্যন্ত ৫ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে সংস্থাটির বন্দর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

হাইকোর্টে আশ্রয়

উচ্ছেদ অভিযানে ‘ক্ষতিগ্রস্তরা’ দাবি করেন, সঠিক সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই বিআইডব্লিউটিএ তাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত দখলদার ও নদীভরাটকারীদের বাদ দিয়ে বছরের পর বছর ধরে বসবাসকারী মানুষজনই উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে ‘ক্ষতিগ্রস্তদের’ পক্ষ থেকে এডভোকেট আবদুল খালেক হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত শুনানির পর রোববার উচ্ছেদ-নিলামসহ সব কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশনা দেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

আদালতের আদেশে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উচ্ছেদে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারগুলো। তারা বলছেন, সরকারের নদী উদ্ধার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানালেও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও দীর্ঘদিনের বসতি গুঁড়িয়ে দেওয়াটা মানবিক নয়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর কক্সবাজার বন্দর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

উখিয়া-টেকনাফের উপর থেকে মাদকের অপবাদ ঘুচানোর দাবী এমপি শাহজাহান চৌধুরীর

বাঁকখালী নদীর তীরে উচ্ছেদ-নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করল হাইকোর্ট

আপডেট সময় : ১০:২৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর ‘জায়গা উদ্ধারে’ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ ও উচ্ছেদকৃত মালামাল নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের (বিশেষ মূল এখতিয়ার) যৌথ ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ এ নির্দেশ দেন।

উচ্ছেদ কার্যক্রমের ‘ভুক্তভোগী’ দাবীদার কক্সবাজারের আইনজীবী এডভোকেট আবদুল খালেক এ বিষয়ে রিট আবেদন (নং-১৫২৬৬/২০২৫) করলে আদালত আদেশ দেন। আদালত নির্দেশনায় বলেছে, সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বাঁকখালী নদী উদ্ধারের নামে বিআইডব্লিউটিএর পরিচালিত উচ্ছেদ, নিলামসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

গত ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাঁকখালী নদী পুনরুদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে কস্তুরাঘাট ও আশপাশ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় বহু ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলা হয় এবং মালামাল জব্দ করে নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযান শুরুর পর থেকেই সেখানে বসবাসকারী স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পেশকারপাড়া ও নুনিয়ার ছড়া এলাকায় স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে বিআইডব্লিউটিএ। শেষ পর্যন্ত ৫ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে সংস্থাটির বন্দর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

হাইকোর্টে আশ্রয়

উচ্ছেদ অভিযানে ‘ক্ষতিগ্রস্তরা’ দাবি করেন, সঠিক সীমানা নির্ধারণ ছাড়াই বিআইডব্লিউটিএ তাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত দখলদার ও নদীভরাটকারীদের বাদ দিয়ে বছরের পর বছর ধরে বসবাসকারী মানুষজনই উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে ‘ক্ষতিগ্রস্তদের’ পক্ষ থেকে এডভোকেট আবদুল খালেক হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত শুনানির পর রোববার উচ্ছেদ-নিলামসহ সব কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশনা দেন।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

আদালতের আদেশে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন উচ্ছেদে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারগুলো। তারা বলছেন, সরকারের নদী উদ্ধার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানালেও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও দীর্ঘদিনের বসতি গুঁড়িয়ে দেওয়াটা মানবিক নয়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর কক্সবাজার বন্দর পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।